গোয়েন্দাজাল-৮

মোসাদ-‘র’ কানেকশন

বিশ্বজমিন

মোহাম্মদ আবুল হোসেন | ৮ নভেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:১৪
২০০৩ সালে ভারতের অনলাইন রেডিফ একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, ভারতের বৈদেশিক বিষয়ক গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড এনালাইসিস উইংয়ের (র) সঙ্গে গোপন সম্পর্ক রয়েছে মোসাদের। ভারতের গোয়েন্দা মাস্টার হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় রামেশ্বরনাথ কাও’কে (জন্ম ১৯১৮ সালের ১০ই মে। মৃত্যু ২০০২ সালের ২০ শে জানুয়ারি)। ভারতের বৈদেশিক গোয়েন্দা শাখা ‘র’ প্রতিষ্ঠা করেন তিনি ১৯৬৮ সালের সেপ্টেম্বরে। এরপর তিনিই হন এর প্রথম প্রধান। তখন তাকে ভারতের সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী পরামর্শ দিয়েছিলেন মোসাদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে। পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে সামরিক যোগাযোগের পাল্টা হিসেবে এমন পরামর্শ দেয়া হয়েছিল।
ইসরাইল উদ্বিগ্ন ছিল এ নিয়ে যে, পাকিস্তানি সেনারা লিবিয়ান ও ইরানিয়ানদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল। এক্ষেত্রে তারা ব্যবহার করছে চীন ও উত্তর কোরিয়ার সামরিক সরঞ্জাম। অন্যদিকে পাকিস্তান মনে করতো ভারত ও ইসরাইলের মধ্যে গোয়েন্দা যোগাযোগের কারণে ঝুঁকিতে পড়তে পারে পাকিস্তানের নিরাপত্তা। ১৯৯০ এর দশকের শুরুর দিকে কাশ্মির উপত্যকা সফর শুরু করে ইসরাইলের যুবক, তরুণরা। এ সময় পাকিস্তান বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারে নি। তারা মনে করেছে, এসব ইসরাইলি ভারতের সন্ত্রাস বিরোধী অপারেশনে তাদেরকে সহায়তা করতে এসেছে এবং তাদেরকে পাঠিয়েছে ইসরাইল। ফলে ইসরাইলের পর্যটকদের ওপর হামলা হয়। একজনকে হত্যা করা হয়। একজনকে অপহরণ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী কাশ্মিরি মুসলিমদের চাপের মুখে ওই অপহৃতদের ছেড়ে দেয়া হয়। কাশ্মিরি মুসলিমদের আতঙ্ক ছিল যে, এমন সব হামলার ফলে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে আমেরিকার ইহুদি সম্প্রদায়। আর তাতে কাশ্মিরে স্বাধীনতার দাবিদারদের ওপর চাপ বাড়বে।
১৯৮৭ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যবর্তী সময়ে ‘র’য়ের প্রধান ছিলেন আনন্দ কুমার বর্মা। তার বিরুদ্ধে অর্জিত সম্পদে গরমিল থাকার একটি মামলা দিল্লি হাইকোর্টে করেন ‘র’য়ের সাবেক কর্মকর্তা আর কে যাদব, সেই ১৯৯৬ সালে। ওই মামলায় আনন্দ কুমার বর্মার আটটি সম্পদের উল্লেখ করেন আরকে যাদব। তার দাবি, অডিট হয় নি ‘র’য়ের এমন তহবিল ব্যবহার করে আনন্দ কুমার বর্মা ওই সম্পদ অর্জন করেছেন। ওই তহবিলটি ছিল সিক্রেট অপারেশনের জন্য। এ জন্য তিনি আনন্দ কুমার বর্মার সম্পদের তথ্য তদন্তের জন্য সিবিআইয়ের তদন্ত দাবি করেন। কিন্তু তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। এর ফলে আর কে যাদব তথ্যপ্রযুক্তির অধীনে ২০০৫ সালে আরো কিছু তথ্য পান। ফলে আরও একটি মামলা করেন ২০০৯ সালে। অবশেষে ২০১৩ সালে আনন্দ কুমার বর্মার সম্পদের বিষয়ে তদন্ত করে সিবিআই। বিচার প্রক্রিয়ায় দিল্লি হাই কোর্টে দুটি কোম্পানির নাম উঠে আসে। ১৯৮৮ সালে ‘র’ এসব কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে। এর একটি হলো পিযুষ ইনভেস্টমেন্টস এবং অন্যটি হলো হেক্টর লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড। এ প্রতিষ্ঠান দুটির প্রধান ছিলেন ‘র’য়ের সিনিয়র দু’জন কর্মকর্তা ভি বালাচন্দ্রন এবং বি রমন। বালাচন্দ্রন ১৯৯৪ এবং রমন ১৯৯৫ সালে অবসরে যান। এ কোম্পানিগুলোকে দেখানো হয়েছিল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে। বলা হয়েছিল, এরা খনিজ, অটোমোবাইল, বস্ত্র, ধাতব ও খুচরা যন্ত্রাংশ নিয়ে কাজ করে। পাশাপাশি তারা ফিচার ফিল্ম বানায় বলে দাবি করা হয়। এ দুটি কোম্পানি নয়া দিল্লির হ্যালি রোডে গৌরি সদন নামে একটি আবাসিক ভবনের দুটি ফ্লাট কেনে ১৯৮৯ সালে। ২৩ লাখ রুপির বিনিময়ে তা কেনা হয়।
ইন্ডিয়া টুডে রিপোর্ট করেছে যে, এই দুটি ফ্লাট ছিল ‘র’য়ের নিরাপদ আস্তানা। এটি ব্যবহার করেছিল মোসাদের এজেন্টরা এবং তাদের স্টেশন প্রধান ১৯৮৯ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত এই ফ্লাটেই থাকতেন। রিপোর্টে বলা হয়, মোসাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ‘র’। এর পরবর্তী গোপন সব অভিযানে তাদেরকে অনুমোদন দিয়েছিলেন ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী। ইন্ডিয়া টুডে ‘র’য়ের ভিতরের সূত্র উল্লেখ করে রিপোর্ট করে যে, আর্জেন্টিনার পাসপোর্টধারী একজন মোসাদ এজেন্টকে আশ্রয় দিয়েছিল ‘র’। তার সঙ্গে গোয়েন্দা ও বিশেষজ্ঞ অপারেশনের বিষয়ে বিনিময় করা হতো। এর মধ্যে ১৯৯১ সালের জুনে জম্মু-কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্টের উগ্রপন্থিদের কাছ থেকে একজন ইসরাইলি পর্যটককে উদ্ধারে সমঝোতা করে। এ মামলা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আনন্দ কুমার বর্মা কোম্পানি ইস্যুতে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, তাদের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল নিতান্তই পেশাগত। তখন রমন বলেছিলেন, মাঝে মাঝে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাদের কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য কোম্পানি চালু করে। আমি যেটা বলতে পারি তা হলো, যা করা হয়েছিল তার সবটাই সরকারের অনুমতিতে করা হয়েছিল। এ সংক্রান্ত ফাইল তখন ক্লিয়ারেন্স দিয়েছিলেন তখনকার প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী ও তার মন্ত্রীপরিষদ সচিব। অন্যদিকে বালাচন্দ্রন বলেন, এটা সত্য যে, আমরা অনেক বড় অভিযান পরিচালনা করেছি। কিন্তু প্রতিটি পদক্ষেপেই মন্ত্রীপরিষদ সচিবালয় ও প্রধানমন্ত্রীর নজরে রেখেছি।
২০১৫ সালের নভেম্বর।
দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া রিপোর্ট করে যে, তুরস্ক সফরকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সুরক্ষা দেবে মোসাদের এজেন্ট ও এমআই ৫। ওই সময় রাষ্ট্রীয় সফরে বৃটেনে ছিলেন মোদি। সেখান থেকে তার ২০১৫ সালে তুরস্কের আন্তালিয়ায় জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেয়ার কথা ছিল। ওই পত্রিকাটি আরো বলে, মোদির বাড়তি নিরাপত্তার জন্য ওইসব এজেন্টকে ডাকা হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত থাকবে ভারতের স্পেশাল প্রটেকশন গ্রুপ, ‘র’য়ের গোপন এজেন্ট ও আইবি। ২০১৫ সালের নভেম্বরে প্যারিস হামলার প্রেক্ষিতে এসব ব্যবস্থা নেয়া হয়।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

