কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না ইসি: বিএনপি

অভিযোগ দিয়ে ফেরার পথে বিএনপি নেতা আটক

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:০২
পুলিশি হয়রানি বন্ধে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। গতকাল বুধবার বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমানের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করে। সংসদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের পর নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার-হয়রানি এবং হামলার বিষয়ে সিইসির কাছে অভিযোগ নিয়ে আসে বিএনপির ওই প্রতিনিধিদল। লিখিত অভিযোগে প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে গতকাল পর্যন্ত পুলিশি হয়রানি ও ক্ষমতাসীন দলের হামলার শিকার নেতাকর্মীদের তালিকা যুক্ত করেছে দলটি।

সিইসির সঙ্গে সাক্ষাতের পর সেলিমা রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ১০ তারিখ থেকে প্রচারণা শুরু হয়েছে। প্রচারণার পর পরই আমাদের মহাসচিবের গাড়িবহরে আক্রমণ করা হয়েছে। ব্যারিস্টার মওদুদের প্রচারণায় বার বার হামলা করা হচ্ছে। মঈন খানের এলাকায় হামলা চালানো হচ্ছে।
পুলিশের সহায়তায় আওয়ামী ও যুবলীগ মিলে এই হামলা করছে। যারা জামিনে আছেন তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। আটক নেতাকর্মীদের জামিন দেয়া হচ্ছে না। বুধবার সকালে ভাটারা থানার একজন কর্মীকে পুলিশ ধাওয়া করে ছাদের উপর থেকে ফেলে  দেয়। এতে তার মৃত্যু হয়েছে। নাটোরে জামিনে থাকা সত্ত্বেও বিএনপি নেতা দুলুকে আটক করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, তারা চাইছে আমরা যেন নির্বাচনে প্রচারণা চালাতে না পারি, নির্বাচন যেন না করতে পারি। তারা একতরফাভাবে নির্বাচন করতে পারে।  সে কারণে এখন ভয়ভীতি, হামলা মামলাসহ বিভিন্নভাবে আমাদের হয়রানি করছে। এবং প্রার্থীদের ওপর বিভিন্ন জায়গায় আক্রমণ করা হচ্ছে। এই ঘটনাগুলো জানাতে আমরা এসেছি। কারণ তিনি বলেছিলেন আমরা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দেবো। সবাই সমান সুযোগ পাবে।

তিনি বলেন, আমাদের নেতাকর্মীরা এখন পলাতক। আমরা বলতে পারছি না আমরা নির্বাচনের জন্য এজেন্ট খুঁজে পাবো কিনা। কারণ পুলিশের ভয়ে অনেকে পলাতক রয়েছেন। এই বিষয়গুলো আমরা কমিশনকে জানালাম। তফসিলের পর গ্রেপ্তার হবে না বললেও এখন প্রতিনিয়ত গ্রেপ্তার হচ্ছে; অজ্ঞাতনামা দিয়ে অনেক  নেতাকর্মীকে আটক করা হচ্ছে। এই অজ্ঞাতনামা জানতে চাইলে পুলিশ বলছে তাদের নামে আগে থেকে মামলা ছিল।

সিইসি আমাদের বলেন, আমি চেষ্টা করছি। কিন্তু পুলিশ বলছে আগে থেকে যাদের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে, তাদের আমরা ধরছি। পুলিশ বলছে, তাদের নামে সুনির্দিষ্ট কেইস আছে। সিইসি বলছেন সেই সুনির্দিষ্ট কেইস কি  সেটা আমি কী করে জানবো। আমি  চেষ্টা করছি, আমি চেষ্টা করবো। এ প্রসঙ্গে সেলিমা রহমান বলেন, আমরা মনে করি তিনি (সিইসি) অসহায়। তিনি বিব্রত বোধ করছেন- এটা সত্যি। কারণ তিনি কিছুই করতে পারছেন না। তবুও আমরা আশা রাখি সিইসি যেহেতু এবার একটি সুযোগ  পেয়েছেন, তিনি যদি সঠিকভাবে পদক্ষেপ নেন তাহলে কিন্তু আমরা এই নির্বাচনকে গ্রহণযোগ নির্বাচন হিসেবে প্রমাণ করতে পারবো। এর আগে সকালে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদের ব্রিফে সিইসি মঙ্গলবারের দুটি ঘটনাকে উল্লেখ করে বলেছিলেন-আমরা বিব্রত, মর্মাহত হয়েছি। বিএনপির প্রতিনিধিদলে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বিজন কান্তি সরকার, আব্দুল কাইয়ুম, ড্যাবের ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, ঢাকা-১৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী আব্দুস সালাম নির্বাচন কমিশনে (ইসি) ধরপাকড়ের অভিযোগ দিয়ে বের হয়ে যাওয়ার পরই তার সঙ্গে থাকা কর্মীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে  গেছে বলে ইসিতে ফের অভিযোগ দিয়েছেন।

