ইরানের ওপর ‘সর্বকালের কঠোরতম’ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ৫ নভেম্বর ২০১৮, সোমবার
ইরানের ওপর কার্যকর হয়েছে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা। মার্কিন প্রশাসন বলছে, দেশটির বিরুদ্ধে এটি ‘সর্বকালের কঠোরতম’ অবরোধ। ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে হওয়া পারমাণবিক চুক্তির আওতায় যেসব নিষেধাজ্ঞা বাতিল করা হয়েছে সেগুলো পুনঃস্থাপিত হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা শুধু ইরানের ওপরই প্রযোজ্য হবে না, যেসব রাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক রাখবে তাদের ওপরও কার্যকর হবে। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
খবরে বলা হয়, এই নিষেধাজ্ঞা তেলসমৃদ্ধ দেশটির একেবারে মূল বিষয়াটিকে টার্গেট করবে, যেমন, তেল রপ্তানি, জাহাজ চলাচল ও ব্যাংক ব্যবস্থা।

একদিন আগেই আমেরিকাবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে তেহরানে। হাজার হাজার মানুষ এতে অংশ নিয়েছেন। ইরানের সামরিক বাহিনী বলেছে, দেশের প্রতিরক্ষা সামর্থ্যের প্রমাণ রাখতে আকাশ প্রতিরক্ষা মহড়া চালানো হবে।

তেহরানে মার্কিন দূতাবাস অবরোধের ৩৯তম বার্ষিকীতে ওই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই এক ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে চার দশকের শত্রুতার সূচনা ঘটে।

একইদিন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে অংশ নিতে যাওয়ার আগে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপের কারণে ইরান ইতিমধ্যেই হিমসিম খাচ্ছে। তার ভাষ্য, ‘ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাসমূহ খুবই কঠোর। আমাদের আরোপ করা কঠোরতম নিষেধাজ্ঞা। আমরা দেখবো ইরানে কী ঘটে। কিন্তু তাদের অবস্থা খুব ভালো নয়, তা আমি বলতে পারি।’

২০১৫ সালে ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাক্সক্ষার লাগাম টেনে ধরতে দেশটির সঙ্গে একটি চুক্তি করে বিশ্বসম্প্রদায়। কিন্তু ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার আগে থেকেই এই চুক্তির কট্টর বিরোধী ছিলেন। তিনি এ বছরের মে মাসে এই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেন। এবার তিনি চুক্তি-পূর্ব নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করলেন।

ওয়াশিংটন বলছে, সাইবার হামলা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এবং মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও মিলিশিয়া গোষ্ঠীকে সহায়তা প্রদান সহ ইরানের ‘নাশকতামূলক কর্মকা-’ প্রতিহত করার জন্যই এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
মে মাসে চুক্তি থেকে সরে আসার পরপরই ক্রমান্বয়ে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, এই দফার নিষেধাজ্ঞাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এর আওতায় রয়েছে ৭০০ ব্যক্তিবিশেষ, প্রতিষ্ঠান, নৌযান, বিমান। এছাড়া রয়েছে বৃহৎ ইরানি ব্যাংক, তেল রপ্তানিকারক ও জাহাজ কোম্পানি।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, নিষেধাজ্ঞার হুমকির মুখে ইরান থেকে এরই মধ্যে শতাধিক আন্তর্জাতিক কোম্পানি সরে গেছে। এছাড়া ইরানের তেল রপ্তানি দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেল হ্রাস পেয়েছে। ফলে দেশটির প্রধানতম অর্থনৈতিক উৎস সঙ্কুচিত হয়ে উঠছে। এছাড়া ব্রাসেলস-ভিত্তিক সুইফট নেটওয়ার্ক কর্তৃপক্ষও নিজেদের আন্তর্জাতিক লেনদেনের নেটওয়ার্ক থেকে নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন ইরানি প্রতিষ্ঠানকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে মার্কিন মিত্ররাষ্ট্র যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্স এই নিষেধাজ্ঞায় আপত্তি জানিয়েছে। এই দেশগুলো এখনও ওই পারমাণবিক চুক্তির প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ। যেসব ইউরোপিয়ান প্রতিষ্ঠান ইরানের সঙ্গে ‘বৈধ ব্যবসা’ করবে তাদেরকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারা। এছাড়া ইরানের জন্য বিশেষ বিকল্প লেনদেন ব্যবস্থাও তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়েই ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবে অনেক ইউরোপিয়ান কোম্পানি। তবে বিশ্লেষকরা এর কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Ismail hossain

২০১৮-১১-০৫ ২১:৩৬:৩২

আমরা ৩য় বিশ্ব যুদ্ধ দেখতে চায় না! দ্রুত যেন সমস্যার একটি ভালো সমাধান হয় সেই কামনা করছি।

আপনার মতামত দিন

চার বছর আগের এক মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

‘ইস্যু নয়, সৌহাদ্যপূর্ণ সফরেই দিল্লি যাচ্ছি’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মতে, সামান্য সংখ্যক বাংলাদেশি উপকৃত হবে

এসএসসি চলাকালীন কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে এক মাস

টাকার বিনিময়ে...

বরগুনায় অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে বাসায় ডেকে ধর্ষণ

ভারতে ইভিএম বন্ধ করার দাবিতে কমিটি গঠন

প্রশাসনে চার নতুন সচিব

সুনামগঞ্জে বেড়াতে এসে সাঁওতাল তরুণী ধর্ষিত

রিজার্ভ চুরির টাকা উদ্ধারে চলতি মাসেই মামলা

অপহৃত শিশুর লাশ খেলো শিয়াল-কুকুর, আটক ২

সৌদি থেকে রাতে ফিরবেন ৮০ নির্যাতিতা নারী

লালপুরে পৌর কাউন্সিলরকে কুপিয়ে হত্যা

টিউলিপের সন্তানের ছবি প্রকাশ

‘গ্যাসের উৎপাদন, বিতরণ ও সঞ্চালন মূল্য বৃদ্ধি কেন অবৈধ নয়’

কোন দেশে নির্বাচন নিখুঁত হয়, জাতিসংঘকে পাল্টা প্রশ্ন কাদেরের