নি র্বা চ নী হা ল চা ল, বরিশাল ২

প্রার্থী নিয়ে চলছে যোগ-বিয়োগ

শেষের পাতা

জিয়া শাহীন, বরিশাল থেকে | ২০ অক্টোবর ২০১৮, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৮:৩৩
বানারীপাড়া ও উজিরপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল-২ আসন। এ আসনে এবার আওয়ামী লীগে একাধিক প্রার্থীর বিপরীতে বিএনপিতে চলছে প্রার্থী নিয়ে নানা হিসাব নিকাশ। চলছে যোগ-বিয়োগ। মাঠ পর্যায়ে কোনো দলেরই নির্বাচনী তোড়জোড় নেই শুভেচ্ছা পোস্টার ছাড়া। বিকল্প ধারাও এ আসনে প্রার্থী দেবে বলে জোর গুঞ্জন রয়েছে। তারপরও এই আসনটি কব্জায় নিতে মরিয়া

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। দুই পৌরসভা ও ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে এই আসনে পৌর এলাকায় বিদ্যুতের আলো মিললেও এখনও অবহেলিত গ্রাম-জীবন। এবারের ভোটে তাই গত নির্বাচনে দেয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন কতটুকু হলো সেই হিসাব কষছেন ভোটাররা।
বরিশাল-২ আসনে ৩ লাখ ২৩৩৩ ভোটারের ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৬ জন নারী। নতুন ভোটার ৪৩ হাজার ২৭৯। দেশের প্রথম নির্বাচনে এ আসন থেকে জয়ী হন আওয়ামী লীগ প্রার্থী। এরপর তা ফিরে পেতে লেগেছে ৩৬ বছর। স্বাধীনতার পর এই আসনে চারবার সংসদ সদস্য পেয়েছে জাতীয় পার্টি। আওয়ামী লীগ ৩, ওয়ার্কার্স পার্টি ও বিএনপি জিতেছে দুবার করে।

এ আসনের সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের তালুকদার মো. ইউনুস। তার বাড়ি বরিশাল শহরে। তালুকদার মো. ইউনুস একেক সময় একেক এলাকায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় এবার তার আসন কোনটি হবে এ নিয়ে চলছে আলোচনা। আর এ সুযোগটি কাজে লাগাতে মরিয়া বিএনপি। শিল্পপতি এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু এবার কোমর বেঁধে নেমেছেন ধানের শীষ নিয়ে।
গত দুই নির্বাচনে আসনটি আওয়ামী লীগের হাতে থাকায় এবার সম্ভাব্য প্রার্থীর সংখ্যাও বেশি। বর্তমান এমপি তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুসের বিপরীতে মনোনয়নে আগ্রহী শেরে বাংলার নাতি এ কে ফাইয়াজুল হক, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহে আলম, এম মোয়াজ্জেম হোসেনসহ অনেকে।

এমপি ইউনুসকে নিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলেছে আওয়ামী লীগ। তার বাড়ি বরিশাল শহরে অর্থাৎ বরিশার-৫ আসনে। ২০০৮ এর নির্বাচনে তাকে বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর অনুপস্থিতিতে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। তিনি সে সময়ে এমপি নির্বাচিত হন। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ঐ আসন আবুল হাসানাত আবদুল্লাহকে ছেড়ে দিতে হয় ইউনুসকে। তাকে দেয়া হয় বরিশাল-২ আসন। এ সময়ে এ আসনের সাবেক এমপি আওয়ামী লীগ নেতা মনিরুল ইসলাম মনির সমর্থকরা বেঁকে বসেছিলেন। কিন্তু বিএনপি নির্বাচনে না আসায় নির্বাচিত হন ইউনুস। বিএনপি জামায়াতবিহীন ঐ নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল জাতীয় পার্টির নাসিরউদ্দিন। নির্বাচনে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস পেয়েছিলেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৭৮ ভোট, নাসির পেয়েছেন ৫ হাজার ৮৮ ভোট।

