ধর্ষণের শিকার গৃহবধূর আত্মহত্যার চেষ্টা

দেশ বিদেশ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি | ১০ নভেম্বর ২০১৮, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৯:৪৭
এয়ার হোসেন সোহেল নামে পুলিশের এক এসআইয়ের বিরুদ্ধে টানা ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছে এক গৃহবধূ। ধর্ষণ থেকে বাঁচতে ওই গৃহবধূ হারপিক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। বর্তমানে ওই গৃহবধূ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অভিযুক্ত এসআই এয়ার হোসেন সোহেল চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজীদ থানায় কর্মরত। এর আগে তিনি কর্ণফুলী থানার শাহ-মিরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ধর্ষণের শিকার গৃহবধূর স্বামী শাহজাহান শেখ (৪৮) গত ৪ঠা নভেম্বর চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মিজানুর রহমানের বরাবরে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করে এসআই এয়ার হোসেন সোহেলের বিচার দাবি করেছেন। অভিযোগের পর ধর্ষিতা ও তার স্বামীকে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার, এমনকি প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন। ফলে তারা নগরীর এক স্থান থেকে অন্যস্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে জানান শাহাজাহান শেখ।
শাহাজাহান শেখ জানান, তিনি ঢাকায় দর্জির ব্যবসা করেন। ঢাকার মোহাম্মদপুর থানায় থাকা অবস্থায় এসআই এয়ার হোসেন সোহেলের সঙ্গে তার পরিচয়। সেখানে বাসায় আসা-যাওয়া করতেন এয়ার হোসেন সোহেল। কিন্তু কয়েকদিন পর তিনি সেখান থেকে বদলি হয়ে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানায় আসেন। এরপর পোশাক কারখানায় স্ত্রীকে চাকরি ও আমাকে শহরে একটি দোকান নিয়ে দেয়ার আশ্বাস দেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। যা বিশ্বাস করে গত ১৫ই আগস্ট স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রামে আসেন তিনি। এরপর নগরীর বাকলিয়া থানার কালামিয়ার বাজার এলাকায় হারুন সাহেবের ভবনের ৫ম তলায় বাসা নিয়ে বসবাস শুরু করেন। সেখানে গত ১৮ই আগস্ট রাতে এসে জোরপূর্বক বাসায় থাকেন এসআই এয়ার হোসেন সোহেল। সেখানে শরীরে অসুস্থতার কথা বলে সাহায্য চাওয়ার নামে আমার স্ত্রীকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন তিনি। প্রতিবাদ করলে ইয়াবা দিয়ে আমাকে চালান ও মেরে ফেলার ভয় দেখায়। এরপর থেকে টানা ৯ দিন আমার স্ত্রীকে ধর্ষণ করে এসআই এয়ার হোসেন সোহেল। একপর্যায়ে নির্যাতন সইতে না পেরে
আমার স্ত্রী হারপিক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মিজানুর রহমান বলেন, এসআই এয়ার হোসেন সোহেলের বিরুদ্ধে গৃহবধূ ধর্ষণের একটি অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। বিষয়টি সমাধান করার জন্য তাকে বলা হয়েছে। তবে, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য যদি এই জঘন্য কাজ করে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে আমরা বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এসআই এয়ার হোসেন সোহেল ধর্ষণের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন।

তিনি বলেন, সরলতার সুযোগ নিয়ে ওই দম্পতি আমাকে ব্লাকমেইল করছে। ধর্ষণের বিষয়টি অস্বীকার করলেও পুলিশ কর্মকর্তা এয়ার হোসেন সোহেল ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য প্রমাণ ও স্বীকারোক্তিমূলক কল রেকর্ড রয়েছে। ধর্ষণের শিকার হওয়া গৃহবধূকে মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ভর্তি ফরমেও স্বাক্ষর আছে এই পুলিশ কর্মকর্তার। এ ছাড়া এ দম্পতির সঙ্গে ঢাকায় পরিচয়, সেখান থেকে তাদের চট্টগ্রামে আনা, বাসা ভাড়া করে দেয়া, দোকানের ব্যবস্থা করে দেয়ার কথা দৈনিক মানবজমিনের কাছে স্বীকার করেছেন এসআই এয়ার হোসেন সোহেল।




এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

মার্চে জাতীয় কাউন্সিল করতে পারে বিএনপি

জাপানে বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীর ছবি নিয়ে তোলপাড়

দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ার নির্দেশ

প্রতি তিনজনে একজন নারী পারিবারিক সহিংসতার শিকার

বর্বরতা!

ঐক্যফ্রন্টের জাতীয় সংলাপ ৬ই ফেব্রুয়ারি

জানুয়ারিতে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে ১৩০০ রোহিঙ্গা

প্লাস্টিক ও গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ মেলার উদ্বোধন

বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গারা ভারতীয় পাসপোর্টে যাচ্ছে সার্বিয়া

সালমান এফ রহমানকে উপদেষ্টা করায় প্রধানমন্ত্রীকে এফবিসিসিআই ও ঔষধ শিল্প সমিতির অভিনন্দন

৮৮ ‘বাংলাদেশির’ ভারতীয় নাগরিকত্বের দরখাস্ত বিবেচনাধীন

রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ, ১৫ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ গঠন

সন্ত্রাস-দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স সুশাসনের অঙ্গীকার

আশা করি বিএনপি সংসদে যাবে: আইনমন্ত্রী

হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া ১০ হাজার টাকা কমলো

মার্চে প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা