ভিকারুননিসার অভিভাবকদের যত অভিযোগ

দেশ বিদেশ

মরিয়ম চম্পা | ৬ ডিসেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:০৮
ভিকারুননিসায় নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীর মা ক্ষোভের সঙ্গে বলছিলেন কোনো মা বাবা যেন আর ভিকারুননিসায় তাদের সন্তানদের ভর্তি না করে। আমার মেয়ে গত ৪ বছর ধরে এখানে পড়ালেখা করছে অথচ তার শিক্ষক কে বা কোন শিক্ষকের কাছে পড়ছে সেটাই আমি জানি না। স্কুলের প্রসপেকটাসের ছবি দেখিয়ে মেয়ে আমাকে তাদের শিক্ষকদের সম্পর্কে বর্ণনা দেয়। একবার কোনো একটি জরুরি কাজে মেয়ের শিক্ষিকার সঙ্গে দেখা করতে এসে উল্টো অপমানিত হতে হয়েছে। ভেতরে ঢুকতেই শিক্ষিকা ধমক দিয়ে বললো ভেতরে ঢুকলেন কেন, এক্ষুনি বেরিয়ে যান। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ডেকে অপমান অপদস্ত করার বিষয়টি আজকে নতুন নয়। এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। অরিত্রির ঘটনাটির পর সব প্রকাশ হচ্ছে।
এর আগেও শিক্ষকদের অপমান সইতে না পেরে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া আরেক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, অরিত্রী ছিল আমার মেয়ের বন্ধু। মেয়িটি তার শিক্ষকের পায়ে ধরে ক্ষমা চেয়েছে। তার বাবাও ক্ষমা চেয়েছে। কিন্তু শিক্ষকদের তাতেও মন গলেনি। ক্লাস নাইনে পড়ুয়া মেয়েটার বয়সের কথা ভাবুন। এই বয়সে মেয়েদের আবেগ, রাগ, ক্ষোভ বেশি থাকে। অরিত্রীর সামনে তার বাবা মাকে অপমান করা হয়েছে। একজন শিক্ষক হিসেবে তাদের এটা করা কি ঠিক হয়েছে। একজন মানুষ ক্ষমা চাওয়ার পরেতো আর কিছু থাকে না। অরিত্রীর মা একজন ক্যানসারের রোগী। মেয়ে মারা যাওয়ার পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এই ঘটনা স্কুলের অধ্যক্ষ, স্কুল কমিটি কিংবা স্কুলের অন্যান্য শিক্ষকদের মেয়েরা ঘটালে তারা কি একই ধরনের ব্যবস্থা নিতেন। লাখ লাখ টাকা নিয়ে ছেলেমেয়ে ভর্তি করায়। এই মেয়েটাকে টিসি দিয়ে ৬ লাখ টাকায় আরেকটি বাচ্চাকে ভর্তি করানো হতো। এখানে অবৈধভাবে ভর্তি করতে ফাঁক ফোকর রাখা হয়। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে টিসি দিয়ে ভর্তি বাণিজ্য করা হয়। স্কুলে ৭৫ ভাগ লিগাল ভর্তি থাকলেও বাকি ২৫ ভাগ দুর্নীতি করে ভর্তি করানো হয়। নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলেন, এর আগেও শিক্ষকদের এমন আচরণে অনেক শিক্ষার্থীর নার্ভাস ব্রেকডাউন হয়েছে। একইভাবে টানা তিনদিন নার্ভাস ব্রেকডাউন হয়ে অতঃপর আত্মহত্যা করে অরিত্রী। কারণ নবম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীকে টিসি দেয়া হলে তাকে নতুন করে দশম শ্রেণিতে কোথাও ভর্তি নেবে না। তাছাড়া গত ১ বছর ধরে অরিত্রীর মা ক্যানসারে আক্রান্ত। এসব দিক চিন্তা করেই হয়তো অরিত্রী আত্মহত্যা করেছে। আমাদের প্রিন্সিপালসহ অধিকাংশ শিক্ষকের কথাবার্তা ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আচরণ খুবই খারাপ। তারা আমাদেরকে বস্তির ছেলে মেয়ে বলে গালি দিতে দ্বিধা করেন না।
অন্য একজন অভিভাবক জানান, আমরাতো সবাই ভিকারুননিসায় বাচ্চাদের ভর্তি করার জন্য পাগল হয়ে যাই। অথচ এখানে বাচ্চাদেরকে এত বেশি মানসিক অত্যাচার করা হয় যেটা আমাদের ভাবনার বাইরে। বাচ্চারা রীতিমতো স্কুলে আসতে ভয় পায়। ওদের মধ্যে একটি ট্রমা কাজ করে। স্কুল আমাদের এবং বাচ্চাদের জন্য একটি ভীতির জায়গায় পরিণত হয়েছে। স্কুলতো একটি আনন্দের জায়গা, পড়ালেখার জায়গা। এটা না হলে বাচ্চারা কিভাবে পড়ালেখা করবে। এখানে অধিকাংশ শিক্ষকই নীতি-নৈতিকতা বর্জিত। শিক্ষকরা বাচ্চাদের সঙ্গে তো খারাপ ব্যবহার করেই তাদের অভিভাবকদের সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার করে। শিক্ষকরা হাতে ধরে অরিত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা করেছে। এর আগেও অনেক মেয়েই আত্মহত্যা করেছে কিন্তু ওসব ঘটনা এভাবে সামনে আসেনি। অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, আমরা অরিত্রী হত্যার বিচার চাই। আজ অরিত্রী আত্মহত্যা করেছে। কাল যে আমার মেয়ে করবে না এর গ্যারান্টি কে দেবে। যে মেয়েটাকে আমরা হারালাম তাকে তো আমরা আর ফিরে পাবো না। আর কোনো অরিত্রীকে আমরা হারাতে চাই না। বাচ্চাদেরকে আমরা বাবা সোনা বলে ডাকি। আপনি বলে সম্বোধন করি। অথচ ৫ ঘণ্টার জন্য তাদের স্কুলে পাঠিয়ে আমরা আতঙ্কের মধ্যে থাকি। আমরা বাচ্চাদেরকে এখনো মুখে তুলে খাওয়াই। আমরা প্রত্যেকটি অভিভাবকই উচ্চ শিক্ষিত। কিন্তু বাচ্চাদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে চাকরি পর্যন্ত করি না। অরিত্রী তার বাবার অপমান সইতে না পেরেই আত্মহত্যা করেছে। মাত্র দুই নাম্বার কম পাওয়ায় এক শিক্ষার্থীকে গত বছর জেএসসি পরীক্ষা দিতে দেয়া হয়নি। তার বাবা মা শিক্ষকের পায়ে পর্যন্ত ধরে অনেক অনুরোধ করার পরেও তারা ওই শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা দিতে দেয় নি। বাইরে থেকে ভিকারুননিসা হলেও ভেতরে দুই নাম্বারিতে ভরা। অরিত্রীকে টিসি দিয়ে তার স্থানে অন্য শিক্ষার্থীকে ভর্তি করে হয়তো টাকা নিতো স্কুল কর্তৃপক্ষ। যার ভাগবাটোয়ারা করেন স্কুলের প্রিন্সিপাল, চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা। তিনি বলেন, গার্লস স্কুলের মধ্যে কেন পুরুষ ক্লিনার বা স্টাফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে ছেলে ক্লিনার দ্বারা ছোট ছোট মেয়েরা শারীরিকভাবে লাঞ্ছনার শিকার হয়েছে। যেটার খবর আপনারা মিডিয়া জানেন না।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