ইউনুসের বাড়ি বরিশাল মহানগরীর সদর রোডে। বানারীপাড়া বা গৌরনদীতে তার কোনো বাসভবনও নেই। তাই এবার বানারীপাড়াবাসীর মন জয় করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছেন। অ্যাডভোকেট ইউনুস ছাড়াও সাবেক এমপি মনিরুল ইসলাম মনিও এবারও মনোনয়নের জন্য লবিং শুরু করেছেন। গুঞ্জন রয়েছে মনি মাঠ গুছিয়ে এনেছেন। জেলা আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার যে দূরত্ব ছিল তাও কেটে গেছে। এছাড়াও মনোনয়ন চাইবেন বানারীপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক, ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহে আলম, শেরেবাংলা একে ফজলুল হকের দৌহিত্র ফাইয়াজুল হক রাজু প্রমুখ। এর মধ্যে ইউনুস যদি মনোনয়ন না পান তবে উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক কিছুটা এগিয়ে থাকবেন বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। তবে মাঠে নেমে ফায়জুল হক গণসংযোগ শুরু করে দিয়েছেন। শেরেবাংলা একে ফজলুল হকের উত্তরসূরি আওয়ামী লীগ মনোনয়ন প্রত্যাশী ফাইজুল হক রাজু এরই মধ্যে চিন্তায় ফেলে দিয়েছেন অন্য প্রার্থীদের। শেরে বাংলার পুত্র সাবেক এমপি ফাইজুল হকের পুত্র হওয়ায় আলাদা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে রাজুর। তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় স্থানীয় দলীয় নেতা-কর্মীদের সহযোগিতায় দ্রুত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন।

প্রার্থী প্রশ্নে বিভক্তি আছে বিএনপিতেও। বানারীপাড়া বিএনপির সভাপতি সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু মনোনয়ন পাবেন। তবে বিএনপি নেতা সাবেক হুইপ শহিদুল হক জামালও বসে নেই। শহিদুল হক জামাল সংস্কারপন্থির লেবাস নিয়ে বর্তমানে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত। তাই তিনি হাত বাড়িয়েছেন বিকল্প ধারার দিকে। জামাল এরই মধ্যে বিকল্প ধারার বিভিন্ন সভা সমাবেশেও যোগ দিচ্ছেন বলে তার ঘনিষ্ঠ মহল জানিয়েছেন।

বিএনপিতে এ আসনে একাধিকবার বিজয়ী হন শহিদুল হক জামাল। ১/১১ পরবর্তী সংস্কারপন্থি আখ্যা দিয়ে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। জামাল পরবর্তী দলের হাল ধরেন নির্বাহী কমিটির সদস্য সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু। যদিও তিনি ২০০৮-এর নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন মনির কাছে। সে সময়ে ব্যাপক সন্ত্রাসের অভিযোগ করেছিলেন তিনি। তাকে নির্বাচনের সময় এলাকায় প্রবেশ করতে না দেয়ার অভিযোগ ছিল। এলাকায় তার জনপ্রিয়তা রয়েছে অনেক। কয়েক কোটি টাকা খরচ করে তিনি দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন একটি মসজিদ তৈরি করেছেন। নেতা-কর্মীদের ধারণা মিরাকল কিছু না হলে বিএনপির মনোনয়ন পাবেন সান্টুই। তার হাত ধরেই এ আসনটি উদ্ধারে মরণপণ লড়াইয়ে নামবে বিএনপি। সান্টু ছাড়াও বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন বলে শোনা যাচ্ছে রনকুল ইসলাম টিপু, দুলাল হোসেন এবং সাংবাদিক ইলিয়াস খান।

জাতীয় পার্টিতে এ আসনে চমক আসতে পারে। এ দল থেকে যাদের নাম আলোচিত হচ্ছে তাদের মধ্যে রয়েছেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক চিত্রনায়ক মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা। এ আসনে ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা নেছার উদ্দিনের নামও আলোচনায় আছে। এ আসন থেকে জাসদের (আম্বিয়া-প্রধান) অ্যাডভোকেট আনিসুজ্জামান আনিস, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বাদলও মনোনয়ন প্রত্যাশী।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন