চিলমারীতে গৃহহীন মানুষের স্বপ্নের নীড়

বাংলারজমিন

মো. সাওরাত হোসেন সোহেল, চিলমারী (কুড়িগ্রাম) থেকে | ৮ নভেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার
কখনো বন্যা আবার কখনো ভাঙন কেড়ে নেয় তাদের স্বপ্ন, ভেঙে দেয় আশা এবং চলার প্রত্যাশা। সব হারিয়ে অনেকেই হয়ে গেছেন নিঃস্ব। আবার অনেকের জায়গা থাকলেও নেই আশ্রয়স্থল। আর মানুষ যখন খুঁজছিল আশ্রয় আর সেই সময় এগিয়ে এসেছিল সরকার, দিয়েছে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে আর ‘আশ্রয়ণের অধিকার শেখ হাসিনার উপহার’- এই স্লোগানকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানের ন্যায় কুড়িগ্রামের চিলমারীতে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর জমি আছে ঘর নাই প্রকল্পের পক্ষ থেকে ১০৮টি পরিবার খুঁজে পেয়েছে তাদের স্বপ্নের নীড়।  
শাহেরা বেগম। চিলমারী উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের নতুন গ্রামের বাসিন্দা। ৬ বছর বয়সে বাবাকে হারায় শাহেরা। তার মা ছোট ৩ ভাই-বোনকে নিয়ে চলে আসে মামার বাসায়।
বাধ্য হয়ে ৯ বছর বয়সে বিয়ের পিঁড়িয়ে বসতে হয় তাকে ১১ বছর বয়সে। প্রায় ৪০ বছর আগে স্বামী হারাতে হয় শাহেরাকে। অভাবের সংসারে মা-মেয়ে মিলে অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেই চলতো তাদের কষ্টের জীবন। এক সময় মা-ও তাকে ছেড়ে চলে যায় এর মধ্যে ভাই ও বোনের বিয়ে হয়ে যায়। একা হয়ে পড়ে সে। মামার বাড়িতে থাকা আর অন্যের বাড়ির কাজ করেই চলে তার জীবন সংসার। আর্থিক অসচ্ছলতার জন্য তখন মামার দেয়া ওই জমিতে ঘর তুলতে পারেননি শাহেরা। স্বপ্ন ছিল ওই জমিতে একটি ঘর করবেন। কিন্তু নুন আনতে পানতা ফুরানোর সংসারে  সেই স্বপ্ন আর পূরণ হচ্ছিল না তার। অবশেষে সরকারের দেয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ (জমি আছে ঘর নাই) প্রল্পের পক্ষ থেকে চলতি বছরের অক্টোবর মাসে শাহেরাকে সরকারি খরচে উক্ত জমিতে একটি সেমিপাকা ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। শাহেরার মতো অনেকের স্বপ্নপূরণ হয়েছে।

জীবনের বেশির ভাগ বছর মানুষের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালিয়েছেন এখন বৃদ্ধ বয়সে ভিক্ষা করছে সরবালা। নিজের বলতে ছিল ছোট একটি জমিতে ছেলের তৈরি একটি ছোট ভাঙ্গা ঘর। সেই ঘরেই ছেলে, ছেলের বউ ও নাতি-নাতনি নিয়ে রোদ বৃষ্টিতে কষ্টেই ছিলেন তিনি। আবার শীতের সময় টিনের ফাঁক দিয়ে ঘরে ঢুকতো কনকনে ঠাণ্ডা হাওয়া। দিন কেটে যেত এভাবেই। নিজের ভিটেতে আর একটি নতুন করে ঘর তুলবেন, এটা ছিল নিকট স্বপ্নের মতো। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন পূরণ করেছে সরকার। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিএ জোবাইদুল ইসলাম জানান, ‘যার জমি আছে ঘর নেই তার নিজ জমিতে গৃহনির্মাণ প্রকল্পের’ আওতায় এ উপজেলায় ৬ ইউনিয়নের ১০৮টি পরিবারকে  সরকারি খরচে ঘর
বানিয়ে দেয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অতি:) মুহ: রাশেদুল হক প্রধান জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ নামে প্রকল্পের এক পত্রে এ  ঘোষণা  দেয়া হয়েছে বাংলাদেশে কোনো লোক গৃহহীন থাকবে না। সেটির অংশ হিসেবে এই উপজেলাকে এ প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। অসহায় মানুষজনও এখন খুঁজে পাচ্ছে তাদের একটি আশ্রয় একটি ঠিকানা সেই সঙ্গে সরকারের এই প্রকল্পটি ব্যাপক সাড়াও ফেলেছে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

‘লেভেল প্লেইংয়ের বিষয়টা এখন পুরোপুরি ইসির ওপর’

দুই বোনের এক প্রেমিক ও...

গণফোরামে রেজা কিবরিয়া, ঐক্যফ্রন্টের হয়ে লড়বেন হবিগঞ্জ-১ আসনে

‘জামাতা জড়িত, ১০ হাজার টাকায় চুক্তি হয় চালকের সঙ্গে’

২ খেমাররুজ নেতা দোষী সাব্যস্ত

ফেসবুক প্রধান মার্ক জাকারবার্গকে পদত্যাগের চাপ

ভারতে নারী অধিকারকর্মীদের নিয়ে তসলিমা নাসরিনের বিস্ময়

ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের গাড়িবহরে হামলা, নিন্দা

‘ভোট লুট হোক, চায় না ভারত’

যেভাবে সম্পন্ন হবে ব্রেক্সিট

তেরেসা মে’র ৫ কান্ডারি

সিএমএইচে এরশাদ

মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিন্দা জানিয়ে প্রস্তাব গৃহীত জাতিসংঘে

ক্ষমতায় গেলে যেসব কাজ করবে ঐক্যফ্রন্ট, জানালেন জাফরুল্লাহ

প্রিন্স সালমানের নির্দেশেই খাসোগিকে হত্যা করা হয়েছিল- সিআইএ

বাংলাদেশের নির্বাচন ও মানবাধিকার নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতি কতিপয় সুপারিশ