কে এই জাফরুল্লাহ চৌধুরী

প্রথম পাতা

কাফি কামাল | ১২ নভেম্বর ২০১৮, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:০১
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। মহান মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তি যোদ্ধা। রণাঙ্গনে ফিল্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করে প্রাণ বাঁচিয়েছেন অসংখ্য আহত ও অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধার। জাতির যেসব সূর্যসন্তান আজকের এই স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ার নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং রাজনীতির বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন তাদের অন্যতম তিনি।

স্বাধীন  দেশে তিনি হতে পারতেন দেশসেরা সার্জন। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারতেন চিকিৎসাখাতের প্রধান ব্যবসায়ী। কিন্তু ভিন্নধাতুতে গড়া এক লড়াকু মানুষ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। স্বাধীন দেশে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন গণমানুষের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে।
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীদের করেছেন প্রাথমিক স্বাস্থ্যকর্মী। প্রথম উদ্যোগ নিয়েছেন জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের। জনকল্যাণধর্মী চিকিৎসানীতির মাধ্যমে দেশে ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার নীতি প্রণয়ন, জাতীয় শিক্ষা কমিটির সদস্য হিসেবে অগ্রসর শিক্ষা নীতি প্রণয়ন ও নারী উন্নয়নে রেখেছেন যুগান্তকারী ভূমিকা। সরকার ও রাষ্ট্রের, ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে তিনি দাঁড়িয়েছেন বুকচিতিয়ে। দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ-পরিস্থিতি যখন উত্তপ্ত, অনিশ্চিত তখনই বিবদমান পক্ষের মাঝখানে সমঝোতার সেতুর ভূমিকা নিয়েছেন।

রাষ্ট্রক্ষমতার বাইরে থেকে একজন ব্যক্তিমানুষের পক্ষে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য যতটুকু কাজ করা সম্ভব তার সর্বোচ্চটাই করেছেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। সাম্প্রতিক সময়েও তিনি অবস্থান নিয়েছেন কোটাবিরোধী ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্রদের আন্দোলনে। সবমিলিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ব্যক্তিত্বের শিখরস্পর্শী এক উচ্চতায়। মহান এ ব্যক্তিত্বকে আজ অপমান, মানহানি আর অব্যাহতভাবে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হচ্ছে মামলা।

দেশের মানুষকে কম পয়সায় চিকিৎসা দিতে তিলতিল করে যে হাসপাতালটি তিনি গড়ে তুলেছেন সেটির ওপর দুর্বৃত্তদের হাত পড়ছে। ছাত্রজীবনে চড়তেন দামি গাড়িতে। ছিল পাইলটের লাইসেন্স। লন্ডনে পড়াশোনা অবস্থায় রাজকীয় দর্জি তার বাসায় এসে মাপ নিয়ে স্যুট তৈরি করতেন বলে অতিরিক্ত পরিশোধ করতেন ২০ পাউন্ড। বাস্তবজীবনে সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী এ মহান চিকিৎসক বর্তমানে যাপন করেন সাধারণ জীবন। দেশে-বিদেশে কোথাও তার একটি ফ্ল্যাট পর্যন্ত নেই। বোনকে দান করে দিয়েছেন পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমিজমা। মরণোত্তর দেহদান করায় দাফনের জন্যও প্রয়োজন হবে না জমির। অথচ তার বিরুদ্ধেই অভিযোগ তোলা হয়েছে ভূমি দখলের।


১৯৪১ সালের ২৭শে ডিসেম্বর চট্টগ্রামের রাউজানে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর জন্ম ও পৈত্রিক নিবাস। বড় হয়েছেন ঢাকায়। তার বাবার শিক্ষক ছিলেন বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্যসেন। পিতামাতার দশজন সন্তানের মধ্যে তিনি সবার বড়। পড়াশোনা করেছেন বকশীবাজার স্কুল, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা মেডিকেলে। ছাত্র ইউনিয়নের মেডিকেল শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ছাত্র অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দুর্নীতির বিরুদ্ধে করেছিলেন সংবাদ সম্মেলন। ১৯৬৪ সালে ডিএমসি থেকে এমবিবিএস ও ১৯৬৭ সালে বিলেতের রয়্যাল কলেজ অব সার্জনস থেকে জেনারেল ও ভাস্কুলার সার্জারিতে এফআরসিএস প্রাইমারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। কিন্তু চূড়ান্ত পর্ব শেষ না করে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে দেশে ফিরে আসেন। বৃটেনে প্রথম বাংলাদেশি সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিডিএমএ)’র প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক তিনি।

মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বাংলাদেশে ফেরার গল্পটি সিনেমার কাহিনীকে হার মানায়। পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মমতার প্রতিবাদে লন্ডনের হাইড পার্কে যে কয়েকজন বাঙালি পাসপোর্ট ছিঁড়ে আগুন ধরে রাষ্ট্রবিহীন নাগরিকে পরিণত হয়েছিলেন তাদের একজন ডা. চৌধুরী। তারপর বৃটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তর থেকে ‘রাষ্ট্রবিহীন নাগরিকের’ প্রত্যয়নপত্র নিয়ে সংগ্রহ করেন ভারতীয় ভিসা। শহীদ জননী জাহানারা ইমাম তার কালজয়ী সৃষ্টি ‘একাত্তরের দিনগুলি’র ১৬১-১৬২ পৃষ্ঠায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে নিয়ে লিখেছেন- ‘চেনা হয়ে উঠেছে ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ডা. এমএ মোবিন। এরা দুজনে ইংল্যান্ডে এফআরসিএস পড়ছিল। ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে বিলেতে চার বছর হাড়ভাঙা খাটুনির পর যখন এফআরসিএস পরীক্ষা মাত্র এক সপ্তাহ পরে, তখনই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু। ছেলে দুটি পরীক্ষা বাদ দিয়ে বাংলাদেশ আন্দোলনে অংশ নিলো, পাকিস্তানি নাগরিকত্ব বর্জন করলো, ভারতীয় ট্রাভেল পারমিট যোগাড় করে দিল্লিগামী প্লেনে চড়ে বসলো। উদ্দেশ্য ওখান থেকে কলকাতা হয়ে রণাঙ্গনে যাওয়া। প্লেনটা ছিল সিরিয়ান এয়ারলাইন্স-এর। দামাস্কাসে পাঁচ ঘণ্টা প্লেন লেট, সবযাত্রী নেমেছে। ওরা দুইজন আর প্লেন থেকে নামে না। ভাগ্যিস নামেনি। এয়ারপোর্টে এক পাকিস্তানি কর্নেল উপস্থিত ছিল ওই দুইজন ‘পলাতক পাকিস্তানি নাগরিককে’ গ্রেপ্তার করার জন্য।

প্লেনের মধ্য থেকে কাউকে গ্রেপ্তার করা যায় না, কারণ প্লেন হলো ইন্টারন্যাশনাল জোন। দামাস্কাসে সিরিয়ান এয়ারপোর্ট কর্মকর্তা ওদের দুইজনকে জানিয়েছিল- ওদের জন্যই প্লেন পাঁচ ঘণ্টা লেট। এমনিভাবে ওরা বিপদের ভেতর দিয়ে শেষ পর্যন্ত মে মাসের শেষাশেষি সেক্টর টু রণাঙ্গনে গিয়ে হাজির হয়েছে।’

যুদ্ধ যখন বিস্তার লাভ করে যুদ্ধক্ষেত্রে হতাহত যোদ্ধা, উদ্বাস্তু ও নির্যাতনের শিকার অসংখ্য নর-নারীর জরুরি চিকিৎসাসেবায় প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় একটি হাসপাতালের। মুক্তিযুদ্ধের ২ নং সেক্টরের কমান্ডার মেজর খালেদ মোশাররফ ও  ভারতের জিবি হাসপাতালের প্রধান সার্জন ডা. রথিন দত্তের সহযোগিতায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের প্রথম জিএস ডা. এমএ মবিনকে নিয়ে আগরতলার বিশ্রামগঞ্জের মেলাঘরে হাবুল ব্যানার্জির আনারস বাগানে গড়ে তোলেন প্রথম ফিল্ড হাসপাতাল- ‘বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল’। হাসপাতালটির কমান্ডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেছিলেন ডা. সিতারা বেগম বীরপ্রতীক। সেসময় প্রশিক্ষিত নার্স না থাকায় নারী স্বেচ্ছাসেবীদের প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ দেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। সে হাসপাতালের দুই স্বেচ্ছাসেবী ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল ও তার বোন সাঈদা কামাল। মুক্তিযুদ্ধের সময় অসংখ্য মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছে ৪৮০ শয্যাবিশিষ্ট এ হাসপাতাল। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল আতাউল গনি ওসমানীকে বহনকারী যে হেলিকপ্টারটি হামলার শিকার হয়েছিল তাতে অন্যদের মধ্যে ছিলেন- ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর গ্রামে ফিরে গিয়ে স্বাস্থ্যযুদ্ধ শুরু করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের ফিল্ড হাসপাতালটি গণস্বাস্থ্যকেন্দ্র নামে গড়ে তুলেন কুমিল্লায়। পরে সেটা স্থানান্তর করেন ঢাকার অদূরে সাভারে। এ ‘গণস্বাস্থ্যকেন্দ্র’ নামটি দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কেন্দ্রের ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডের জন্য বরাদ্দ দিয়েছিলেন প্রায় ৩১ একর জমি সরকারিভাবে। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর পাইলট প্রজেক্ট গণস্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রাইমারি কেয়ার কনসেপ্ট মাঠে প্রমাণ করে এবং এর ভিত্তিতে হু আর ইউএনও আলমাআতা কনফারেন্সের মাধ্যমে গ্লোবাল ইউনিভার্সাল প্রাইমারি কেয়ার প্রকল্পের ঘোষণা দেয়। গ্লোবাল প্যারামেডিক যে কনসেপ্ট ও ট্রেইন্ড প্যারামেডিক দিয়ে মিনি ল্যাপারোটমির মাধ্যমে লাইগেশন সার্জারির উদ্ভাবক ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। এ সংক্রান্ত তার পেপারটি বিশ্ববিখ্যাত মেডিকেল জার্নাল ল্যানসেট মূল আর্টিকেল হিসেবে ছাপা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের মূল পেডিয়াটিক্স টেক্সট বইয়ের একটা চ্যাপ্টার ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী লিখতেন অনেক বছর ধরে। দেশে-বিদেশে তার লেখা বই ও পেপারের সংখ্যা প্রচুর। প্রাইমারি কেয়ার নিয়ে লেখা তার সম্পাদিত ও প্রকাশিত একটি বই ‘যেখানে ডাক্তার নেই’-একসময় অবশ্য পাঠ্য ছিল বাংলাদেশের ঘরে ঘরে।

স্বাধীনতা যুদ্ধের পর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ গঠনের লক্ষ্যে প্রথম বৈঠকটিতে সভাপতিত্ব করেছিলেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। পরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রধান ছিলেন তিনি। ‘সাপ্তাহিক বিচিত্রা’ ছিল এদেশের মধ্যবিত্তের মৌলিক একটি প্রকাশনা। সর্বোচ্চ প্রচারণা ছিল বিচিত্রার প্রধান হাতিয়ার। সত্তর দশকের বিচিত্রায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, মওলানা ভাসানী প্রমুখ ছাড়া হাতেগোনা যে ক’জন বিচিত্রার প্রচ্ছদে স্থান পেয়েছিলেন- ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী তাদের একজন। সোনালী ধানক্ষেতের ব্যাকগ্রাউন্ডে দাঁড়িয়ে আছেন ঝাঁকড়া চুলের তরুণ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী এমন একটি ছবি প্রচ্ছদ করেছিল বিচিত্রা। ১৯৭৯ সাল থেকেই তিনি জাতীয় শিক্ষা কমিটির ও নারী কমিটির সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বাংলাদেশে শিক্ষা ও নারীনীতি প্রণয়নে। তবে গণস্বাস্থ্যের পর তার ম্যাগনাম ওপাস হচ্ছে ১৯৮২ সালের জাতীয় ঔষুধ নীতি। স্বাধীনতার পর স্বাস্থ্যখাতে যেটাকে বিবেচনা করা সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হিসেবে। তার প্রচেষ্টায় আমদানি ওষুধের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ২২৫। বর্তমানে ৯০ শতাংশ ওষুধই দেশে তৈরি হচ্ছে এবং বাংলাদেশ পরিণত হয়েছে একটি ওষুধ রপ্তানিকারক দেশে। অথচ জাতীয় স্বাস্থ্যনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় ১৯৯২ সালে তার সদস্যপদ বাতিল করেছিল বিএমএ। বিনা বিচারে তার ফাঁসি চেয়ে পোস্টারও সাঁটিয়েছিল। তাকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা-বিশ্বাস করেন রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধারা। ফিল্ড হাসপাতালের সহযোগী চিকিৎসক ও গেরিলা যোদ্ধা ডা. মোরশেদ চৌধুরী আমৃত্যু কাজ করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে। ফিল্ড হাসপাতালের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত চিকিৎসক এমএ মুবিন বাংলাদেশে এলে এখনো চিকিৎসা দেন গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে।


