ঢাকায় আকবরের নেটওয়ার্ক

শেষের পাতা

শুভজিত রয়, লিজ ম্যাথিউ | ১৯ অক্টোবর ২০১৮, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:১০
২০১৪ সালের জুন মাস। বাংলাদেশে প্রথম সফরে আসবেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। তার আগেই ঢাকায় পৌঁছালেন এম জে আকবর। তাকে বলা হয়েছিল অনানুষ্ঠানিকভাবে মাঠপর্যায়ের কাজ প্রস্তুত করতে। ওই বছরের মার্চে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।

একজন সাংবাদিক হিসেবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক শ্রেণির সঙ্গে বিশাল একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন আকবর। বাংলাদেশের নীতিনির্ধারণী মহলের  সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো। বিজেপি পরিচালিত ভারত সরকার তার ওই মূল্যবান নেটওয়ার্ককে ব্যবহার করতে চেয়েছিল।


আলোচনায় অংশ নেয়া একজন শীর্ষ স্থানীয় বাংলাদেশি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেছেন, কংগ্রেসের সঙ্গে আমাদের ভালো সম্পর্ক আছে। আলোচনা চালানোর জন্য প্রণব মুখার্জির নেতৃত্বে বাংলাভাষী মধ্যস্থতাকারী ছিলেন। কিন্তু এক্ষেত্রে বিজেপিতে একটি ফারাক ছিল। বিজেপিতে বেশি মানুষ ছিলেন না, যারা বাংলা বলতে পারেন। এমনটা তারতম্য ছিল। এক্ষেত্রে আকবর ছিলেন উপযুক্ত ব্যক্তি।

ঢাকায় আকবরের কাজ দেখে ভারত সরকার অনেকটাই সন্তুষ্ট হয়েছিল। ২০১৫ সালের জুনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকা সফরে যান এবং তার এই সফরকে সফল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এরপর ঢাকায় ভারতীয় কূটনীতিকদের পাশাপাশি ‘ব্যাকরুম প্লেয়ার’ হয়ে ওঠেন এম জে আকবর। তার এই ভূমিকা তাকে পরিচিত করে দেয় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে, যেখানে উপসাগরীয় ও পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর জন্য একজন মধ্যস্থতাকারী প্রয়োজন ছিল।
২০১৬ সালের জুলাই। এ সময় তাকে ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বানানো হয়। তাকে দেয়া হয় পশ্চিম এশিয়া, উপসাগরীয় অঞ্চল, উত্তর ও পশ্চিম আফ্রিকা, পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপ, ইউরোশিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিষয় দেখাশোনা করার দায়িত্ব। পশ্চিম এশিয়ার একটি দেশের এক কূটনীতিক তার বিষয়ে বলেন, তিনি একজন আগ্রহী শ্রোতা। আমরা আমাদের বিভিন্ন ইস্যু তার সঙ্গে খোলামনে আলোচনা করতে পারতাম।

বুধবার পদত্যাগ করেন এম জে আকবর। এরপর একজন বিজেপি নেতা বলেন, যোগাযোগ স্থাপনের জন্য একজন মেধাবী ও স্পষ্টবাদী হিসেবে আকবর ছিলেন দলের একটি সম্পদ। তিনি স্পষ্ট কথা বলেন। একজন সম্মানিত লেখক। তিনি সরকারের পক্ষ নিয়ে কথা বলতে পারেন। তিনি শুধু বিজেপি’র বাক্সে মুসলিমদের ভোটই এনেছেন এমন নয়, একই সঙ্গে তিনি নিজে একজন বিশ্বাসযোগ্য মুসলিম ব্যক্তিত্ব।

একটি সুনির্দিষ্ট রাজনীতি বা আদর্শের প্রতি কখনোই আস্থাভাজন ছিলেন না আকবর। ভারতের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগসূত্র হলো তার বন্ধুত্ব। প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর প্রতি তার শ্রদ্ধা থেকে তিনি হয়ে উঠেছিলেন কংগ্রেসের অংশ। অন্যদিকে এল কে আদভানীর সঙ্গে তার নৈকট্য তাকে বিজেপিতে টেনেছে।

