সুচির অভিজাত পদক কেড়ে নিলো অ্যামনেস্টি

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১৩ নভেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:১৭
মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচির আরো একটি মানবাধিকার বিষয়ক অভিজাত পদক কেড়ে নিলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সুচি এক সময় মানবাধিকারের ক্ষেত্রে যে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে ছিলেন, তার বর্তমান অবস্থা সেই মর্যাদার সঙ্গে ‘লজ্জাজনক এক প্রতারণা’ বলে অভিহিত করেছে সংগঠনটি। এ নিয়ে সুচির কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হল গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু পদক। এর মধ্যে রয়েছে ইউএস হলোকাস্ট মিউজিয়ামের দেয়া ‘ইলি উইসেল অ্যাওয়ার্ড’, বেশকিছু ‘ফ্রিডম অব দ্য সিটি অ্যাওয়ার্ড’। তার কাছ থেকে ‘ফ্রিডম অদ দ্য সিটি অ্যাওয়ার্ড’  কেড়ে নিয়েছে এডিনবার্গ, অক্সফোর্ড, গ্লাসগো ও নিউ ক্যাসেল। সোমবার অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, সুচি বর্তমানে মিয়ানমারের বেসামরিক নেত্রী। তবে তিনি আর আশার প্রতীক নন। এজন্য অ্যামিনেস্টি তাদের দেয়া সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘অ্যাম্বাসেডর অব কনসাইন্স অ্যাওয়ার্ড’ বাতিল করছে।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের উপর সেনাবাহিনীর চালানো নৃশংসতার বিষয়ে তার উদাসীনতার কারণে সংস্থাটি তাকে দেয়া এ  সম্মাননা প্রত্যাহার করেছে। ১৫ বছর গৃহবন্দি থাকাকালীন ২০০৯ সালে যুক্তরাজ্যভিত্তিক এই মানবাধিকার সংস্থাটি তাকে তাদের সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘অ্যাম্বাসেডর অব কনসাইন্স’ প্রদান করে। তবে সম্মাননা প্রত্যাহার বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেন নি সুচি।
সংস্থাটির প্রধান কুমি নাইডোর পক্ষ থেকে অং সান সুচিকে দেয়া চিঠি সোমবার প্রকাশ করা হয়। চিঠিতে জানানো হয়, আমরা গভীর হতাশার সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আশা, সাহস এবং মানবাধিকারের অক্ষয় প্রতীক হিসেবে আপনি আর নিজেকে  উপস্থাপন করেন না। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অ্যাম্বাসেডর অব কনসাইন্স সম্মাননার বাহক হিসেবে আপনার যোগ্যতা বিচার করতে পারছে না। তাই গভীর দুঃখের সঙ্গে আমরা আমাদের সম্মাননা প্রত্যাহার করছি।  
সম্মাননা প্রত্যাহার বিষয়ক তথ্য মিয়ানমারের নেত্রীকে জানানো হয়েছে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এক সময়কার গণতন্ত্রের জন্য যুদ্ধ করা নেত্রী ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের উপর চালানো নৃশংসতার বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করায় আন্তর্জাতিক বেশ কয়েকটি সম্মাননা হারিয়েছেন।    
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, অং সান সুচির নেতৃত্বে বেসামরিক সরকার মিয়ানমারের ক্ষমতায় আসার পর তার প্রশাসন একাধিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিল। রোহিঙ্গাদের ওপর অভিযানের কথা উল্লেখ করে সংস্থাটি বলছে, গত বছর নিধনযজ্ঞ চলার সময় মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী হত্যা করেছে হাজারো মানুষ। ধর্ষিত হয়েছেন অগণিত নারী ও শিশু, আটক ও নৃশংসতার হাত থেকে রেহাই পায় নি বৃদ্ধ, শিশু এবং কিশোরও। শতাধিক গ্রাম আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, নিরাপত্তা বাহিনীর অপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায় অস্বীকার করে অং সান সুচি ও তার দপ্তর তাদেরকে রক্ষা করেছেন। সংস্থাটি বলছে, রোহিঙ্গাদের পক্ষে অং সান সুচির দাঁড়ানোর ব্যর্থতাই এর মূল কারণ। অ্যামনেস্টির ভাষায়, ভয়ঙ্কর নিপীড়ন এবং নির্যাতনের এসব ঘটনা অস্বীকার করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশে কিংবা রাখাইন রাজ্যে অবস্থানরত লাখো রোহিঙ্গার জীবনমান উন্নয়নের বা পরিবর্তনের আশা ক্ষীণ। নৃশংসতা থামাতে ভবিষ্যতে সরকারের উদ্যোগ কেমন হতে পারে তা সহজেই বোঝা যায়, যখন একটি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সংগঠিত অপরাধের কথা অস্বীকার করে রাষ্ট্রযন্ত্র।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

পাকিস্তানকে ভেঙে ৩ টুকরো করার পরামর্শ রামদেবের, বেলুচিস্তানের বিদ্রোহীদের অস্ত্র দেয়ার আহ্বান

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ২২ উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত

মুখোমুখি মোদি-ইমরান

যে কারণে পাকিস্তান থেকে সরাসরি ভারত গেলেন না সালমান

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর কমিটি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়

‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’ বাজার থেকে সরানোর নির্দেশ হাইকোর্টের

তুরাগতীরে ফরিয়াদ

ঐক্যফ্রন্টের গণশুনানি শুক্রবার

৭ বিলিয়ন ডলার ঋণের অধীনে ‘কানেকটিভিটি’

নতুন বাজারে বাড়ছে পোশাক রপ্তানি

সরগরম ক্যাম্পাস প্রথম দিন মনোনয়নপত্র নেননি আলোচিত কেউ

করবিনের সাদামাটা জীবন

নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হলে গণতন্ত্রও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়

মাদক রুট, তদন্তে ঢাকায় আসছেন শ্রীলঙ্কান গোয়েন্দারা

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর তৎপরতা নেই

আমরা প্রেসের ফ্রিডমকে ইউকে’র পর্যায়ে নিতে চাই