খুলনা-৩

সম্পদে এগিয়ে মন্নুজান শিক্ষায় এগিয়ে বকুল

এক্সক্লুসিভ

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে | ৫ ডিসেম্বর ২০১৮, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:১১
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৩ (দৌলতপুর-খালিশপুর-খানজাহান আলী) আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের গত ৫ বছরে অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে। এই আসনে কৌশলগত কারণে বিএনপি দু’জনকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে। এর মধ্যে দলের মূল প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুলের নিজের চেয়ে তার স্ত্রীর সম্পদ বেশি। তবে বেগম মন্নুজানের চেয়ে শিক্ষায় এগিয়ে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী সাবেক এই ছাত্রনেতা। নির্বাচন কমিশনের প্রার্থীদের জমা দেয়া মনোনয়নপত্রের হলফনামা থেকে এমন তথ্য মিলেছে।

গৃহ-সম্পত্তি ভাড়া ও মৎস্য চাষ এবং সংসদ সদস্য হিসেবে ভাতা পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাবেক শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান। তিনি বর্তমান সংসদ সদস্য। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএ (সম্মান) বাংলা। তার বার্ষিক আয় ১৭ লাখ ১৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে বাড়ি ভাড়া ১ লাখ ৮ হাজার, রাখিমাল মজুত ২৪ হাজার, সংসদ সদস্যের ভাতা ৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা, অন্যান্য ভাতা ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা ও মৎস্য চাষ বাবদ ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তার কাছে নগদ রয়েছে ৫১ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮৯ টাকা। বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের অর্জনকালীন মূল্য উল্লেখ করেছেন ৫৪ লাখ ৯৭ হাজার ৪৯০ টাকা। ৪০ তোলা স্বর্ণ, ফ্রিজ, টিভি, খাটসহ অন্যান্য আসবাবপত্রও উপহার হিসেবে পেয়েছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। স্থাবর সম্পদের মধ্যে দৌলতপুরে ৩ কাঠা জমি, রাজউকে ৫ কাঠা, রেলগেটে ৮ শতক ও বিল ডাকাতিয়ায় দশমিক ৪৯ একর জমির আনুমানিক মূল্য দেখিয়েছেন ১৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। তবে তিনি মহেশ্বরপাশায় সাড়ে ১১ শতক জমির ওপর একটি তিনতলা বিশিষ্ট বাড়ি দেখালেও তার মূল্য উল্লেখ করেননি। বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা ঋণ দেখিয়েছেন তিনি। তার ওপর নির্ভরশীলদের কোনো আয় বা সম্পদ উল্লেখ করেননি তিনি।

অন্যদিকে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে দাখিল করা হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছিলেন তার বার্ষিক আয় ছিল ১৮ লাখ ৭০০ টাকা। এর মধ্যে কৃষিখাতে ১০ হাজার, বাড়ি ভাড়া ৫৪ হাজার, ব্যবসা থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার, সম্মানীভাতা ৫ লাখ ৭৩ হাজার ৬০০ টাকা এবং অন্যান্য আয় ১০ লাখ ১৩ হাজার ১০০ টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ (২০১৩ সালের ৩০শে জুন) ১ লাখ ৯২ হাজার ৯৫০ টাকা, ব্যাংকে জমা ছিল ৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। আর বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের অর্জনকালীন মূল্য ৫৪ লাখ ৯৭ হাজার টাকা, ৪০ তোলা স্বর্ণালঙ্কার, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্র ছিল তার। স্থাবর সম্পদের মধ্যে দশমিক ৪৯ একর পৈতৃক কৃষি জমি, ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৪৯০ টাকার অকৃষি জমি, সাড়ে ১১ শতক জমিতে তিনতলা বাড়ি হলফনামায় দেখিয়েছিলেন তিনি। দায়ের ঘরে সংক্ষিপ্ত লোন ৬ লাখ টাকা উল্লেখ করেন তিনি।