আকবরের উদার অবস্থান রাজীব গান্ধীর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এর মধ্যে ছিলেন তখনকার প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি মণি শঙ্কর আইয়ার। সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার ওয়াজাহাত হাবিবুল্লাহ’র মতে, ঐতিহাসিক শাহ বানু মামলায় রাজীব গান্ধীকে হস্তক্ষেপ করতে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন আকবর। তবে সরকারের ওই কর্মকাণ্ডে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। এখনো সেই সমালোচনা তাড়িয়ে ফেরে কংগ্রেস পার্টিকে। রাজীব গান্ধীর সঙ্গে তার ছিল বন্ধুত্ব। সে কারণে গুরুত্বপূর্ণ একজন সম্পাদকের সুনাম অর্জন করা সত্ত্বেও ১৯৮৯ সালে তিনি সাংবাদিকতা থেকে সরে আসেন। তখন বোফোর্স কেলেঙ্কারি নিয়ে চাপের মুখে রাজীব গান্ধী। তাই ১৯৮৯ সালে বিহারের মুসলিম অধ্যুষিত কিষাণগঞ্জে লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য এম জে আকবরকে বাছাই করেন রাজীব গান্ধী। ওই নির্বাচনে আকবর জিতেছিলেন। কিন্তু ক্ষমতা হারায় কংগ্রেস।

এ অবস্থায় দলের মুখ রক্ষার জন্য আকবরকে মাঠে নামান রাজীব গান্ধী। কিন্তু ১৯৯১ সালে ভাগ্য তার পক্ষে যায় নি- তিনি ও তার বন্ধু নির্বাচনে পরাজিত হন।

রাজীব গান্ধীকে হত্যা করার পর মানুষের সহানুভূতির ওপর ভিত্তি করে কংগ্রেস যখন ক্ষমতায় আসে, তখন সোনিয়া গান্ধী সহ কংগ্রেসের নতুন নেতৃত্ব আকবরকে একপেশে করে ফেলেন। ফলে ১৯৯২ সালে দল ত্যাগ করেন আকবর।
আবার সাংবাদিকতায় ফিরে যান তিনি। প্রতিষ্ঠা করেন দ্য এশিয়ান এইজ (যেখানে কথিত বেশির ভাগ যৌন হয়রানিগুলো ঘটার কথা বলা হয়েছে)। এরপর এল কে আদভানীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা বেড়ে যায়। তিনি চাইছিলেন ২০০৪ সালে নির্বাচনের আগেই তাদের পার্টিতে যোগ দেন আকবর। তবে তিনি আগে কংগ্রেসের সঙ্গে ছিলেন এবং নেহরু-গান্ধী পরিবারের সঙ্গে তার ছিল ঘনিষ্ঠতা, এসব তার জন্য এক রকম বাধা হয়ে দাঁড়ালো।

২০০২ সালে গুজরাট দাঙ্গার পর আকবর তখনকার গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কড়া সমালোচনা করেন। এ প্রসঙ্গে ২০০২ সালের মার্চে দ্য এশিয়ান এইজ পত্রিকায় তিনি লিখেছেন, ধর্মীয় বিশ্বাসের দিক থেকে ভারতে প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার। ভারতের এই আদর্শকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছেন নরেন্দ্র মোদি।

২০১৪ সালের মার্চ। বিজেপিতে যোগ দেয়ার পর তিনি দ্য ইকোনমিক টাইমসে লিখেছেন, ওই সময় দাঙ্গা নিয়ে অন্য সাংবাদিকরা যা করেছিলেন আমিও তাই করেছি। প্রশ্ন তুলেছি। কিন্তু ১০ বছর ধরে এসব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে ইউপিএ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে যে গভীর তদন্ত হয়েছে, তাকে দোষী দেখানোর চেষ্টা হয়েছে, স্বাধীনতার পর কখনো এমনটা হয় নি। এটা করা হয়েছে ইউপিএ সরকারের প্রতি অনুগত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দুই মেয়াদে।
(গতকাল দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত লেখার অনুবাদ)



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

তাদের সবাইকে জেলে ভরে রাখা উচিত: জয়

ব্রেক্সিট: পদত্যাগ করেছেন উত্তর আয়ারল্যান্ড বিষয়ক মন্ত্রী

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিক্ষোভ, শ্লোগান

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে অনিশ্চিত মাশরাফি

ধানের শীষে লড়বে ঐক্যফ্রন্ট

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিলেন যারা

বিএনপিতে ফিরলেন সাবেক এমপি আব্দুর রশিদ

জোটবদ্ধ নির্বাচন হলেও সম্মানজনক আসন পাবো

নেতা-কর্মীরাই সামলাচ্ছেন সড়কের জট

চীন বা রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে হেরে যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্র!

গ্যাটকো মামলায় খালেদার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ১০ জানুয়ারি

‘ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কর্মীরা পুলিশের গাড়িতে আগুন দেয়’

পল্টনে হামলা বিএনপির পূর্ব পরিকল্পিত

ফেনীতে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলার রায় যুবকের যাবজ্জীবন

শমসের মবিন সিলেট-৬, এমএম শাহীন মৌলভীবাজার-২ এর মহাজোটের প্রার্থী!

বিকেল ২টায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন শুরু