হামলা-মামলা বন্ধের হুঁশিয়ারি

ঐক্যফ্রন্টের শোভাযাত্রায় জনতার ঢল

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:১৪
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে শোভাযাত্রা করেছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। পূর্ব ঘোষিত শোভাযাত্রায় অংশ নিতে সকাল থেকেই নেতাকর্মী জড়ো হতে থাকেন নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে। বেলা সাড়ে দশটার পর মানুষের ঢল নামে সেখানে। বিএনপি, গণফোরাম, নাগরিক ঐক্যসহ জোটের অন্যান্য দলের নেতাকর্মীদের ভিড় জমে উঠে নয়াপল্টনে। সকাল ১০টা থেকে শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার কথা থাকলে তা শুরু হয় বেলা ১১টায়। নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে শোভাযাত্রাটি নাইটিঙ্গেল মোড়, কাকরাইল মোড় হয়ে শান্তিনগর মোড় ঘুরে আবার নয়াপল্টনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় শোভাযাত্রার সামনে-পেছনে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিল।

শোভাযাত্রায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ঐক্যফ্রন্টের নেতারা বক্তব্য রাখেন।
বক্তব্যে সারা দেশে দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-মামলা বন্ধের আহ্বান জানান নেতারা। শোভাযাত্রায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, আইনবিষয়ক সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ঢাকা-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাকসহ বিএনপি ও অঙ্গদলের কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেন। র‌্যালিতে সুব্রত চৌধুরী ও মাহমুদুর রহমান মান্নার হাতেও ছিল ধানের শীষের তোড়া। র‌্যালি থেকে ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই’, ‘আমার নেত্রী আমার মা, জেলে থাকতে দেব না’, ‘৩০শে ডিসেম্বরের মার্কা কী- ধানের শীষ’, ‘স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া লও লও লও সালাম’ ইত্যাদি স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন কর্মী-সমর্থকরা।

শোভাযাত্রা শুরুর আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজকের এই বিজয় দিবস হওয়া উচিত ছিল আনন্দের, উৎসবের। ৪৭তম এই বিজয় দিবসে আমাদের আনন্দিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আজকে অত্যন্ত ভারাক্রান্ত, আতঙ্কিত, উৎকণ্ঠিত- এই দেশে গণতন্ত্র টিকে থাকবে-কি থাকবে না। নির্বাচন কমিশন যে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে, সেই নির্বাচন কমিশন নির্বাচন নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করতে ব্যর্থ হচ্ছে। নির্বাচনে সব রকমের পক্ষপাতিত্ব শুরু করেছে সরকার। আমরা কখনো এ ধরনের নির্বাচন দেখিনি। নজিরবিহীনভাবে সরকার বিরোধী দলের নেতা-কর্মী এমনকি প্রার্থীদেরও গ্রেপ্তার করছে, মিথ্যা মামলা দিচ্ছে এবং সবভাবে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছে।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, এই নির্বাচন দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনে সিদ্ধান্ত হবে যে বাংলাদেশের মানুষ স্বৈরতন্ত্রে থাকবে, নাকি গণতন্ত্রে থাকবে। বাংলাদেশের মানুষ তাদের স্বাধীনতার ফল ভোগ করবে কি করতে পারবে না। বাংলাদেশের মানুষ নির্যাতিত হয়ে একটি স্বৈরতন্ত্রের মধ্যে একটি একদলীয় শাসন ব্যবস্থার মধ্যে যাবে, নাকি বহুমাত্রিক গণতন্ত্রের দিকে যাবে। এই বিষয়গুলো আজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এই নির্বাচনে সিদ্ধান্ত হবে, বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়াকে এই অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার থেকে তাকে মুক্ত করা সম্ভব হবে কি না। মির্জা আলমগীর বলেন, নজিরবিহীন পক্ষপাতিত্ব, নির্যাতন, হামলা, মামলা চলছে। মির্জা আব্বাসের ওপর হামলা হয়েছে।