স্বাধীন বাংলাদেশে বিভিন্ন সরকারের সময়ে মন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব পেয়েও ফিরিয়ে দিয়েছেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। কিন্তু অনুপ্রাণিত করেছেন বহু ভালো পদক্ষেপ গ্রহণে। তার পরামর্শে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বাংলাদেশ প্রজাতন্ত্রের পক্ষে পাসপোর্ট ইস্যু করে বিলেতের এক লাখ বাঙালির কাছ থেকে আবু সাইয়িদ চৌধুরীর সংগ্রহ করেছিলেন ১০ লাখ পাউন্ড চাঁদা। বঙ্গবন্ধুকে বহুজাতিক কোম্পানির দুর্নীতির বিষয়ে অবহিত করে সমাজতান্ত্রিক দেশ থেকে ঔষুধ আমদানিতে অনুপ্রাণিত করেছিলেন। বাকশালে যোগ দিতে বঙ্গবন্ধুর অনুরোধ উপেক্ষা করেছিলেন। জিয়াউর রহমান মন্ত্রিত্বের প্রস্তাব দিলে বিএনপিতে স্বাধীনতাবিরোধী থাকায় চার পৃষ্ঠার চিঠির মাধ্যমে সে প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাধ্যমে নাগরিকের পাসপোর্ট পাওয়াকে সহজলভ্য ও নিশ্চিত করেছিলেন। ১৯৮০ সালে জিয়ার গড়া প্রথম জাতীয় মহিলা উন্নয়ন কমিটির দুই পুরুষ সদস্যের একজন হিসেবে প্রাথমিকে ৫০ শতাংশ মহিলা শিক্ষক ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ ছাত্রী নেয়ার সুযোগ করেছিলেন, যা কার্যকর হয়েছিল এরশাদ আমলে। জিয়াউর রহমানের আমলে পুলিশে মহিলা নিয়োগ দেয়া শুরু হলে দেশের প্রথম দুই নারী পুলিশ- হিসেবে নিয়োগ পান গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্মী হোসনে আরা ও চামেলী বেগম। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হতে উপেক্ষা করেছিলেন এরশাদের প্রস্তাব। তার পরামর্শেই এরশাদ আমলে পোস্টার, বিলবোর্ড বাংলায় লেখা ও সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলন, উপজেলাব্যবস্থা ও সফল জাতীয় ঔষুধনীতি ও জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি করেছিলেন।  


বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যেমন সর্বোচ্চ শ্রদ্ধার আসনে রাখেন, তেমনি কিংবদন্তি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জিয়াউর রহমানের প্রতিও রয়েছে তার অকুণ্ঠ সম্মান। ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিহত হওয়ার পর সেদিন দুপুরে লন্ডনের হিথ্রো এয়ারপোর্টে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বৃটিশ সাংবাদিকদের বলেছিলেন- ‘তিনি নিজের রক্ত দিয়ে জাতির ঋণ পরিশোধ করে গেলেন।’

শারীরিকভাবে খুব একটা সুস্থ নন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। সপ্তাহে তিন দিন ডায়ালাইসিস’র ওপর নির্ভর করে একরকম বেঁচে আছেন। কিন্তু জনগণের অধিকার আদায়ের তাড়না যার হৃদয়ে- তাকে কি আদৌ ডায়ালাইসিস দমাতে পারে? তাকেও পারেনি! শরীরের এমন নাজুক অবস্থার মধ্যেও তিনি ছুটে বেড়াচ্ছেন অফুরন্ত মানসিক শক্তি নিয়ে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের রাজনীতিতে একটি সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে নানাভাবে তৎপরতা চালিয়ে আসছেন। রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে খোলা চিঠি দিয়েছেন। বৈঠক করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিও নানা পরামর্শ দিয়েছেন।

বামপন্থি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন প্রথম জীবনে। দেশে-বিদেশে রয়েছে তার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা। জাতীয় সংকটে নিজের দায়বোধ থেকে তিনি উদ্যোগী হয়েছেন জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলায়। তিনি সুবিধাবাদী সুশীল নয়, একজন বিবেকবান বুদ্ধিজীবী। তিনি কোনো ‘বাঁকা চোখের’ পরোয়া করেননি। সম্প্রতি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী সেনাবাহিনী প্রধান সম্পর্কে একটি ভুল তথ্য উপস্থাপন করে একটি বক্তব্য দিয়েছিলেন। সেটা উপলব্ধি করে তিনি পরদিনই সংবাদ সম্মেলন করে এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর চাঁদাবাজি, জমিদখল, পুকুরের মাছ চুরির অভিযোগসহ একের পর এক মামলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের দুটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালসের এন্টিবায়োটিকের কাঁচামাল জব্দ ও এন্টিবায়োটিক বিভাগ সিলগালা ও প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করে ১৫ লাখ টাকা। গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখার অভিযোগে হাসপাতালকে আরো ১০ লাখ টাকা জরিমানা করে। অথচ সাধারণ মানুষকে কমদামে ওষুধ সরবরাহ করতে গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দামি অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের বদলে ট্যাবলেট তিনি প্যাকেট করার প্রচলন করেন সাধারণ কাগজে।