আব্দুস সালাম মোহাম্মদপুর থানা বিএনপির সভাপতি ওসমান গণি শাজাহানকে সঙ্গে নিয়ে বুধবার ইসি সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ধরপাকড়ের অভিযোগ দিতে বের হন। আধাঘণ্টা পরে আবার ফেরত এলে সাংবাদিকরা কারণ জানতে চান। তখন তিনি বলেন, ইসি থেকে বেরিয়ে পথে শাহজাহানকে নামিয়ে দেই। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে যখন যাই, তখন ফোন আসে সাদাপোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন শাহজাহানকে ধরে নিয়ে  গেছে। এ সময় তিনি বারবার বলতে থাকেন-এভাবে ক্যামনে নির্বাচন করবো।

কাজী ফিরোজ রশিদের বিরুদ্ধে ববির নালিশ
জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্য ও একাদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রার্থী কাজী ফিরোজ রশিদের বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নালিশ জানিয়েছে ঢাকা-৬ আসনের মুসলিম লীগের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। গতকাল বুধবার কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি এ অভিযোগ করেন। সাংবাদিকদের ববি হাজ্জাজ বলেন, আমাদের ৫৫ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকেই প্রতিনিয়ত অভিযোগ পাচ্ছি। গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে আমার প্রতিপক্ষ ঢাকা-৬ আসনে কাজী ফিরোজ রশিদ ওনার গুণ্ডা বাহিনী দিয়ে আমার গেণ্ডারিয়ার দপ্তর ভাঙচুর করেন। আমার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন এবং সঙ্গে নির্যাতন করছেন। আমার অফিস দখল করে রেখেছেন। এখানে আসার আগ পর্যন্ত তারা আমার নির্বাচনী অফিসে অবস্থান করছিলেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে না পেরে সচিব মহোদয়ের কাছে আমাদের চিঠি দিয়ে এসেছি। সচিব সাহেব কোনো প্রতিকার দিতে পারেন নি। নির্বাচন  যেনো একটা দুধভাত খেলা। আমাদের কর্মীরা যেনো দুধভাত। আমাদের কার্যালয় ভেঙে যাবে, কর্মীদেরকে মারধর করা হবে। আর উনারা বলবেন  দেখবেন দেখবেন, যোগ করেন তরুণ এই রাজনীতিক।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ড. কামাল মাঠ ফাঁকা করে দিলেন, আমরা গোল দিলাম

সংসদ থেকে বের হয়ে যাওয়ার হুমকি বাদলের

ফিঞ্চ - ওয়ার্নারের রেকর্ড

দ্রুত বিচার আইনের মেয়াদ ৫ বছর বাড়াতে সংসদে বিল

এফআর টাওয়ার নির্মাণে দুর্নীতি ২৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

রাসেলকে মাসে দিতে হবে ৫ লাখ, জানাতে হবে আদালতকে

‘স্কুলের ভিতরে নেশায় বাধা দেয়ায় শিক্ষককে মারপিট’

ফেনীতে ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন, চারজনের ১৪ বছর কারাদণ্ড

ইংলিশবধ করে সেমিতে অস্ট্রেলিয়া

প্রথমবারের মতো সফল লিভার প্রতিস্থাপন বিএসএমএমইউতে

৩১ ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে, হাইকোর্টকে পুলিশ

বেরোবির প্রশাসনিক ভবনে তালা

নির্যাতক মাদ্রাসা শিক্ষককে বাঁচাতে মরিয়া প্রভাবশালী মহল

লোকসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন নুসরাত ও মিমি

নড়বড়ে ও পুরনো সেতু দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

লক্ষ্মীপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রমিক নিহত