কঠিন সমীকরণে ওসমানীনগর ও বিশ্বনাথের রাজনীতি

শেষের পাতা

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে | ১৭ নভেম্বর ২০১৮, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৩২
অনড় অবস্থানে এহিয়া। নির্বাচন করবেনই মুনতাসির। জোট দিলেও করবেন, না দিলেও করবেন । এমন অবস্থায় কঠিন সমীকরণের মধ্য পড়েছে সিলেটের বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগরের রাজনীতি। আওয়ামী লীগের দুই শক্তিশালী প্রার্থী শফিকুর রহমান চৌধুরী ও আনোয়ারুজ্জামান দলীয় মনোনয়ন লড়াইয়ে নেমেছেন। আর এম. ইলিয়াস আলীর জন্য এখনো আবেগ কাজ করছে এ সংসদীয় আসনে। দুই শরিকের আয়ত্তে গেলে এই আসন থেকে নির্বাসিত হতে পারে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র রাজনীতি- এমন আশংকাও রয়েছে।

সিলেট-২ আসনে গত ৫ বছর আওয়ামী লীগ ছিল সাইডলাইনে।
মহাজোটের প্রার্থী জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যগ্ম মহাসচিব ইয়াহহিয়া চৌধুরী এহিয়া এমপি হওয়ার কারণে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থেকে অনেক দূরে ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতারা। যদিও এ আসনে বিগত ৫ বছর নেতা-কর্মীদের কাছাকাছি ছিলেন শফিকুর রহমান চৌধুরী ও আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী এরপরও দল ক্ষমতায় না থাকায় সরাসরি ক্ষমতার সুফল ভোগ করতে পারেননি এখানকার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এই ক্ষোভ এখন কাজ করছে আওয়ামী লীগের ভেতরে। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট লুৎফুর রহমানের মতে, সিলেট-২ আসনে এবার জাতীয় পার্টিকে ছাড় দেয়া উচিত হবে না। এতে দল প্রশ্নের মুখে পড়বে। সাংগঠনিকভাবে সংকট দেখা দিতে পারে। এ কারণে এবার পরিবর্তন করে অন্য আসন দেয়া যেতে পারে। তিনি বলেন- নির্বাচনের আগেও তিনি তার এই মতামত কেন্দ্রীয় হাই কমান্ডকে জানিয়ে দিয়েছেন।

সিলেট-২ আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকও। তার সঙ্গে দলীয় মনোনয়নে এ আসনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে ওসমানীনগর ও বিশ্বনাথ আওয়ামী লীগের রাজনীতি। শফিকুর রহমান চৌধুরীর ভোটব্যাংক বিশ্বনাথ হলে আনোয়ারুজ্জামানের ওসমানীনগর। শফিকুর রহমান চৌধুরীর সঙ্গে বর্তমান কমিটির নেতারা সক্রিয় থাকলেও আনোয়ারুজ্জামানের সঙ্গে রয়েছে পুরাতন বলয়ের নেতারা। ফলে মাঠের লড়াইয়ে দু’জনই সমান সমান। দুইজনের মনোনয়ন দ্বন্দ্বের কারণে ২০১৪ সালে এই আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিয়ে দলীয় কোন্দল থেকে রেহাই পেয়েছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র আবারো সেই কোন্দল চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।

সিলেট-২ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টি ইয়াহ্‌হিয়া চৌধুরী এহিয়া মানবজমিনকে জানিয়েছেন- সিলেট-২ আসনে তিনি বর্তমান সংসদ সদস্য। সুতরাং এ আসনটি এবারো মহাজোটের কাছে চায় জাতীয় পার্টি। এখানে জাতীয় পার্টির বিশাল ভোটব্যাংক রয়েছে। যদি মহাজোট থেকে তাকে মনোনয়ন না দেয়া হয় তিনি নির্বাচনে থাকবেন। মহাজোট থেকে প্রার্থী দিলেও থাকবেন না দিলেও থাকবেন। এ আসন ছাড় দেবে না জাতীয় পার্টি। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন- বিগত ৫ বছরে সিলেট-২ আসনে যুগান্তকারী উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। মানুষ এখন জাতীয় পার্টির পক্ষে। সাংগঠনিক ভিত গড়তে হলে জাতীয় পার্টির এমপি নির্বাচিত হতে হবে।

এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি’র সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম. ইলিয়াস আলী। ২০১২ সালে ইলিয়াস গুম হওয়ার পর থেকে এ আসনের হাল ধরে আছেন তার স্ত্রী বেগম তাহসিনা রুশদীর লুনা। লুনার নেতৃত্বে এ আসনে উপজেলা ও ইউনিয়ন নির্বাচনে বাজিমাত করেছে বিএনপি। এ আসনের দু’টি উপজেলা পরিষদের কর্তৃত্ব এখন বিএনপি’র হাতে। অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদের জয় ঘরে তুলেছে বিএনপি। ফলে এ আসনে বিএনপি’র একক কর্তৃত্ব এখন বেগম তাহসিনা রুশদীর লুনার কাছে। কোন্দলও নেই। মামলায় বিপর্যস্ত হওয়া নেতাকর্মীরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার এ আসনে প্রার্থী হতে দলীয় মনোনয়ন জমা দিয়েছেন তাহসিনা রুশদীর লুনা ও ইলিয়াসের বড় ছেলে ব্যারিস্টার আবরার ইলিয়াস।

ইলিয়াসের স্ত্রীর সঙ্গে এ আসনে একাট্টা রয়েছে বিএনপি। দলের সব অংশের নেতাকর্মীরা মাঠে কাজ করছে। সিলেট জেলা বিএনপি’র যগ্ম সম্পাদক ময়নুল হক জানিয়েছেন- দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর তারা সিলেট থেকে মনোনয়নপত্র ক্রয় করবেন। এরপর নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেবেন।

এ আসন থেকে এবার নির্বাচন করবেনই খেলাফত মসলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুনতাসির আলী। তারা ২০ দলীয় জোটের শরিক দল। ২০১৪ সালের নির্বাচনেও তিনি প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু ২০ দল নির্বাচনে না যাওয়ায় তারা অংশ নেননি। মুনতাসির আলী গতকাল মানবজমিনকে জানিয়েছেন- ‘২০ দলীয় জোটের পরীক্ষিত দল খেলাফত মজলিস। সিলেট বিভাগে রয়েছে খেলাফত মজলিসের বড় ভোটব্যাংক। এ কারণে খেলাফত মজলিস ২০ দলীয় জোটের কাছে এ আসনে মনোনয়ন চায়।’ যদি জোট থেকে দেয়া হয় তাহলে তিনি নির্বাচন করবেন, আর জোট থেকে না দিলেও নির্বাচন করবেন। নির্বাচন থেকে পিছু হটার তার সুযোগ নেই জানিয়ে তিনি বলেন- ‘খেলাফত মজলিস নিবন্ধন রক্ষা করতে হলে একটি আসনে তার দলীয় মার্কায় নির্বাচন করতে হবে। আর সেটি আমিই করবো।’ ভোটের হিসাব জানিয়ে মুনতাসির আলী বলেন- ‘খেলাফত মজলিসের প্রায় ৫০ হাজার ভোট রয়েছে এই আসনে। মাদরাসাকেন্দ্রিক ভোটব্যাংক তার পক্ষে রয়েছে। উপজেলা নির্বাচনে সে প্রমাণ খেলাফত মজলিস দেখিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।’




এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

এম এম কাওছার

২০১৮-১১-১৭ ১৬:৪৫:২৮

বিরোধী দলের সাথে টেক্কা দিতে মুনতাসির আলী র বিকল্প নেই

আপনার মতামত দিন

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নির্মোহ ও নিরপেক্ষ: এইচ টি ইমাম

আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার হয়ে রিকশাচালককে মারধরকারী নারী যা বললেন

টাইমের বর্ষসেরা ব্যক্তিত্বের তালিকায় শহিদুল আলম

সিলেটে ঐক্যফ্রন্টের পথসভায় বাধা, মাইক খুলে নিয়েছে পুলিশ

নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন বিএনপির তমিজ উদ্দিন

‘ইসিতে অভিযোগ জানিয়ে ফেরার পথে বিএনপি নেতা আটক’

ডিসিদের রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ কেন অবৈধ নয়

আজই অনাস্থা ভোটের মুখে পড়ছেন তেরেসা মে

নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির নতুন অভিযোগ

নির্বাচন যেনো দুধ-ভাত খেলা: ববি হাজ্জাজ

সিইসি অসহায়, বিব্রত: সেলিমা রহমান

রোহিঙ্গাদের অবস্থার উন্নতি ও নৃশংসতায় দায়ীদের বিচার চায় যুক্তরাষ্ট্র

সিংড়ায় বিএনপি প্রার্থীর নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, সংবাদ সম্মেলন

বিকালে আইজিপির সঙ্গে বৈঠকে করবে বিএনপি নেতারা

৩০শে ডিসেম্বরের পর আওয়ামী লীগের খবর পাওয়া যাবে না: মওদুদ

যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকাভুক্তি প্রত্যাখ্যান পাকিস্তানের