নি র্বা চ নী হা ল চা ল, লক্ষ্মীপুর ১

বিএনপি’র ভরসা ভোটার আওয়ামী লীগের উন্নয়ন

শেষের পাতা

আব্বাছ হোসেন, লক্ষ্মীপুর ও আবু তাহের রামগঞ্জ থেকে | ১৮ অক্টোবর ২০১৮, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:৩৫
একাদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে চলছে ঘরে-বাইরে তোড়জোড়। বিএনপি’র দুর্গ লক্ষ্মীপুর-১ আসনটি। রামগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসন। বিএনপি’র দুর্গ হলেও এখন চালকের আসনে আওয়ামী লীগ। আর গত ৫ বছরে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে মাঠে রয়েছে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। নির্বাচন নিয়ে বিএনপি’র প্রার্থীরা রয়েছে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে। এর উপর বিএনপি’র দলীয় কোন্দল ও গ্রুপিং চরমে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সমর্থকরাও দ্বিধা-বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
এ আসনে রয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র দু’দলের একাধিক প্রার্থী। মনোনয়ন পেতে আওয়ামী লীগ-বিএনপি’র দলীয় নেতারা ছাড়াও এ আসনে জোটের শরিক অন্যান্য হেভিওয়েট প্রার্থীরা দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে যাচ্ছেন। মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন তারা। পাশাপাশি ঘুরে বেড়াচ্ছেন সাধারণ ভোটারদের কাছেও। দিচ্ছেন নানান প্রতিশ্রুতি।

আওয়ামী লীগ, বিএনপি, তরিকত ফেডারেশন ও এলডিপি সমর্থিত মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা, সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ করছেন। শহর থেকে গ্রামাঞ্চলে ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙিয়ে নিজেদের প্রার্থিতা ঘোষণা করছেন।
একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত লক্ষ্মীপুর-১ রামগঞ্জ আসন। এ আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ১৯ হাজার ৪শ’ ৮১ জন। ২০১৪ সালে বিএনপি ভোট বর্জন করায় মহাজোট থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে তরিকত ফেডারেশনের এমএ আউয়াল এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের পর এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হননি। ১৯৯১, ’৯৬ ও ২০০১ সালে বিএনপি’র প্রার্থী জিয়াউল হক জিয়া ও ২০০৮ সালে নাজিম উদ্দিন আহমদ নির্বাচিত হন। সে থেকে এ আসনটি বিএনপি’র দুর্গ হিসেবে দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করেন। হারানো আসনটি পুনরুদ্ধার করতে মরিয়া বিএনপি। কিন্তু দলীয় কোন্দল ও গ্রুপিং থাকায় এতে সহজ হবে না বলে মনে করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। আর সে সুযোগটি কাজে লাগিয়ে আসনটি হাতছাড়া করতে চায় না আওয়ামী লীগ।

অপরদিকে বসে নাই বর্তমান সংসদ সদস্য তরিকত ফেডারেশনের প্রার্থী এমএ আউয়াল এবং এলডিপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন সেলিম। দুজনেরই দাবি, মহাজোট ও ২০দলীয় জোটের চূড়ান্ত প্রার্থীই তারা। সে হিসেবে আগামী নির্বাচনে লড়তে মাঠে কাজ করছেন।
বিএনপি সমর্থিতরা মনে করছেন, বিএনপি’র একটি ভোট ব্যাংক রয়েছে। দলীয় কোন্দলের কারণে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে থাকেন। তাই দলীয় কোন্দল মিটিয়ে আগামী নির্বাচনে অংশ নিলে কেউ তাদের বিজয় ঠেকাতে পারবে না। তাই ভোটাররাই বিএনপি’র ভরসা। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হলে এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জয়লাভ করবে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সমর্থিতরা বলছেন, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকা প্রতীক নিয়ে যেই নির্বাচন করুক ভোটাররা তাকেই জয়ী করবেন। কারণ বর্তমান সরকারের আমলে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। এর আগে কোনো সরকার তা করতে পারেনি বলে দাবি করেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।

এ আসনে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন- উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সফিক মাহমুদ পিন্টু, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সফিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মো. শাহজাহান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হসপিটালের চেয়ারম্যান ও শিল্পপতি মো. আনোয়ার হোসেন খাঁন, অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব ও বর্তমান এমপি লায়ন এমএ আউয়ালও মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।
তৃণমূল নেতাকর্মীরা জানান, ছাত্রজীবন থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন অ্যাডভোকেট সফিক মাহমুদ পিন্টু। উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ১/১১ সময় আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন জেলে তখন নেত্রীর মামলায় আইনি মোকাবিলার জন্য আইনজীবী প্যানেলের সদস্য ছিলেন সফিক মাহমুদ পিন্টু। এ ছাড়া সুখে-দুঃখে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন সব সময়।

অপরদিকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে আনোয়ার হোসেন খানও কাজ করছেন পুরোদমে। তারও রয়েছে ব্যক্তি ইমেজ। প্রতিনিয়ত দলীয় কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন সভা-সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন তিনি। দলীয় নেতাকর্মীর পাশাপাশি দুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে থেকে কাজ করছেন আনোয়ার হোসেন খান। আনোয়ার হোসেন খানকে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে দেখা যাবে বলে মনে করেন তার সমর্থকরা।
অপরদিকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন, সাবেক এমপি ও উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি নাজিম উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা সিটির সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইয়াছিন আলী, খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ডা. মামুন আহম্মদ ও কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা ইমাম হোসেন। এ ছাড়া ২০দলীয় জোটের অন্যতম শরিক এলডিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, এলডিপি’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম দুর্দিনে তৃণমূল নেতাকর্মীর সঙ্গে ছিলেন। তার রয়েছে ব্যক্তিগত ভোট ব্যাংক। ক্লিন ইমেজের নেতা হিসেবে এলাকায় পরিচিত। এক সময় শাহাদাত হোসেন সেলিম বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন। ২০ দলীয় জোট থেকে তাকে মনোনয়ন দেয়ার দাবি জানান স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সফিক মাহমুদ পিন্টু বলেন, ছাত্রজীবন থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছি। সব সময়ে দলের পক্ষে কাজ করছি। কখনও দলের সঙ্গে বেঈমানি করিনি। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চাইবো। যদি মনোনয়ন পাই, তাহলে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবো।
আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী মো. শাহজাহান বলেন, আমি দুইবার নৌকা প্রতীকে ভোট করে অল্প ব্যবধানে হেরেছি। আগামী নির্বাচনে দল যদি মনোনয়ন দেয় তাহলে এ আসনটি আমি জননেত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দেবো।

আনোয়ার হোসেন খান বলেন, মনোনয়ন চাইবো। মনোনয়ন দিলে বিজয়ী হয়ে মানুষের সেবায় কাজ করব। তাছাড়া দলের দুর্দিনে নেতাকর্মীর পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও পাশে থাকবো। বেশিরভাগ নেতাকর্মীই তাকে সমর্থন দেবে বলে আশা করেন তিনি।
বর্তমান এমপি তরিকত ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব লায়ন এমএ আউয়াল বলেন, বিগত ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জয়লাভ করে এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। আগামীতে জোটের পক্ষ থেকে তাকে প্রার্থী করা হলে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন।
সাবেক এমপি বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থী নাজিম উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, বিএনপিতে দলীয় কোন্দল বা গ্রুপিং নেই। দল এখন অনেক ঐক্যবদ্ধ। দল তাকেই মনোনয়ন দেবেন। এ আসনটি মূলত বিএনপি’রই আসন। এখানে ধানের শীষের কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন।

হারুন অর রশিদ বলেন, বিএনপি’র দুর্দিনে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম। দল সেই বিবেচনায় আমাকে মনোনয়ন দেবে বলে আশা করছি। মনোনয়ন দিলে সকল স্তরের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে কাজ করবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অপরদিকে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইয়াছিন আলী জানান, আগামী নির্বাচনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দেশনেত্রীর মুক্তি। এ ছাড়া তারেক রহমানসহ বিএনপি’র নেতাকর্মীদের সকল মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। বিএনপি একটি নির্বাচনমুখী দল। আগামী নির্বাচন যদি সুষ্ঠু ও অবাধ হয় তাহলে এ আসন থেকে মনোনয়ন চাইবো। আশা করি মনোনয়ন পাবো। মনোনয়ন পেলে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবো।

এলডিপি’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, রামগঞ্জ আসনে জোটের পক্ষ থেকে এবার আমাকে মনোনয়ন দেলে দলমতনির্বিশেষে সবাই আমাকে সমর্থন করবে। জোটের পক্ষ থেকে এ আসনে আমাকে মনোনয়ন দেয়ার সবুজ সংকেত দেয়া হয়েছে। তাই আমি এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছি।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে ইসির অনাপত্তি, মুহিতকে নিষেধ

নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের স্ট্যাটাস কী হবে জানতে চান কূটনীতিকরা

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের উদ্বেগ

কারাগারে থেকে ভোটের প্রস্তুতি

শহিদুল আলমের জামিন

ধানের শীষে লড়বে ঐক্যফ্রন্ট

নিপুণ রায় চৌধুরী গ্রেপ্তার

আতঙ্ক উপেক্ষা করে পল্টনে ভিড়

বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত

কুলাউড়ায় সুলতান মনসুরের বিপরীতে কে?

ঢাকার প্রচেষ্টা ব্যর্থ

নির্বাচন পেছাবে না ইসির সিদ্ধান্ত

ঝিনাইদহে ৩৭৪ মামলায় আসামি ৪১ হাজার

বিএনপি আবার আগুন সন্ত্রাস শুরু করেছে

বড় জয়ে সিরিজে সমতা

উত্তেজনায় ফুটছে বৃটিশ রাজনীতি, চার মন্ত্রীর পদত্যাগ