কোনো প্রার্থীর ওপর এভাবে হামলা হয়? নির্বাচন কমিশন, সরকার তাকিয়ে থাকে, কিছুই করে না। মাহবুবউদ্দিন খোকনকে গুলি করা হয়েছে, তিনি এখন চিকিৎসাধীন। সুব্রত চৌধুরীর ওপর হামলা করা হয়েছে। সরকারের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা সরকারকে হুঁশিয়ার করে দিচ্ছি, গ্রেপ্তার বন্ধ করুন। না হলে এর দায়দায়িত্ব সবকিছু আপনাদের নিতে হবে। এই দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার দায় নিতে হবে।

তিনি বলেন, আজ শোভাযাত্রা ছিল দুটি, সেটা পরিবর্তন করে তারা সকাল ১০টার মধ্যে নিয়ে এসেছেন। শত বাধা-বিপত্তি, নির্যাতন উপেক্ষা করে শোভাযাত্রায় অংশ নেয়ার জন্য নেতা-কর্মীদের ধন্যবাদ দেন। পাশাপাশি সব ধরনের হামলা-মামলা, গ্রেপ্তার বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও ঐক্যফ্রন্ট নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমরা একটি লড়াইয়ের মধ্যে আছি। এ লড়াই হলো ভোটের লড়াই। ২০১৪ সালে ৫ই জানুয়ারি ভোটের নামে এই দেশে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। সেই থেকে এই দেশে যত নির্বাচন করা হয়েছে, সব নির্বাচন ছিনতাই করেছে। মানুষ কেউ ভোট দিতে যায়নি, প্রার্থীদের ওপর নির্যাতন করেছে, গ্রেপ্তার করেছে। তিনি আরো বলেন, নতুন নির্বাচনেও তারা মনে করেছে আগের নির্বাচনের মতো ওয়াকওভার দেয়া হবে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবার ওয়াকওভার দেবো না।

আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, প্রার্থী দিয়েছি এটা দেখে সরকারের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। মির্জা আলমগীরের গাড়িবহরে হামলা করা হয়েছে, সারা দেশে নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের বক্তব্যের পর বিজয় শোভাযাত্রা শুরু হয়। বিজয় শোভাযাত্রায় ঢাকা মহানগর বিএনপির বিভিন্ন ইউনিট, মহিলা দল, ছাত্রদল, যুবদল, শ্রমিক দলের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।




এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

S,m,moshiur rahman

২০১৮-১২-১৬ ১২:৩২:৪১

শত বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে হলেও আপনাদের সাহস করে ভোটের মাঠে থাকতেই হবে।কারন জনসমর্থন আপনাদের পক্ষে।

আপনার মতামত দিন

পদ হারালেন জিএম কাদের

গণপরিবহনে বিশৃঙ্খলার নেপথ্যে

অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন মেনন, লাইসেন্স ছিল না চালকের

পতাকা উত্তোলন দিবস আজ

ওয়াশিংটনে মোমেন-পম্পেও বৈঠক ১০ই এপ্রিল

ইন্টারনেটে ব্ল্যাকমেইল

বরিশালে দুর্ঘটনায় মা-ছেলেসহ নিহত ৭

ডাকসুর নেতৃত্ব দেবেন নুর, থাকবেন আন্দোলনেও

ঐক্যফ্রন্টের কর্মী সমাবেশ এপ্রিলে

দুই মিনিট স্তব্ধ নিউজিল্যান্ড, সংহতি অস্ট্রেলিয়ারও

বিমানবন্দরে অস্ত্রসহ আওয়ামী লীগ নেতা আটক

বিয়ের পিঁড়িতে ‘কাটার মাস্টার’ মোস্তাফিজ

যক্ষ্মা: ২৬ শতাংশ রোগী শনাক্তের বাইরে

ওবায়দুল কাদের শঙ্কামুক্ত

কক্সবাজারে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক ব্যবসায়ীসহ নিহত ৩

দর্শকশূন্যতার বড় কারণ হলের বাজে পরিবেশ