নি র্বা চ নী হা ল চা ল (চট্টগ্রাম-১)

আওয়ামী লীগের ৯, বিএনপির ১০ মনোনয়ন প্রত্যাশী

শেষের পাতা

আনোয়ারুল হক নিজামী, মীরসরাই (চট্টগ্রাম) থেকে | ১৪ নভেম্বর ২০১৮, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:১৬
মীরসরাই উপজেলা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১ আসন। একাদশ নির্বাচন ঘিরে এ আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী হাওয়া। আওয়ামী লীগ- বিএনপি দুই দলই ভোটের  মাঠে। ফরম কিনে আলোচনায় দু’দলের ১৯ জন।

আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী  কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এর পাশাপাশি আরও ৮ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন। তারা হলেন- ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুর রহমান রুহেল, আলহাজ্ব মো. গিয়াস উদ্দিন, স্বপন চৌধুরী, নিয়াজ মোর্শেদ এলিট, ডা. মোস্তফা, জসিম উদ্দিন, শেখ আতাউর রহমান ও মহিউদ্দিন রাশেদ।
বিএনপি’র মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন ১০ জন। এরা হলেন- মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ,  ড. মাইনুল এমরান চৌধুরী, চেয়ারম্যান নুরুল আমিন, নুরুল আমিন, মনিরুল ইসলাম ইউসুফ, সরোয়ার উদ্দিন সেলিম, পারভেজ সাজ্জাদ, উপাধ্যক্ষ এসএম আতিকুল ইসলাম লতিফী, মো. মঈন উদ্দিন ও শাহিদুল ইসলাম চৌধুরী।

২০০৮ সালের নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন নৌকা প্রতীকে এ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ধানের শীষের প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরী। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। এরপর তিনি সরকারের মন্ত্রী হন। কিন্তু এবার নির্বাচনে বিএনপি আসার ঘোষণা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে গেছে দৃশ্য। হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এখানে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু কেউ কেউ মন্ত্রীপুত্র রুহেলের প্রসঙ্গও টানছেন।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশের বৃহত্তম অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রায় ৩০ হাজার একর আয়তনের শিল্পাঞ্চলের প্রায় ৪ লাখ লোকের কর্মসংস্থানে সুযোগ হবে। এ ছাড়া এলাকার রাস্তা-ঘাট, পুল-কালভার্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ফায়ার সার্ভিস স্টেশনসহ শ’ শ’ কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন হয়েছে। যা স্বাধীনতার পরবর্তী সরকারগুলো এত উন্নয়ন করতে পারেনি।  

ইতিমধ্যে সামাজিক বিভিন্ন সংগঠন ও তরুণ সামাজিক নেতৃত্বের সংগঠক চট্টগ্রামস্থ জুনিয়র চেম্বারের সভাপতি মানবাধিকার কমিশন চট্টগ্রাম জেলা শাখা সভাপতি নিয়াজ মোর্শেদ এলিট মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন ও জমা দিয়েছেন। তারুণ্যের আইডল হিসেবে তিনি সকলের প্রিয় মুখ। নেতৃত্বে দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য পদে।

বর্তমানে মানবাধিকার কমিশনের উত্তর জেলা সভাপতি, জুনিয়র চেম্বারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, খুলশী ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিসহ অসংখ্য সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। নিয়াজ মোর্শেদ এলিট বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত আছি। মানুষের জন্য কাজ করাই আমার লক্ষ্য। অতএব বৃহৎ পরিসরে কাজ করতে আমি আমার দলের কাছে মনোনয়ন চাইবো। জননেত্রী শেখ হাসিনার যে কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেব।

এদিকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন এর কথাও আলোচনা রয়েছে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফর সঙ্গী হয়ে জাতীয় সংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেন তিনি। এই নিয়ে তাঁর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে।