দুই বোনের এক প্রেমিক ও...

গণফোরামে রেজা কিবরিয়া, ঐক্যফ্রন্টের হয়ে লড়বেন হবিগঞ্জে

‘জামাতা জড়িত, ১০ হাজার টাকায় চুক্তি হয় চালকের সঙ্গে’

২ খেমাররুজ নেতা দোষী সাব্যস্ত

ফেসবুক প্রধান মার্ক জাকারবার্গকে পদত্যাগের চাপ

ভারতে নারী অধিকারকর্মীদের নিয়ে তসলিমা নাসরিনের বিস্ময়

ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের গাড়িবহরে হামলা, নিন্দা

‘ভোট লুট হোক, চায় না ভারত’

যেভাবে সম্পন্ন হবে ব্রেক্সিট

তেরেসা মে’র ৫ কান্ডারি

সিএমএইচে এরশাদ

মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিন্দা জানিয়ে প্রস্তাব গৃহীত জাতিসংঘে

ক্ষমতায় গেলে যেসব কাজ করবে ঐক্যফ্রন্ট, জানালেন জাফরুল্লাহ

প্রিন্স সালমানের নির্দেশেই খাসোগিকে হত্যা করা হয়েছিল- সিআইএ

বাংলাদেশের নির্বাচন ও মানবাধিকার নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতি কতিপয় সুপারিশ

প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন চায় না নির্বাচন কমিশন: শাহাদাত