নি র্বা চ নী হা ল চা ল গাইবান্ধা ১

জাপার দুর্গে আওয়ামী লীগের দৃষ্টি

শেষের পাতা

সিদ্দিক আলম দয়াল, গাইবান্ধা থেকে | ২১ অক্টোবর ২০১৮, রোববার | সর্বশেষ আপডেট: ১:২৭
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন। এ নির্বাচনকে ঘিরে চলছে ব্যাপক আলোচনা। সম্ভাব্য প্রার্থীরা মনোনয়ন পেতে মরিয়া। তারা এলাকায় সরব প্রচারণার পাশাপাশি হাই কমান্ডে চালাচ্ছেন লবিং। সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত গাইবান্ধা-১ আসন। নির্বাচনকে ঘিরে তাই সুন্দরগঞ্জের সর্বত্র লেগেছে ভোটের হাওয়া। শহর-বন্দর হাট-বাজারে চলছে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা। সেই সঙ্গে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা দলকে সংগঠিত করতে নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছেন।


গাইবান্ধা-১ আসনটি মূলত জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত। এ অবস্থায়ও ২০০১ সালে ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন জামায়াত প্রার্থী মওলানা আব্দুল আজিজ। এছাড়া জাতীয় পার্টির হাফিজুর রহমান প্রামানিক ৩ বার, ওয়াহেদুজ্জামান সরকার ১ বার এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ডা. মো. আব্দুল কাদের খান ১ বার এ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে জামায়াত প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ায় সাংগঠনিকভাবে এখানে জামায়াত শক্তিশালী অবস্থানে চলে যায়। গোটা উপজেলায় জামায়াতের ব্যাপক প্রভাব বৃদ্ধি পায়। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতা মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার মৃত্যুর পর আওয়ামী লীগের গোলাম মোস্তফা নির্বাচিত হন। সড়ক দুর্ঘটনায় গোলাম মোস্তফার মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আফরোজা বারীকে হারিয়ে নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির নেতা ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। ইতিমধ্যে তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গ্রামীণ দরিদ্র জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য ফ্রি-অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করে আলোচনায় আসেন তিনি। নির্বাচিত হয়ে মানুষের মনে নাড়া দিতে এমপি শামীম হায়দার উন্নয়ন কাজ নিয়ে সামনে হাজির হচ্ছেন। সুন্দরগঞ্জে বিনোদন পার্ক করতে কাজ করছেন। নদী ভাঙন প্রতিরোধে ব্যাপক কাজ করে মানুষের মন জুগিয়েছেন ।

এক পৌরসভা ও ১৫ ইউনিয়ন নিয়ে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) সংসদীয় আসন। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৪২৬ জন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হাফ ডজন সম্ভাব্য প্রার্থী মনোনয়ন পেতে জেলা এবং কেন্দ্রীয় পর্যায় দৌড়ঝাঁপ করছেন। এর মধ্যে অন্যতম নিহত সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের স্ত্রী জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক খুরশীদ জাহান স্মৃতি। তিনি স্বামীর সহচর হিসেবে রাজনৈতিক অঙ্গনে কাজ করেছেন। তিনি স্বামীর অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে দলীয় মনোনয়ন পেতে আগ্রহী। অপরদিকে এমপি লিটনের বড় বোন আনন্দ গ্রুপ অব কোম্পানিজ অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর আফরোজা বারীও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি ভাইয়ের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে চান।

এ ছাড়া পৌর মেয়র উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সৈয়দা মাসুদা  খাজা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ভালোবাসি সুন্দরগঞ্জ’ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রেজাউল আলম রেজা ও সুন্দরগঞ্জ ডি ডাব্লিউ ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ সাবেক উপজেলা সহসভাপতি আব্দুল হান্নান এবং জেলা পরিষদ সদস্য এমদাদুল হক নাদিম মনোনয়ন পেতে আগ্রহী। তবে মহাজোট হিসাবে নির্বাচনে গেলে অনেক হিসাব নিকাশই পাল্টে যেতে পাবে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এক সময়ে জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত সুন্দরগঞ্জ আসনে নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহী ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পরিচালনা পর্যদের ভাইস চেয়ারম্যান এবং জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আইন ও বিচার বিষয়ক উপদেষ্টা এবং সংগঠনের উপজেলা সভাপতি এমপি ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। সুন্দরগঞ্জের রাজনৈতিক মাঠে তিনি সরব। বলেন, আগামী নির্বাচনে মহাজোটের কিম্বা দলীয়ভাবে নির্বাচনে জাপা প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমার বিজয় সুনিশ্চিত। পারিবারিকভাবে ঢাকা, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা ছাড়াও তাদের ২৮টি দাতব্য প্রতিষ্ঠান জনগণের সেবায় কাজ করছে। দলের মুখপাত্র হিসেবে শামীম পাটোয়ারী বিভিন্ন চ্যানেলে টক শো’তে অংশ নিচ্ছেন। একারণে ভোটারদের কাছে তিনি পরিচিত মুখ।

এ আসনে বিএনপি কখনই শক্তিশালী অবস্থানে ছিল না। এখনও সাংগঠনিকভাবে দুর্বল। তাই বিএনপি অনেকটাই জোটনির্ভর। তবে নির্বাচনী হাওয়া উঠায় নড়েচড়ে বসেছেন দলের নেতাকর্মীরা। তারা দল গোছাতে এখন ব্যস্ত। ২০ দলের জোটই নির্ধারণ করবে কোন দলের প্রার্থী এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তারপরও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয় পর্যায়ে তৎপরতা শুরু করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বর্তমানে জেলা সহসভাপতি ও সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম এবং বর্তমান উপজেলা সভাপতি ও হরিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোজাহারুল ইসলাম। তারা সাংগঠনিক তৎপরতার পাশাপাশি জনসংযোগও চালিয়ে যাচ্ছেন।

মামলা এবং গ্রেপ্তার আতঙ্কে জামায়াত এখন কোণঠাসা। নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে কোনো কার্যক্রম নেই। তবে জামায়াত তাদের প্রার্থী হিসেবে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মাজেদুর রহমানের নাম মাঠে ময়দানে ছড়িয়ে দিয়েছে। ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে মাজেদুর রহমানকেই তারা চায়।

আগামীকাল: নোয়াখালী-১



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

বিদেশি চ্যানেলে দেশি পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধের ঘোষণা

‘এসএসসি পরীক্ষায় ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি আদায় করলে ব্যবস্থা’

‘পুলিশ হেড কোয়ার্টারে বসে কারচুপির ষড়যন্ত্র করছে’

মনোনয়ন পাচ্ছেন না বদি-রানা

আমজাদ হোসেনের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

রফিকুল ইসলাম মিয়ার ৩ বছর কারাদণ্ড

এরশাদ কন্যা মৌসুমীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা

প্রেস পাস পুনর্বহাল সাংবাদিক অ্যাকস্টার

গাংনীতে অস্ত্র-মাদকসহ আটক ১

এরশাদকে ছেড়ে যাবো না

পর্যবেক্ষকরা মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে ভোট পর্যবেক্ষণ করবেন: ইসি সচিব (ভিডিও)

ভারতভুক্তির তিন বছর পর সাবেক ছিটবাসীরা জমির স্বত্ব পাচ্ছেন

‘পাকিস্তানকে বলির পাঁঠা বানাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র’

ফিরলেন এরশাদ

মহারাষ্ট্রে সেনাবাহিনীর অস্ত্রভান্ডারে বিস্ফোরণে নিহত ৬

বাংলাদেশী রেজাউরের কাণ্ড!