ওদিকে মীরসরাই উপজেলা বিএনপি একাধিক ভাগে বিভক্ত। কেন্দ্রীয় নীতি-নির্ধারণী ফোরামে গত নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়া প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরী শারীরিক অসুস্থতার কারণে এবার নির্বাচনে অংশগ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। আবার তাঁর পরিবার থেকেও কেউ প্রার্থী হবেন না বলে জানিয়েছেন। তাই  সাবেক সংসদ সদস্য এমএ জিন্নাহ এখানে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করায় দীর্ঘদিন আলোচনার বাইরে থাকা এই হেভিওয়েট প্রার্থী আবার  উপজেলার বিএনপি’র  রাজনীতিতে উঠে এসেছেন।  এছাড়া এখানে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন উপজেলা বিএনপি’র বর্তমান আহ্বায়ক নুরুল আমিন, উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ও জাসাস চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সাধারণ সম্পাদক শাহীদুল ইসলাম চৌধুরী, উপজেলা নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে (সাময়িক বহিষ্কত) উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আমিন, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিএনপি’র যুক্তরাজ্য শাখার সভাপতি পারভেজ সাজ্জাদও মনোনয়ন প্রার্থী বলে জানা গেছে।
বিএনপি থেকে নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান (সাময়িক বহিষ্কৃত) নুরুল আমিন বলেন,  নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখে পাশে সবসময় ছিলাম। সরকারের নানা হয়রানিমূলক হামলা মামলা  মোকাবিলা করে দলকে সুসংগঠিত করে রেখেছি।

আবার দীর্ঘদিন নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা মনোনয়নপ্রার্থী জাসাস উত্তর জেলা সেক্রেটারি শাহিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি’র মামলা হামলা হুলিয়াগ্রস্ত সকল নেতাকর্র্মীদের সেবা ও দলের জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করেছি।
জামায়াত, জাপা, বাম দল: সারা দেশের মতো মীরসরাইতেও জামায়াতে ইসলামীর কর্মকাণ্ড অনেকটা স্থবির। জাতীয় পার্টিও এখানে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। বাম দল তাদের সকল কর্মসূচি আগের চেয়ে বেগবান করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া মীরসরাইতে সাম্যবাদী দলের একটি কার্যালয়ও উদ্বোধন করেছেন। কিন্তু সেখানে নেই দলীয় কোনো কর্মকাণ্ড।
জাতীয় পার্টি থেকে এশরাদ উল্লাহ, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লায়ন আবদুল্লাহ সেলিম, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ এর মাওলানা আবদুল মান্নান, কল্যাণ পার্টির দিদারুল আলম সুমন, বিএনএফ মাওলানা মো. ইউছুফ, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের কাউছার আলম এর নাম শোনা যাচ্ছে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

সারা দেশে ধরপাকড় গ্রেপ্তার ২৫০

খোকন গুলিবিদ্ধ, আব্বাস-সুব্রতের ওপর হামলা, কর্নেল অলির ছেলের আঙুল কর্তন

অর্থনীতিতে বড় অর্জন রাষ্ট্র মেরামতের তাগিদ

সংকটময় মুহূর্তে বাংলাদেশ

জনগণ ঘুরে দাঁড়ালে পালানোর পথ পাবেন না: আ স ম রব

৩০-৩১ ডিসেম্বরের এয়ারলাইন্সের টিকিটের চাহিদা তুঙ্গে

পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে গ্রেপ্তার করতে পারবে সেনাবাহিনী

নৌকার জোয়ার দেখে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা বেসামাল হয়ে পড়েছেন

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীদেরকে দুই দিনের আল্টিমেটাম

‘নৌকা’-‘সিংহ’ এক ভাই

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি গঠন

সিলেটে ভোটের মাঠে উন্নয়ন নিয়ে ‘বিতর্ক’

রাজাপাকসের পদত্যাগ

এবার প্রজার ছেলে রাজা হবে

বাবা জীবিত থাকলে আওয়ামী লীগ করতেন না : রেজা কিবরিয়া

চট্টগ্রামে গণসংযোগে চাঙ্গা বিএনপি নেতাকর্মীরা