২০১৫ সালে বৃটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানের আদালত অবমাননার সাজায় উদ্বেগ জানিয়ে বিশিষ্ট নাগরিকদের বিবৃতি দেয়ার ঘটনায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে এক ঘণ্টার কারাদণ্ড দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। তার প্রতিষ্ঠিত গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে মাত্র এক হাজার ২০০ টাকায় ডায়ালাইসিস করতে পারেন দরিদ্র মানুষ। তার প্রতিষ্ঠিত গণবিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর স্বামী প্রয়াত বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়া। যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস, জেন্ডার ইস্যু, নীতিবিদ্যা ও সমাজ, পরিবেশবিদ্যা, ইংরেজি এবং বাংলা অবশ্যই পড়তে হয়। দরিদ্র ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে সংরক্ষিত আসন। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের দাপ্তরিক কাজ হয় বাংলাভাষা ও বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুসারে। বাংলাদেশের পাবলিক হেলথ সার্ভিসের এই আইকন সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক স্বাধীনতা পদক পান ১৯৭৭ সালে পদকটি প্রবর্তনের বছর। বিকল্প নোবেল খ্যাত র?্যামন ম্যাগসাই পান  ১৯৮৫ সালে। এ ছাড়া ১৯৭৪ সালে সুুইডিশ ইয়ুথ পিস প্রাইজ, স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার, ১৯৯২ সালে সুইডেনের লাইভ লাই হুড পুরস্কার, ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইন্টারন্যাশনাল পাবলিক হেলথ হিরোজ’ পুরস্কার লাভ করেন।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

UDDIN TASLIM

২০১৮-১১-১৩ ০৮:৫৭:৫৫

A real patriot bangladeshi. who loves soil, air ,nature and all most peoples of bangladesh. Shame for us , some ungreatful peoples are disturb to him.

Litu

২০১৮-১১-১২ ২২:১০:৫৪

সেলুট শ্রদ্ধেয় জাফরুল্লা স্যার, এরকম একজন মহান দেশপ্রেমিক গুনিজন যে নিজেকে আড়াল করে রেখেছেন, দেশের প্রয়োজনে আবারো জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে দেশ প্রেমিক হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে দারিয়েছেন এরকম একজন দেশ প্রেমিকের জন্য বাঙালী জাতি হিসেবে গরবিত বোধ করি।

এম করিম

২০১৮-১১-১২ ১৯:৫৫:০৮

A great man. My salute. Thanks to Manabzamin for the feature. A person like him should be given proper respect by endorsing his thoughts in governance of the country.

হাসানুল হক

২০১৮-১১-১২ ১১:০৪:১৫

উনি সত্যিকারের একজন দেশপ্রেমিক। সেল্যুট ড. জাফর উল্লাহ।

B.M.Taukir ahmed

২০১৮-১১-১২ ০৯:৪৬:১৪

এ মহান নেতা সম্পর্কে আজ অনেক কিছু জানলাম। তার জন্য শুভকামনা করা ছাড়া আমাদের কিছুই করার নাই।সেই সাথে ঘৃনা জানাচ্ছি এদেশের স্বার্থনেশী রাজনীতিকে। নিজেদের স্বার্থের জন্য একজন ভাল মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার জন্য। ধিক রাজনীতি ধিক ।

নুরুল করিম

২০১৮-১১-১২ ০৮:১১:১৯

স্যালুট জানাই সম্মানিত স্যারকে। ধিক্কার জানাই তাদেরকে যারা আজ উনাকে অপদস্থ ও উপেক্ষা করতেছেন। দোয়া করি, আপনি দীর্ঘজীবি হউন। আপনি বেঁচে থাকবেন ভালো মানুষের হ্রদয়ে হাজার কাল।

Md shariful Islam

২০১৮-১১-১২ ০৭:৪৩:৪৪

May Allah give him long life. So many thanks to Manabjamin for this report. I didn’t know that much about him, now my respect and dignity is thousands time more than before about sir Jafar ullah. He is a very simple men.

আব্দুল গফফার চৌধুরী,

২০১৮-১১-১২ ০৬:১৫:৩২

এমন গুণীজন আর কি জন্মাবে এই বাংলায়, অন্তর থেকে বলছি সালাম তোমায় হে মহাপ্রাণ তুমি বেছে থাকে হাজার বছর।

AKFH Bhuiyan

২০১৮-১১-১২ ০৬:০৭:৩২

Patriot and Hero of our nation- salute and respect to you and seek doa to Allah SW for you..

আবদুর রাজ্জাক মৃধা

২০১৮-১১-১২ ০৫:৩০:২৮

ভাল কথা, তবে উনি আর্মি চিফের বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দিলেন কেন?

Tofazzel Hossain

২০১৮-১১-১২ ১৬:৪০:৪৩

Dr Jafurallah is a great person. I salute him and I hate the people who are doing misbehave with him. I wish you long life

মো আল আমিন

২০১৮-১১-১২ ০৩:০৫:৫৪

আমি অন্তর থেকে স্যারকে স্যালুট করছি।

Dupur

২০১৮-১১-১২ ১৫:৪৫:১৭

Police,army must know who is he

মোঃ সামসুদ্দিন

২০১৮-১১-১২ ০২:৪০:৪২

বাংলাদেশে যে কয়জন হাতেগণা ভাল মানুষ আছে তিনি তাদের অন্যতম।

জুনাইদ হোছাইন

২০১৮-১১-১২ ১৫:২৬:০২

চারদিকে চাটুকার, দালাল, সুবিধাবাদী আর মুক্তিযোদ্ধার নাম ব্যবহার করে সুবিধা আদায়ে ব্যস্ত, সেখানে ডা: জাফরুল্লাহ'র মতো সৎ ও সত্য নির্ভীক লোকের খুবই অভাব। ধন্যবাদ মানব জমিনকে একজন গুনি মানুষ সম্পর্কে লেখার জন্য।

Arif

২০১৮-১১-১২ ১৫:০৮:৪৬

তাঁর প্রতি আমার অন্তরের অন্তঃস্তল থেকে রইল অফুরন্ত শ্রদ্ধা আর ভালবাসা।

শরীফ ওবায়েদ উল্লাহ্

২০১৮-১১-১২ ০১:৩১:০৯

সত্যিকার একজন মুক্তিযোদ্ধা , যার যুদ্ধ শেষ হয়নি , স্যালুট জনাব ডাঃ জাফরউল্লাহ্ কে ( উনী অন্ততঃ চেতনা বেপারী নন )

Kamal Uddin

২০১৮-১১-১২ ০০:২৬:১৩

ভাবতে লজ্জা লাগে মুক্তি যুদ্ধ করে স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশে মুক্তি যোদ্ধাদের প্রতি এমন অবমাননা । ডা জাফরুল্লাহ আমরা লজ্জিত !

Alhen

২০১৮-১১-১২ ১২:২৩:৪৬

Great great son of the nation. Thanks Manab Jamin to explore this great man. As a nation we are always depriving by our politician. As a result still we are far behind from other countries. Our leaders have no real dedication except very few. They need power and money! That's why they want to be the head of state repeatedly. They have only sick and poor mentality for power only!! our poor politicians...................

shaheed ullah

২০১৮-১১-১১ ২২:০০:৪০

রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা ডা: জাফরউল্লাহ্ কে জানাই প্রান ডালা শুভেচ্ছা। ঐক্যফ্রন্টের প্রতিষ্ঠিতা সদস্য হিসেবেও তাকে জানাই অভিনন্দন। এই কারনে সরকারের ভিতর ঘাপটি মেরে বসে থাকা সার্থবাজ নেতাদের মদদে তার বিরুদ্ধে যেসব মামলা হচ্ছে তা অবশ্যই নিন্দনীয়।আমি আশা করি তিনি যে লক্ষ্য নির্ধারন করেছেন তাতে কামিয়াব হবেন।আল্লাহ্‌ উনার সহায় হোন।

shyful

২০১৮-১১-১১ ২১:৫২:১১

সে অনেক ভাল কাজ করছে জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

হাসান ওমর

২০১৮-১১-১১ ২১:৪৫:৩৪

চমৎকার লেখার জন্য ধন্যবাদ। আল্লাহ জাতির এই সূর্যসন্তানকে দীর্ঘজীবী করুন। লেখাটির বহুল প্রচার আশা করি।

Hossain

২০১৮-১১-১১ ২১:৪২:৩৫

I think he is not real freedom fighter because i heard his telephone talking with controller of examination. If he is real freedom fighter then how he can advice that man to attack girls to make story. I am realy sorry to think about he is freedom fighter.

মোঃ আব্দুল হান্নান

২০১৮-১১-১২ ১০:৩০:২৭

যাযাকাল্লাহু খাইরান। লেজুরবৃত্তি নয়, এমন একজন মানুষকে নিয়ে লেখার জন্য অনেক ধন্যবাদ লেখক ও প্রকাশক কে। তার সম্বন্ধে জানার অনেক ইচ্ছা ছিল। কিন্তু কোন ভালো সোর্স পাচ্ছিলাম না। সময়উপযোগী একটি প্রবন্ধ আকারে তার জীবনী প্রকাশ করে আমার মত হয়ত লাখো মানুষের পিপাষা নিবৃত করেছেন। মানুষটিকে জানার বড় ইচ্ছা ছিল। ভবিষ্যতে এ ধরনের লেখা আশা করছি। আর সেইসাথে আজীবন সংগ্রামী মানুষটির জন্য রইল অগাধ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

monirul alam

২০১৮-১১-১১ ২১:২৭:৩৫

আমাদের যোগ্যতা নাই বলে,যোগ্যব্যাক্তিকে সম্যান করতে জানিনা

Ahmed

২০১৮-১১-১১ ২১:২৬:৫৯

May Allah bless you sir

সেক নজরুল

২০১৮-১১-১১ ২০:৪৯:৫৮

সশ্রদ্ধ সালাম ও অফুরন্ত ভালোবাসা। বাংলার ইতিহাসে বাংলার প্রাণ পুরুষ হিসাবে সোনালী অক্ষরে নাম লেখা থাকুক। দেশ ও জাতি তাঁকে অনুসরণ করুক। মর্মে মর্মে জাতি তাকে উপলব্ধি করুক। এমন ব্যক্তি প্রতিনিয়ত দেশ ও জাতিকে ভালো কিছু দিয়ে যাচ্ছে। ডা. জাফরউল্রাহ চৌধুরী একদিন বেশী বাঁচা মানেই দেশ ও জাতি নতুন কিছু পাওয়ার আশা।

masud

২০১৮-১১-১১ ২০:৩৪:২৭

অনেক ধন্যবাদ,

Niaz Shuvo

২০১৮-১১-১১ ২০:২৯:৫৬

Salute to this great hero .

তার এত সব বিষয় না জে

২০১৮-১১-১১ ২০:১৭:০৭

তার সম্পর্কে ভালোই অজানা ছিলাম। সত্যি হলে স্যালুট তারে।

Zakir Hossain

২০১৮-১১-১১ ২০:১২:০৯

এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মান জানানোর যোগ্যতাও আমার নেই।

জাকিরুল মোমিন

২০১৮-১১-১১ ২০:০১:২৫

এরাই প্রকৃত দেশপ্রেমিক অথচ ওনার বিরুধ্বেই হয় ফল চুরির মামলা। আমরা লজ্জিত।

Md Arifullah

২০১৮-১১-১১ ১৯:২৯:১৩

Sir great respect for you. I even not know about him. Many thanks to manab jomin to provide us such a beautiful information. May Allah bless you sir.

শাহেদ হক

২০১৮-১১-১১ ১৯:২২:০৩

মানবজমিনকে ধন্যবাদ অত্যন্ত সময়োপযোগী লেখাটি প্রকাশ করার জন্য। খুব ছোট বেলা থেকেই লোকটির নাম শুনে আসছি কিন্তু মানুষটির কর্মক্ষেত্র এত বিশাল মোটেও ধারনা ছিল না। দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য এত বিশাল ত্যাগী মানুষ এখনো বেঁঁচে আছেন, এই বৃদ্ধ বয়সে দেশকে আরো কিছু দিতে চান, অথচ কত অপবাদ? চেতনাকে পুঁজি করে আজকে যারা এই মানুষদের অবমুল্যায়ন করছে তাদেরকে ঘৃনা করা উচিত, চেতনার এই ফেরিওয়ালাদের প্রতি থুথু নিক্ষেপ করলাম।

Kazi

২০১৮-১১-১১ ১৯:১০:০৫

বহু গুণীজন ও দোষমুক্ত সারা জীবন নাও থাকতে পারেন। সামাজিক কর্মকান্ডের জন্যও পার্শ্ববর্তী ব্যক্তিগত কারও জমি দখল করা আইন ও মানবতা বিরুদ্ধ ।

Mostofa

২০১৮-১১-১২ ০৭:৪২:১৫

Almighty Allah bless you and also Bangladesh .....

মো আল আমিন

২০১৮-১১-১১ ১৮:৩৩:২৪

মানবোতার এক মহান মানুষ ডা:জাফরুল্লাহ স্যার

মো:আল আমিন রাব্বি

২০১৮-১১-১১ ১৮:২৯:৫৮

মহান এক মানবোতার মানুষ ডা:জাফরুল্লাহ স্যার। বেচে থাকুক মানুষের সেবাই।

Jahangir Alam

২০১৮-১১-১১ ১৮:২২:৪০

Thanks to manobjomin .we all do not know who is Dr Jafor Ullah.

