পূজা স্পেশাল

হরিজন পল্লীতে জমজমাট পূজা, আছে কষ্টও

ষোলো আনা

সাদ ইসলাম সামস ও মো. কামরুল ইসলাম | ১৯ অক্টোবর ২০১৮, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:২৩
ছবিটি তুলেছেন আলোকচিত্রী জীবন আহমেদ
রাজধানীর পুরান ঢাকার দয়াগঞ্জ হরিজন পল্লী। দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে আলোকসজ্জা, গানবাজনা, ডিজে পার্টি, খাওয়া-দাওয়ার বিশেষ আয়োজন ও রং খেলা। নিজেদের সাধ্যমতো রাঙানোর কোনো কমতি রাখেননি তারা।
সামপ্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ বাংলাদেশ। মুসলমানরা যেমন ঘটা করে ঈদ পালন করেন ঠিক তেমনি সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পালন করেন দুর্গাপূজা। আমাদের সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীরাও পিছিয়ে নেই এই উৎসবকে রঙিন মোড়কে সাজাতে। হরিজন পল্লীতেও লেগেছে পূজার মহাসমারোহ।
হরিজন সমপ্রদায়; যারা শহরের রাস্তাঘাট ও সুয়ারেজ লাইন পরিষ্কার করে থাকেন। সিটি করপোরেশন এই হরিজন সমপ্রদায়ের মানুষদের অভিহিত করেছে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে। এসব পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মাসিক আয় অনেক কম হলেও উৎসব উদযাপনে এদের জুড়ি নেই।
উৎসব হোক বড় অথবা ছোট উদযাপন হতে চাই মনের মতো। বনেদি বাড়ি অথবা পাড়া মহল্লার পূজার মতো এদের পূজা এতটা জাঁকজমক না হলেও ধুমধামের যেন অভাব নেই। পূজা উদযাপনের জন্য এরা চাঁদা উঠিয়ে থাকে। কমবেশি সবাই চাঁদা দেয় দুর্গাপূজা উদযাপনের জন্য।

এদেরই একজন বিকি। থাকেন পুরান ঢাকার দয়াগঞ্জ কর্মী নিবাসে। কাজ করেন একটি অফিসে। মাস শেষে বেতন পান চার হাজার টাকা। অবসর সময়ে বিভিন্ন বাড়িতে কাজ করে আয় করেন আরো কিছু টাকা। এত কম টাকার ভিতরেই চালান চারজনের সংসার। টানাটানির এই সংসার হলেও ঠিকই চাঁদা দিয়েছেন দুর্গাপূজা উদযাপনের জন্য।

বিকির মতো আরেকজন হচ্ছেন জারির। থাকেন পল্লীতেই। বেতন পান প্রায় ৮ হাজার টাকা। বিকির মতো জারিরও টানাটানির সংসার। ছয়জনের পরিবারের টানাটানি। তবুও চাঁদা দিয়েছেন দুর্গাপূজা উদযাপনের জন্য। তাদের লক্ষ্য একটাই, দুর্গাপূজা হোক মনের মতো। এত কিছুর পরেও হরিজন সমপ্রদায়ের মানুষদের মাঝে দুঃখ-দুর্দশার যেন কোনো শেষ নেই। হরিজন সমপ্রদায়ে বেড়ে উঠা শিশুরা বরাবরই সুবিধা বঞ্চিত, অবহেলিত। পড়ালেখার জীবনে প্রবেশ করতে পারে না। অল্প বয়সেই ঝাড়ু হাতে রাস্তা পরিষ্কারের কাজে নামতে হয়। অনেক সময় করতে হয় ড্রেন-টয়লেট পরিষ্কার। সামাজিক দৃষ্টিতে হরিজনরা খুবই নিচু হওয়াতে মানুষের জীবনের মৌলিক অধিকারগুলো কখনই এরা কল্পনা করতে পারে না। ন্যূনতম সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধাও পায় না। অনেকে বিনা চিকিৎসায় মারা যায়। কেউ এদের কোনো খবর রাখে না। অথচ তাদের ভোটাধিকার আছে। আছে সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার অধিকার। তাদের চাকরি স্থায়ী নয়। মেডিকেল ভাতা, মাতৃকালীন ছুটি, উৎসব ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধাও নেই। ঐতিহাসিক ভাবে হরিজনরা সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন ভাবে জীবন যাপন করলেও তাদের পেশা ছিল নিশ্চিত। কিন্তু, বর্তমানে অসচেতনা, অবহেলা সহ নানা কারণে তারা তাদের পেশার নিশ্চয়তা হারাচ্ছে। হাসপাতাল, থানা, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঝাড়ুদার, সুইপার, ক্লিনার পদে হরিজনদের বিশেষ অগ্রাধিকার থাকলেও অন্য সমপ্রদায়ের লোকজন সেই সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে তাদের।

তাদেরকে যদি ন্যূনতম সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা দেয়া যায়। তাদের চাকরি স্থায়ীকরণ করা যায়। মেডিকেল ভাতা, মাতৃকালীন ছুটি, উৎসব ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হয় এবং অন্যান্য সামাজিক বৈষম্যগুলো দূরীকরণ এর ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে তারাও সচ্ছলভাবে জীবনযাপন করতে পারবে। এ ছাড়াও হরিজন সমপ্রদায়ে বেড়ে উঠা প্রতিটা শিশুর শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলে তারাও এই পেশার দিকে না ঝুঁকে অন্য পেশাতেও নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের সমান সুযোগ পাবে।




এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

দুই বোনের এক প্রেমিক ও...

গণফোরামে রেজা কিবরিয়া, ঐক্যফ্রন্টের হয়ে লড়বেন হবিগঞ্জ-১ আসনে

‘জামাতা জড়িত, ১০ হাজার টাকায় চুক্তি হয় চালকের সঙ্গে’

২ খেমাররুজ নেতা দোষী সাব্যস্ত

ফেসবুক প্রধান মার্ক জাকারবার্গকে পদত্যাগের চাপ

ভারতে নারী অধিকারকর্মীদের নিয়ে তসলিমা নাসরিনের বিস্ময়

ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের গাড়িবহরে হামলা, নিন্দা

‘ভোট লুট হোক, চায় না ভারত’

যেভাবে সম্পন্ন হবে ব্রেক্সিট

তেরেসা মে’র ৫ কান্ডারি

সিএমএইচে এরশাদ

মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিন্দা জানিয়ে প্রস্তাব গৃহীত জাতিসংঘে

ক্ষমতায় গেলে যেসব কাজ করবে ঐক্যফ্রন্ট, জানালেন জাফরুল্লাহ

প্রিন্স সালমানের নির্দেশেই খাসোগিকে হত্যা করা হয়েছিল- সিআইএ

বাংলাদেশের নির্বাচন ও মানবাধিকার নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতি কতিপয় সুপারিশ

প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন চায় না নির্বাচন কমিশন: শাহাদাত