এ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী সাবেক ছাত্র নেতা রকিবুল ইসলাম বকুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ। আমদানি, রপ্তানি ও সরবরাহকারী পেশায় যুক্ত তিনি। এ থেকে বছরে আয় ৪ লাখ ৭৮ হাজার ২০৬ টাকা। এছাড়া ব্যাংক আমানত থেকে ১২ হাজার ২৯৪ টাকা পান তিনি। শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগের বিপরীতে মার্জিন ঋণ রয়েছে ৩৬ লাখ ৫৭ হাজার ২১১ টাকার। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তার কাছে নগদ ১২ লাখ ৮২ হাজার ২০২ টাকা, ব্যাংকে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৩২৮ টাকা এবং ২৫ লাখ ২০ হাজার ৩৬ টাকার শেয়ার রয়েছে। বিবাহের উপহার ৪০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, ২০ হাজার টাকা মূল্যের ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও ২০ হাজার টাকা মূল্যের আসবাবপত্র। এছাড়া ব্যবসার পুঁজি বাবদ তার রয়েছে ৫ লাখ টাকা। তার স্ত্রীর নগদ ৪৯ হাজার ৯৫০ টাকা, ব্যাংকে জমা ৬ লাখ ১৭ হাজার ৭৬৩ টাকা, জাতিসংঘ মিশন থেকে পাওয়া সম্মানী বাবদ ২২ লাখ ৭৫ হাজার টাকার শেয়ার, পোস্টাল, সেভিংস, সঞ্চয়পত্র, ১০ লাখ টাকা, ৪০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, এক লাখ টাকা মূল্যের ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও ১ লাখ টাকা মূল্যের আসবাবপত্র রয়েছে। এছাড়া জিপিএফ রয়েছে ১৪ লাখ ৫৭ হাজার ৬৭ টাকা। রকিবুল ইসলাম বকুলের কোনো স্থাবর সম্পদ নেই। তবে চাকরি সূত্রে বাংলাদেশ পুলিশ কো-অপারেটিভ ও পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া তার স্ত্রীর ৫২ লাখ ৯৯ হাজার ৫৫০ টাকা মূল্যের ৫৭ শতক জমি রয়েছে। আছে নড়াইলে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ৭ শতক জমির ওপর একটি চারতলা দালান। যার মূল্য ৬০ লাখ টাকা। এছাড়া এ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন- ইসলামী আন্দোলনের মো. মুজ্জাম্মিল হক, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) আ ফ ম মহসীন, জাকের পার্টির এসএম সাব্বির হোসেন ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) জনার্দন দত্ত।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

শহিদুলইসলাম

২০১৮-১২-০৬ ১৪:১৯:০৯

এ আসনে আর কোন প্রার্থী নেই বলে যে তথ্য দিয়ে রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে সম্পুর্ণ মিথ্যা। এ আসনে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন পেয়েছে এস এম আরিফুর রহমান মিঠু । যেহেতু বিএনপি জোটের চুরান্ত মনোনয়ন এখন থেকে ১২/১৪ ঘন্টাপর ঘোষনা করবেন তাহলে দুজন প্রার্থীর কথা না লিখে একজনকে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক নিজের মনগড়া রিপোর্ট করছেন নিজ স্বার্থের বিনিময়ে। মানবজমিন পত্রিকার মানকে এ রিপোর্টের প্রতিবেদক ক্ষুন্ন করছে শুধুমাত্র নিজস্বার্থে

আপনার মতামত দিন

মধুর ক্যান্টিনের সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রলীগের ৫ জনকে বহিষ্কার

ঢাকায় বালিশ প্রতিবাদ

প্রধানমন্ত্রীর সফরে নিরাপত্তা সতর্কতা প্রত্যাহার চাইবে ঢাকা

শিশুটিকে দত্তক পেতে চতুর্মুখী লড়াই

রিকশাচালকের বিরুদ্ধে ২৭ লাখ টাকার চেক মামলা

ব্যাংকে নগদ টাকার সংকট সরকারি আমানত পেতে তোড়জোড়

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর ভেন্টিলেটর দিয়ে ফেলে দিলো পুলিশ সদস্য

সংসদ যেন একদলীয় করে তোলা না হয়

শামীম হত্যার নেপথ্যে

পাকিস্তানের বাংলাদেশ মিশনে ভিসা ইস্যু বন্ধ

গণমাধ্যমের অবস্থা করুণ থেকে করুণতর হবে: মান্না

সিলেটে যে কারণে ওসি আক্তারের ওপর ক্ষুব্ধ খাদিমপাড়াবাসী

আমার মনে হয় আপনারা ব্যাখ্যা পাবেন: আইনমন্ত্রী

রাজধানীতে টিকিট ছাড়া গণপরিবহন চলবে না: সাঈদ খোকন

ক্রিকেট বিশ্বকাপ ঘিরে প্রতারক চক্রের ফাঁদ

সম্মান হারিয়েছে নির্বাচন কমিশন: রাহুল গান্ধী