তানজিল আল-জয়

২০১৮-১২-০৬ ০৫:৪৪:৫০

বাংলাদেশের অধিকাংশ স্কুলেই একই দশা।।আমার পরিচিত ছোট ভাই বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট স্কুল থেকে এবার এস এস সি দিবে।।।সরকারি নিদের্শনা অনুযায়ী ১৬০০ টাকা নির্ধারন করা হলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ ২৬ হাজার টাকা নিয়েছে ।। কৌশলে ২টা রিসিভ পেপার দেয়া হয়েছে যাতে তারা ধরা না পড়ে।।।কেন্দ্র ফি সহ নানা ফি নিয়েছে।।।আসলে শিক্ষাই আজ বড় ব্যবসা।

আপনার মতামত দিন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক মঞ্চে প্রার্থীরা, নিলেন শপথ

গো বলয়ের রঙ বদলে বিরোধীরা আত্মবিশ্বাসী

নিতাই রায় চৌধুরীর নির্বাচনী অফিসে হামলা-ভাংচুর

খন্দকার মোশাররফের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ থানায়

ক্ষমতাসীনদের অধীনেও ভালো নির্বাচন হতে পারে এটা প্রমান করা গুরুত্বপূর্ণ

বিশ্বের শীর্ষ ১০ পর্নো তারকার অনেকেই নিষ্ক্রিয় কিংবা মৃত

ভারতের যে স্কুলে পড়েছেন বিশ্বের শীর্ষ তিন সিইও

আস্থা ভোটে টিকে গেলেন তেরেসা মে

‘এটি এই বছরের জন্য স্পেশাল একটি বিষয়’

নৌকায় ভোট চাইলেন হাসিনা

সিলেট থেকে ধানের শীষের প্রচারণা শুরু

হামলা, সংঘর্ষ-বাধা

‘চোখ রাঙালে চোখ তুলে নেয়া হবে’

নির্বাচন কমিশন বিব্রত

আলোকচিত্রী থেকে কয়েদি

ডিসিদের রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ কেন অবৈধ নয়