তরুণদের কাছে ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ২২ অক্টোবর ২০১৮, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৪৬
তরুণ প্রজন্মকে দেশের সব থেকে বড় শক্তি আখ্যায়িত করে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আগামী নির্বাচনে তাদের 
ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের শাসনে গত দশ বছরে দেশের জনগণ অভূতপূর্ব উন্নয়ন প্রত্যক্ষ করেছে। কাজেই আমাদের সব থেকে বড় শক্তি তরুণ প্রজন্মের কাছে আগামী নির্বাচনের জন্য ভোট চাইব যাতে করে দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতাটা বজায় থাকে।
গতকাল গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়াধীন বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী চারটি জেলার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত থেকে উপজেলা পর্যায়ের ৬৬টি শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম, ৬টি জেলার যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-র সিনথেটিক টার্ফ সমৃদ্ধ মাল্টি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করেন এবং স্থানীয় জনসাধারণ এবং উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, আগামী নির্বাচনে যদি বাংলাদেশের জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দেয় এবং আমরা যদি আবারো সরকার গঠন করে দেশের সেবা করতে পারি তাহলে আমি এটা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে পারি-২০২০ সালের মধ্যে দেশে কোনো ক্ষুধা-দারিদ্র্য থাকবে না এবং দেশকে আমরা আরো উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবো।

প্রধানমন্ত্রী যুবসমাজের কাছে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, আমাদের যুবসমাজ দেশের উন্নয়নে তাদের মেধা এবং মননকে কাজে লাগাবে এবং নতুন নতুন চিন্তা-ভাবনা করবে যেন এই দেশকে আরো দ্রুত কীভাবে উন্নত করে গড়ে তোলা যায়। তিনি বলেন, আমরা যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে দেশের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। সেই সঙ্গে আমরা ক্রীড়া এবং যুব উন্নয়নকে সবসময় গুরুত্ব দিই। ভিডিও কনফারেন্সে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন সিকদার, ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় এবং বিকেএসপি’র মহাপরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আনিসুর রহমান বক্তৃতা করেন। মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জাহিদ আহসান রাসেল এসময় গণভবন প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ যখনই জনগণের ভোট পেয়ে সরকার গঠন করেছে তখনই খেলাধুলাসহ দেশের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করেছে।

যতবেশি খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিচর্চায় আমাদের ছেলেমেয়েদের আমরা সম্পৃক্ত করতে পারবো তত বেশি তাদের চরিত্র অনমনীয়, দৃঢ় হবে। তারা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হবে এবং মাদক, জঙ্গি- এ ধরনের কোনো বিপথে যাবে না।
উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখাটা জরুরি উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ এবং এই গতিধারাটা আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে; কারণ জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন এবং আমাদের দেশকে আমাদেরই এখন এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তার রাজনৈতিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ২০২০ সালে আমরা জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন করবো আর ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে বাংলাদেশ হবে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ। আর ২০৪১ সালে হবে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ। তিনি বলেন, আজকের যারা শিশু-কিশোর এবং তরুণ তাদের ভবিষ্যৎটা যেন আরো বেশি সুন্দর ও উজ্জ্বল হয়, সফল হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখেই তার সরকার শতবর্ষ মেয়াদি ‘ডেল্টা প্ল্যান-২১০০’ গ্রহণ করেছে।

এমএনপি সেবার উদ্বোধন: তরুণ প্রজন্মের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য নিজের বর্তমানকে উৎসর্গ করেছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার বর্তমান পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য সম্ভাব্য সবধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, আমার বর্তমানকে আমি উৎসর্গ করেছি তরুণ প্রজন্মের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য, তারাই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়বে। যতক্ষণ ক্ষমতায় আছি পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপই গ্রহণ করবো।’ গতকাল গণভবন থেকে মোবাইল ফোন নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর বদলে ‘মোবাইল নাম্বার পোর্টেবিলিটি’ (এমএনপি) সেবার উদ্বোধনকালে প্রদত্ত ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি আমার বর্তমানকে উৎসর্গ করছি তরুণদের ভবিষ্যতের জন্য। আমাদের বর্তমান, আমরা তো চলেই যাচ্ছি। আমাদের বর্তমানে যতটুকু কাজ আমরা এগুতে পারি সেটা আমরা উৎসর্গ করেছি তরুণ প্রজন্মের জন্য। তিনি বলেন, তারা আমাদের ভবিষ্যৎকে গড়ে তুলবে, এগিয়ে নিয়ে যাবে। এই চলার গতিটা যেন কখনো থেমে না যায়। তরুণদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ছেলেমেয়েদের এটাই বলবো যে মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া শিখতে হবে। আর প্রযুক্তি ব্যবহারে আরো অভ্যস্ত হতে হবে। প্রযুক্তির ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে।

যত দিন যায় প্রতিনিয়ত আধুনিক প্রযুক্তি বের হয়। ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। বিটিআরসি চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইমরান আহমেদ, নাহিন রাজ্জাক এমপি এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও গণভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং মোবাইল অপারেটর সার্ভিসের কর্মকর্তাবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

mahady hasan

২০১৮-১০-২২ ০৯:৩৯:৪৯

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, যুব সমাজের এখন অন্যতম অন্তরায় ''বয়স'' আশা করি আমাদের এই ছোট্ট দাবিটি আপনি আমলে নেবেন।

আপনার মতামত দিন

ইবি’র 'সি' ইউনিটের পরীক্ষা বহাল

তাদের সবাইকে জেলে ভরে রাখা উচিত: জয়

জামিন পেলেন আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলম

ব্রেক্সিট: পদত্যাগ করেছেন উত্তর আয়ারল্যান্ড বিষয়ক মন্ত্রী

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিক্ষোভ, শ্লোগান

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে অনিশ্চিত মাশরাফি

ধানের শীষে লড়বে ঐক্যফ্রন্ট

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিলেন যারা

বিএনপিতে ফিরলেন সাবেক এমপি আব্দুর রশিদ

জোটবদ্ধ নির্বাচন হলেও সম্মানজনক আসন পাবো

নেতা-কর্মীরাই সামলাচ্ছেন সড়কের জট

চীন বা রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে হেরে যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্র!

গ্যাটকো মামলায় খালেদার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ১০ জানুয়ারি

‘ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কর্মীরা পুলিশের গাড়িতে আগুন দেয়’

পল্টনে হামলা বিএনপির পূর্ব পরিকল্পিত

ফেনীতে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলার রায় যুবকের যাবজ্জীবন