ঢাকা-১৬

সরব আওয়ামী লীগ, এখনো প্রচারণা শুরু করেনি বিএনপি

এক্সক্লুসিভ

রুদ্র মিজান | ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৩৯
ঢাকা-১৬ আসন। ইতিমধ্যে প্রচারণায় সরব এলাকা। মোড়ে মোড়ে নৌকা সমর্থকদের ভিড়। গণসংযোগ। বিভিন্ন স্থানে টানানো হয়েছে পোস্টার। কখনও কখনও গণসংযোগ ও মিছিল করতে দেখা গেছে প্রার্থীর সমর্থকদের। এই আসনে বিভিন্ন দলের ছয় প্রার্থী লড়ছেন ভোটযুদ্ধে। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ হাসানকে এখনো নির্বাচনী কার্যক্রমে দেখা মিলেনি।
এমনকি বিএনপির নেতৃবৃন্দকেও এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। বিএনপি নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, প্রতিনিয়ত পুলিশ দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। কথায় কথায় মামলা দেয়া হচ্ছে। গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এরমধ্যে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা রয়েছে। যে কারণে এলাকায় থাকতে পারছেন না তারা।

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ শুরু থেকেই নির্বাচনী মাঠে সরব রয়েছেন। প্রচারণা শুরুর পর থেকেই বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ছুটে যাচ্ছেন। গতকাল দুপুরে মিরপুরের পল্লবী, রূপনগরে গণসংযোগে করেছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী ইলিয়াস উদ্দীন মোল্লাহ। এ সময় তার সঙ্গে   ছিলেন আওয়ামী লীগের রূপনগর থানার সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন রবিন, পল্লবী থানার সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার আলমসহ ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দ। এ সময় তারা নৌকার পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পথে পথে লোকজনের সঙ্গে করমর্দন করে দোয়া চেয়েছেন ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ। বিকালে মিরপুর-১২ নম্বর সেকশনে ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহর বাসায় গিয়ে দেখা গেছে, গলি থেকে বাসা পর্যন্ত কর্মী-সমর্থকদের ভিড়। স্থানীয় মসজিদে ইলিয়াস মোল্লাহর সফলতা কামনা করে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে উঠান বৈঠক করেছেন তিন নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাজী জহিরুল ইসলাম মানিক।

মিরপুর বেনারশী পল্লীতে বিকালে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা ছিদ্দিকুর রহমানের পক্ষে হাতপাখা নিয়ে মিছিল করেছে কর্মী-সমর্থকরা।
ওই আসনের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নৌকার পোস্টার টানানো হয়েছে। নৌকার পক্ষে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে মিছিল করতে দেখা গেছে। কিন্তু বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে কোনো তৎপরতা নেই। মিরপুর-১১ এর বাসিন্দা মকসুদ আহমেদ বলেন, গত ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের পর থেকে তারা এলাকা ছাড়া। মাঝে-মধ্যে দু’একজনকে দেখা যায়। অল্প সময় অবস্থান করেই তারা এলাকা ছেড়ে চলে যায়।

মিরপুর-৬ এর সি ব্লকে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ হাসানের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী আবুল হোসেন জানান, নিরাপত্তার কারণেই এই বাড়িতে থাকেন না আহসান উল্লাহ হাসানের পরিবার। তবে মাঝেমধ্যে তারা আসেন, আবার চলে যান।

বিএনপির কর্মীরা জানান, মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ হাসান থাকেন উত্তরায়। তার নামে রয়েছে ২৫টি মামলা। বিএনপির এই প্রার্থীর ফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যায়। একইভাবে এলাকা ছাড়া রয়েছেন বিএনপির পল্লবী থানার সভাপতি ও সিটি কাউন্সিলর সাজ্জাদ হোসেনসহ অনেকে।

এ বিষয়ে বিএনপির পল্লবী থানার সাধারণ সম্পাদক বুলবুল মল্লিক বলেন, এলাকায় কেউ যেতে পারে না। মামলা না থাকলেও পুলিশ হয়রানি করে। দিনে দুই-তিন বার নেতাকর্মীদের বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিচ্ছে পুলিশ। আটক করে পুরাতন মামলায় অজ্ঞাত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখাচ্ছে।

তিনি আরো জানান, গত চারদিন আগে বিএনপির পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি সোহরাব হোসেন মোল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একটি পুরাতন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। একইভাবে বিএনপির মহানগর উত্তরের সহ-সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ। মিরপুরের ১২ নম্বর সেকশনের মোয়াজ্জেম হোসেনের অফিস থেকে তাকে আটক করা হয়। বুলবুল মল্লিক বলেন, পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের কারণে আমরা এলাকায় যেতে পারছি না। তবে স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। দুই-এক দিনের মধ্যেই ধানের শীষের জোরালো প্রচারণা শুরু হবে।

এ বিষয়ে পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদ আহমেদ বলেন, কাউকে হয়রানি করা হচ্ছে না। যাদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট আছে তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

এই আসনে আওয়ামী লীগের ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ, বিএনপির মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ হাসান ছাড়া অন্য প্রার্থীরা হচ্ছেন- গোলাপ ফুল মার্কায় জাকের পার্টির আলী আহমদ, কুদাল মার্কায় বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নাঈমা খালেদ মনিকা, হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা ছিদ্দিকুর রহমান ও আম মার্কায় ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ফরিদ উদ্দিন শেখ।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন