তফসিল প্রত্যাখ্যান বাম জোটের

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১০ নভেম্বর ২০১৮, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:১৮
প্রধান নির্বাচন কমিশনার কর্তৃক ঘোষিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল প্রত্যাখ্যান করেছে ৮টি বাম দল নিয়ে গঠিত ‘বাম গণতান্ত্রিক জোট’। গতকাল জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা কমিটির এক সভায় গৃহীত প্রস্তাবে জোটের নেতৃবৃন্দ এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, নির্বাচনকেন্দ্রিক সংকট উত্তরণে চলমান সংলাপ ও সমঝোতার প্রয়াসকে বিবেচনায় না নিয়ে, একতরফাভাবে তফসিল প্রদান বিদ্যমান সংকট আরো ঘনীভূত করেছে। বাম জোটসহ বিরোধী রাজনৈতিক দল ও জোটের পক্ষ থেকে সংকটের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তফসিল ঘোষণা স্থগিত রাখার দাবি করা হলেও নির্বাচন কমিশন তা বিবেচনায় নেয়নি।

নির্বাচন কমিশনের এমন তফসিল ঘোষণা, বাস্তবে সরকারি দলের নির্বাচন ছকেরই অনুসরণ মাত্র। তারা বলেন, দমন-নিপীড়নের পরিস্থিতিতে দেশে যখন অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ন্যূনতম কোনো গণতান্ত্রিক পরিবেশ নেই, তখন বিরোধী দলকে চাপের মধ্যে রেখে নির্বাচনের তফসিল প্রদান যে সরকারের আরো একবার একতরফা নির্বাচনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করার উদ্দেশ্যে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সভায় আরো বলা হয়, এমনিতেই এই নির্বাচন কমিশনের উপর মানুষের কোনো আস্থা নেই। তদুপরি বিরোধী রাজনৈতিক দলসমূহের দাবি উপেক্ষা করে তফসিল ঘোষণা, বিতর্কিত ইভিএম চালুর সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুতরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
তাই ঘোষিত নির্বাচনের তফসিল স্থগিত করে রাজনৈতিক দলসমূহের মতামত বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনের নতুন তফসিল ঘোষণার দাবি জানান বাম নেতারা।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি ও জোটের অন্যতম সমন্বয়ক কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, চলমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সরকারের সঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর যে সংলাপ চলছিল, সেই সংলাপের সম্ভাবনাকে এই একতরফাভাবে তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন নাকচ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, সংলাপের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তফসিল ঘোষণা না করতে আমরা নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু নির্বাচন কমিশন আমাদের মতামতকে অগ্রাহ্য করে সরকারের ছক অনুসারেই তফসিল ঘোষণা করেছে। যা চলমান সংলাপের তাৎপর্যকে ধূলিসাৎ করেছে। আর এভাবে তফসিল ঘোষণা আসলে জনমতকে উপেক্ষা করে একতরফা নির্বাচনের একটা ফাঁদ ছাড়া কিছু না বলেও জানান তিনি। অপ্রয়োজনীয়ভাবে দ্রুততার সঙ্গে তড়িঘড়ি করে এই তফসিল ঘোষণার বিষয়টি খুবই উসকানিমূলক।

তিনি বলেন- অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের ন্যূনতম অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত না করে, উল্টো বিরোধী দলকে অপ্রস্তুত ও দমন-পীড়নের মধ্যে রেখে তফসিল ঘোষণা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার জন্য মাত্র ১০ দিন সময় বেঁধে দেয়াও অগ্রহণযোগ্য বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, বিরোধী দলগুলোর জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ অসম্ভব করে তুলে, ফাঁকা মাঠে গোল দেয়ার ক্ষেত্র প্রস্তুত করার একটি ফাঁদ ছাড়া এটি আর কিছুই নয়। সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে, আগে অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। আর এজন্য নির্বাচন কমিশনকে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। এসবের পরই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা কাঙ্ক্ষিত ও গ্রহণযোগ্য হবে বলে জানান তিনি। বাম জোটের প্রধান সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন জোটের কেন্দ্রীয় নেতা শাহ আলম, বজলুর রশীদ ফিরোজ, জোনায়েদ সাকি, মোশাররফ হোসেন নান্নু, আলমগীর হোসেন দুলাল প্রমুখ।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Mohammad Sahid Ullah

২০১৮-১১-১০ ০১:১৯:৩৭

Nothing will happen without government wish.

আনিস উল হক

২০১৮-১১-০৯ ১৯:৫৩:২১

আপনারা আপনাদের পরিচয়ে ভবিষ্যতে ও কোন নির্বাচনে যাবেন বলে মনে হয় না।

আপনার মতামত দিন

রাতে থমথমে নয়াপল্টন

দলের সিদ্ধান্ত না মানলে আজীবন বহিষ্কার

তাহলে বলে দিক, নির্বাচন করো না

৩ সপ্তাহ ভোট পেছানোর দাবি ঐক্যফ্রন্টের বিবেচনার আশ্বাস ইসির

ফের হেলমেট বাহিনী!

নয়াপল্টনে শোডাউন আচরণবিধির লঙ্ঘন নয়: ইসি সচিব

হামলাকারীরা ছাত্রলীগের

মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে পুলিশের ওপর হামলা

ভোট একদিনও পেছানো ঠিক হবে না

পুলিশের ওপর হামলা পরিকল্পিত- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে জটিলতা

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের খসড়া ইশতেহারে ৫ প্রতিশ্রুতি

ঘরের আগুনে পুড়ছে আওয়ামী লীগ, বিকল্প নেই খসরুর

নবীগঞ্জে মহাজোট প্রার্থী নিয়ে চমক

মনিরুল হক চৌধুরী অসুস্থ, জামিন মেলেনি

অর্ধশতাধিক ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব এবার নির্বাচনী মাঠে