তিন জেলায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত ৪

শেষের পাতা

বাংলারজমিন ডেস্ক | ২১ অক্টোবর ২০১৮, রোববার | সর্বশেষ আপডেট: ৪:২৬
তিন জেলায় পৃথক বন্দুকযুদ্ধে চারজন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে যশোরে ২ জন, পাবনায় ১ ও রূপগঞ্জে একজন রয়েছে। শুক্রবার রাতে এসব বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ২ জন মাদক ব্যবসায়ী, একজন ডাকাত ও একজন তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী বলে দাবি করেছে পুলিশ।

স্টাফ রিপের্টার, যশোর  থেকে জানান,  যশোরে বন্দুকযুদ্ধে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ২টি লাশ উদ্ধাারের দাবি করেছে পুলিশ। লাশ দুটি হচ্ছে যশোর শহরের শংকরপুরের  জমাদ্দারপাড়ার আব্দুর রশীদের ছেলে বিল্লু পারভেজ (৩৭)  ও শার্শার দীঘিরপাড় গ্রামের নূর ইসলামের ছেলে আবু বকর (৪৫) । পুলিশের দাবি নিহত বিল্লু পারভেজ সন্ত্রাসী ও আবু বকর একজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী।

যশোর পুলিশের মুখপাত্র  অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনসার আলী জানান, শনিবার যশোরের শার্শা উপজেলার ছোট আঁচড়া গ্রামের চারাবটতলা এলাকা থেকে আবু বকর (৪৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।  সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পুলিশের দাবি, দুই গ্রুপ মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে গোলাগুলিতে সে নিহত হয়েছে। নিহত আবু বকরের বেনাপোল দিঘীরপাড় এলাকার নূর ইসলামের ছেলে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরো জানান,  নিহত আবু বকর একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে ১২টি মামলা রয়েছে। তাদের ধারণা দুই গ্রুপ মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে গোলাগুলিতে সে নিহত হয়েছে।
অপরদিকে শুক্রবার ভোররাতে যশোর শহরের শংকরপুর বাবলাতলা এলাকায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে বিল্লু পারভেজ নামে এক ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি, দুই দল সন্ত্রাসীর মধ্যে গোলাগুলিতে ওই যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত বিল্লু পারভেজ শংকরপুর জোমাদ্দারপাড়ার আব্দুর রশিদের ছেলে।

যশোর কোতয়ালী থানার এসআই সোবহান শরীফ বলছেন, শুক্রবার রাত পৌনে চারটার দিকে তারা জানতে পারেন শহরতলীর শংকরপুর বাবলাতলা এলাকায় গোলাগুলি চলছে। এসময় তিনি পুলিশের একটি টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই সন্ত্রাসীরা ওই এলাকা ত্যাগ করে। এরপর সেখান থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে আনা হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শুটারগান ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় পুলিশ বাদী মামলা হয়েছে। এদিকে ঘটনার দিন সকাল সাড়ে নয়টার দিকে হাসপাতালে নিহতের লাশ শনাক্ত করেন তার মামা মুকুল হোসেন। তিনি বলছেন, বুধবার রাতে খুলনার ভাড়া বাসা থেকে পারভেজকে ডিবি পুলিশ আটক করেছিল। কিন্তু পুলিশ তাকে আটকের কথা স্বীকার করছিল না। এখন তার লাশ মিললো।

স্টাফ রিপোর্টার, পাবনা থেকে জানান, পাবনার রাজাপুরে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত হয়েছে। তার নাম টিপু শেখ (৪৫)। র‌্যাবের দাবি নিহত ব্যক্তি মাদক চোরাকারবারের ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় আহত হয়েছে দুই র‌্যাব সদস্য। উদ্ধার করা হয়েছে অস্ত্র, গুলি ও মাদক। শনিবার ভোর রাত সাড়ে তিনটার দিকে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। নিহত টিপু শেখ সদর উপজেলার কবিরপুর গ্রামের মৃত আছর উদ্দিনের ছেলে।

র‌্যাব-১২ পাবনা ক্যাম্পের অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কমান্ডার রুহুল আমিন (এক্স বিএন) জানান, পাবনা সদর উপজেলার রাজাপুরে ক্যালিকো কটন মিলের পরিত্যক্ত ভবনে মাদক চোরাকারবারিরা অবস্থান করছে-এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযানে যায় র‌্যাবের একটি দল।

র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ শুরু করে মাদক চোরাকারবারিরা। আত্মরক্ষার্থে র‌্যাবও পাল্টা গুলিবর্ষণ করে। বেশ কিছু সময় গুলিবিনিময় চলার পর এক পর্যায় পালিয়ে যায় মাদক চোরাকারবারিরা। এরপর সেখানে টিপু শেখ নামের একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পাবনা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। পরে পরিবারের লোকজন হাসপাতালে গিয়ে টিপু শেখকে শনাক্ত করে।
স্টাফ রিপোর্টার, রূপগঞ্জ থেকে জানান, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বন্দুকযুদ্ধে আবুল হোসেন ওরফে ড্রাইভার আবুল (৩২) নামে এক ডাকাত নিহত হয়েছে। ডাকাতির মালামাল ভাগাভাগি করতে গিয়ে একপক্ষের গুলিতে সে নিহত হয়েছে বলে দাবি করছেন পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে এক রাউন্ড গুলিসহ একটি ওয়ান শুটারগান এবং একটি রামদা উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের টেংরার টেক এলাকায় এই ঘটনা বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম জানান, শুক্রবার রাত ২টার এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের টেংরারটেক এলাকায় গোলাগুলির শব্দ শুনে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় ডাকাতরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়লে ডাকাতদল পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায়  সোনারগাঁ থানাধীন সাদিপুর ইউনিয়নের নানাখী দক্ষিণপাড়া এলাকার সোনা মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন ওরফে ড্রাইভার আবুলকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন তারা। ঘটনাস্থল থেকে এক রাউন্ড গুলিসহ একটি ওয়ান শুটারগান ও একটি রামদা উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবী ডাকাতদের অপরপক্ষের গুলিতে মারা গেছে আবুল হোসেন। নিহত আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে সোনারগাঁ থানায় ১৬টি ডাকাতির মামলা রয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন