চট্টগ্রাম-৯

নির্বাচনী মাঠে নওফেল কারাগারে ডা. শাহাদাত

এক্সক্লুসিভ

ইব্রাহিম খলিল, চট্টগ্রাম থেকে | ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৪৫
নৌকা প্রতীক পেয়েই  ভোটারদের মাঝে ছুটে গেছেন চট্টগ্রাম-৯ কোতোয়ালি-বাকলিয়া আসনের মহাজোটের প্রার্থী, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। কিন্তু ধানের শীষ প্রতীক পেলেও মাঠে নেই বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন।

একটি-দুটি নয় ৪৫টি মামলার আসামি হয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন তিনি। তারপক্ষ থেকেও এ আসনে কোনো রকম প্রচারণায় নামেনি কেউ। গত ৭ই নভেম্বর তফসিল ঘোষণার আগের দিন নাশকতার একটি মামলায় ঢাকা আদালত প্রাঙ্গণ থেকে গ্রেপ্তার হন ডা. শাহাদাত হোসেন।  
এরপর ২৬শে নভেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয় তাকে। নাশকতার আরেকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

ডা. শাহাদাতের আইনজীবী ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সমপাদক নাজিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, গত ২১শে অক্টোবর বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোকে কেন্দ্র করে আদালতে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় ডা. শাহাদাতকে আসামি করে সর্বপ্রথম একটি মামলা দায়ের করে পুলিশ।

এরপর নগরীর বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে আরো ১০টি মামলা দায়ের করে পুলিশ।
মূলত নির্বাচনী প্রচারে যাতে অংশগ্রহণ করতে না পারে সেজন্য তার বিরুদ্ধে এসব মামলা দায়ের করা হয়। দায়ের করা সবক’টি মামলাই গায়েবি। এসব মামলা থেকে জামিন না পাওয়া অস্বাভাবিক। সরকারের চাপে পড়েই বিচার বিভাগ তাকে জামিন দিচ্ছে না।
বিএনপিপন্থি আইনজীবী ও নগর বিএনপির সহ-সভাপতি আবদুস সাত্তার বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে যাতে ডা. শাহাদাত নির্বাচন করতে পারেন সেজন্য তার জামিন প্রয়োজন। কিন্তু নিম্ন আদালতে জামিন না মেলায় দীর্ঘ হচ্ছে তার কারাজীবন। এ অবস্থায় আইনগত দিকগুলো বিচার বিবেচনা করে তার জামিন পাওয়ার জন্য চেষ্টা থাকবে। তবে জামিন না মিললে কারাগার থেকেই নির্বাচন করবেন তিনি।

এদিকে নৌকা প্রতীক নিয়ে মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে নগরীর জেল রোডে আমানত শাহ’র মাজারে যান মহাজোটের প্রার্থী ও সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। মাজার জেয়ারত শেষে আশপাশের এলাকায় গণসংযোগে নেমে পড়েন তিনি।

লিফলেট নিয়ে নওফেল যান বিভিন্ন দোকানে। কুশল বিনিময় করেন। ভোট দেয়ার অনুরোধও করেন। রিকশাওয়ালা, সাধারণ নারী-পুরুষ যারাই ছুটে এসেছেন তাদের কাছে গিয়ে দোয়া নিয়েছেন।
একজন রিকশাওয়ালা নওফেলকে বুকে টেনে নিয়ে বলেন, অনে আঁরার মহিউদ্দিনর পোয়া। অনর বাপে আঁরারলাই বহুত কিছু গইরয্যি। অনরে আঁরা দোয়া গরির (আপনি আমাদের মহিউদ্দিনের ছেলে। আপনার বাবা আমাদের জন্য অনেক কিছু করেছেন। আমরা আপনার জন্য দোয়া করছি)।

স্থানীয় বস্তির কয়েকজন নারীও এসেছিলেন ভিড়ের মধ্যে। আওয়ামী লীগের এক নেতা তাদের বললেন, ইবা আঁরার মহিউদ্দিন চৌধুরীর পোয়া (ইনি আমাদের মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে)। শুনে এক বৃদ্ধা এসে নওফেলের মাথায় হাত রাখেন পরম মমতায়। প্রয়াত মহিউদ্দিনের স্মৃতি হাতড়ে আবেগপ্রবণও হয়ে পড়েন কেউ কেউ। একবছর আগে বাবা হারানো নওফেলও তখন কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Citizen

২০১৮-১২-১২ ১৪:৪৮:২৭

Level Playing Field!!!! We have a peculiar Election Field.

আপনার মতামত দিন