নির্বাচনী সহিংসতা

নোয়াখালী ও ফরিদপুরে নিহত ২

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার, নোয়াখালী থেকে | ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ৪:৫৮
নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সংঘর্ষে গুলিতে নিহত হয়েছে এক যুবলীগ নেতা। অন্যদিকে ফরিদপুরে নির্বাচন নিয়ে তর্কবিতর্কের জের ধরে হামলায় নিহত হয়েছে এক আওয়ামী লীগ নেতা। গতকাল এ ঘটনা ঘটে।

স্টাফ রিপোর্টার, নোয়াখালী থেকে জানান, নোয়াখালী সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নে মো. হানিফ (২৫) নামের এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। হামলায় মো. লিটন (২৬) নামের অপর এক যুবলীগ নেতা আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকালে ওই ইউনিয়নের দক্ষিণ শুল্লুকিয়া গ্রামের কাজী পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মো. হানিফ দক্ষিণ শুল্লুকিয়া গ্রামের মো. মফিজ উল্যার ছেলে এবং এওজবালিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ধানের শীষের পক্ষে উঠান বৈঠক চলাকালে নৌকার সমর্থকরা মিছিল নিয়ে এলে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে হানিফের মৃত্যু হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন নিহতের শরীরে ধারালো অস্ত্রের কোপ ও পায়ে গুলির চিহ্ন রয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও এই আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী একরামুল করিম চৌধুরী দাবি করেছেন, যুবদলের কর্মীরা হানিফকে হত্যা করেছে। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, মঙ্গলবার বিকালে হানিফসহ স্থানীয় যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দক্ষিণ শুল্লুকিয়া গ্রামের কাজী পাড়ায় নৌকার পক্ষে গণসংযোগ করছিলেন। এসময় উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুর রহিম রিজভীর বাড়িতে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. শাহজাহানের নেতৃত্বে উঠান বৈঠক চলছিল। উঠান বৈঠক থেকে যুবদল, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে যুবলীগ নেতা হানিফকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে।

তাদের হামলায় যুবলীগ নেতা মো. লিটন আহত হয়। একরামুল করিম চৌধুরী বলেন, সকালে কবিরহাট উপজেলায় মওদুদ আহম্মদের পথসভার নেতাকর্মীরা যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উপর হামলা করে। এরপর দুপুরে সদর উপজেলার খলিফারহাট বাজারে দাদপুর ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা জহির মেম্বারকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে বিএনপি-যুবদলের সন্ত্রাসীরা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এতেই বুঝা যায় বিএনপি নির্বাচন বানচালের জন্য পরিকল্পনা করে এইসব হামলা ও হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটাচ্ছে। এদিকে যুবলীগ নেতা হানিফকে হত্যার পর শুল্লুকিয়া গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ করেছে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভ থেকে তারা হানিফ হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার দাবি করেন।

এদিকে ঘটনার বিষয়ে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, এ এলাকায় ধানের শীষের পক্ষে উঠান বৈঠক চলাকালে যুবলীগের কর্মীরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা করে। এ সময় বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ওই হামলার হানিফের মৃত্যু হয়েছে। তার মৃত্যুর দায় আওয়ামী লীগকে নিতে হবে। তিনি বলেন, অনেক দিন থেকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে। বিষয়টি প্রশাসনকেও জানানো হয়েছে। প্রশাসন ব্যবস্থা নিলে এ ঘটনা ঘটতো না। হানিফের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে তিনি বলেন, কোনো মৃত্যুই কাম্য নয়। আমি এই ঘটনায় শোকাহত। নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।

পুলিশ সুপার মো. ইলিয়াস শরীফ জানিয়েছেন, স্থানীয়রা জানিয়েছেন যুবদলের হামলায় যুবলীগ নেতা হানিফ মারা গেছেন। ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবে।

ফরিদপুরে হামলায় আওয়ামী লীগ নেতা নিহত
ফরিদপুর প্রতিনিধি জানান, নির্বাচন নিয়ে তর্ক বিতর্কের জের ধরে ফরিদপুরে প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাতে এক আওয়ামী লীগ নেতা নিহত হয়েছে। নিহতের নাম ইউসুফ আল মামুন। তিনি নর্থ চ্যানেল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছিলেন। স্থানীয়রা জানান, মামুন ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের কর্মী ছিলেন। এ ঘটনায় আরো একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের গোয়ালডাঙ্গি গ্রামে একটি চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী আফসার উদ্দিন বলেন, রাত সাড়ে ৮টার সময় একটি চায়ের দোকানে আওয়ামী লীগ নেতা মামুনের সঙ্গে বিএনপি সমর্থক মজিদ ও আজিজের নির্বাচন প্রসঙ্গ নিয়ে কথা কটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে দোকানের ঝাপের লাঠি দিয়ে আঘাত করলে মামুন মাটিতে পড়ে যায়। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে ইউসুফের মৃত্যু হয়। ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মৃধা অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা বিএনপি সমর্থক। নর্থ চ্যানেল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জমিরউদ্দিন হাজি বলেন, নিহত মামুন ও আজিজ সমবয়সি। তারা একই সঙ্গে চলাফেরা করে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নির্বাচন নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ থেকে দুর্ঘটনা ঘটেছে। এটি কোনো পরিকল্পিত ঘটনা নয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি এএফএম নাছিম বলেন, এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্তের পর ঘটনার কারণ বলা যাবে।

বাবলার মিছিলে ককটেল হামলা
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মহাজোটের ঢাকা-৪ আসনের প্রার্থী সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার প্রচারণা মিছিলে ককটেল হামলা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত পৌনে ৯টার দিকে রাজধানীর শ্যামপুরে এ ঘটনা ঘটে। মিছিলে অংশ নেয়া স্থানীয় জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বলেন, শ্যামপুর থানার মহাজোটের প্রধান কার্যালয় থেকে প্রচারণা মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ঢাকা মেসের দিকে যাওয়ার সময় রাত পৌনে ৯টার দিকে মিছিলকে উদ্দেশ্য করে তিনটি ককটেল ছোড়া হয়। তবে মিছিলে কে বা কারা ককটেল হামলা চালিয়েছে তা নিশ্চিত করে কেউ কিছু বলতে পারেনি।




এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

অতিরিক্ত ডিআইজি হলেন ২০ পুলিশ কর্মকর্তা

শাহজালালে ১০ হাজার ইয়াবাসহ যুবক আটক

হাইকোর্টের আরেক বেঞ্চে মিন্নির জামিন আবেদন

কেড়ে নেয়া হতে পারে জাকির নায়েকের মালয়েশিয়ায় বসবাসের অনুমতি: মাহাথির

আধা বেলায় ছাত্রদলের মনোনয়ন ফরম শেষ

আফগানিস্তানে কোনো নির্বাচন মানবে না তালেবান

ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে ৩ ফিলিস্তিনি নিহত

আবারো সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ন তেলক্ষেত্রে হুতির ড্রোন হামলা

কুমিল্লায় বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ৭

শহিদুল আলমের মামলা স্থগিতই থাকবে

ঢামেকে স্টাফদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ২৫

এবারের ঈদযাত্রায় ২০৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২২৪

দুই দিনে মনোনয়ন কিনলেন ১০৮ জন

দেশের মাটিতে মঈনুল ও তানিয়ার লাশ

রাজধানীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বৃদ্ধাসহ নিহত ২

পাকিস্তানে তালেবান প্রধানের ভাইকে হত্যা শান্তি আলোচনার পথে সমস্যা নয়