আঃমতিন

২০১৮-১১-১১ ১৮:২১:২০

আমি স্যারের দীর্ঘয়ায়ু কামনা করছি এবং যারা তার নামে মিথ্যা মামলা ওহামলা চলাছ্ছে তাদের ধ্বংস কামনা করি।

লবিব

২০১৮-১১-১১ ১৫:২৯:১৬

যারা এই মহান মানুষের বিরূদ্ধে মামলা দিল, আর যারা মামলা নিল। তারা উভয়ই পাপী। এই মহান মানুষ গুলিই বাংলাদেশ।

Md Shah Alam Sarker

২০১৮-১১-১১ ১৪:১১:৩৫

............. বিদ্যান হলেও পরিত্যায্য।

জুয়েল চৌধুরী

২০১৮-১১-১১ ১৩:৫৯:০০

জাফর উল্লাহ একটি নাম, একটি ইতিহাস ও একটি সোনার বাংলাদেশ। ধন্যবাদ মানব জমিন কে, অজানাকে জানার জন্য।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

২০১৮-১১-১১ ১২:০৯:৪৯

তাঁর প্রতি আমার অন্তরের অন্তঃস্তল থেকে রইল অফুরন্ত শ্রদ্ধা আর ভালবাসা।

মোহাম্মদ অানোয়ার হোস

২০১৮-১১-১১ ১১:৫৮:৫২

খুবই ভালো লাগলো অজানা কথাগুলো জেনে। মনের মধ্যে সুখ অনুভব করছি যে আমিও একজন বাংলাদেশি। যে দেশে ডা: জাফরুল্লাহ'র মতো সৎ ও সত্য নির্ভীক লোকের বসবাস। সালাম অাপনাকে। অাল্লাহ আপনাকে হেফাযতে রাখবেন, ইনশাঅাল্লাহ।

মোহাম্মদ নোমান

২০১৮-১১-১১ ১১:৫৬:১৭

মানবজমিন সম্পাদক কে ধন্যবাদ।জাফরুল্লাহ সাহেব কে নিয়া প্রতিবেদন করার জন্য।এই মহান মানুষটা কে কত অপমান অপদস্থ করতেছে।আল্লাহ তাদের বিচার করবে।কিছুই জানতাম না আজকে জানলাম। স্যার আপনার সাথে বিবেকবান মানুষ আছে।আপনাকে আল্লাহ সুস্থ রাখুক এই দোয়া করি।

ওমর ফারুক

২০১৮-১১-১১ ১১:৫৪:৩৭

ডা. জাফর রুল্লাহ চৌধরী সম্পর্কে আনেক কিছু জানা হল। ধন্যবাদ মানব জমিনকে একজন গুনি মানুষ সম্পর্কে লেখার জন্য।আসলে আমরা সম্মানী ব্যক্তিকে সম্মান দিতে জানি না। কারন নিজের স্বর্থে আঘাত লাগলেই সেই খারাপ।

Moh kabir

২০১৮-১১-১১ ১১:৪৬:৪৭

God bless you sir

আপনার মতামত দিন

পুলিশ প্রটোকলে আইনমন্ত্রীর গণসংযোগ

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নির্মোহ ও নিরপেক্ষ: এইচ টি ইমাম

আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার হয়ে রিকশাচালককে মারধরকারী নারী যা বললেন

‘২০১৪-তে মানুষ ভোট দিয়েছে বলেই বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল’

টাইমের বর্ষসেরা ব্যক্তিত্বের তালিকায় শহিদুল আলম

সিলেটে ঐক্যফ্রন্টের পথসভায় বাধা, মাইক খুলে নিয়েছে পুলিশ

নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন বিএনপির তমিজ উদ্দিন

‘ইসিতে অভিযোগ জানিয়ে ফেরার পথে বিএনপি নেতা আটক’

ডিসিদের রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ কেন অবৈধ নয়

আজই অনাস্থা ভোটের মুখে পড়ছেন তেরেসা মে

নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির নতুন অভিযোগ

নির্বাচন যেনো দুধ-ভাত খেলা: ববি হাজ্জাজ

সিইসি অসহায়, বিব্রত: সেলিমা রহমান

রোহিঙ্গাদের অবস্থার উন্নতি ও নৃশংসতায় দায়ীদের বিচার চায় যুক্তরাষ্ট্র

সিংড়ায় বিএনপি প্রার্থীর নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, সংবাদ সম্মেলন

বিকালে আইজিপির সঙ্গে বৈঠকে করবে বিএনপি নেতারা