ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে কারচুপিকারীদের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না: নজরুল

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ১৭ অক্টোবর ২০১৮, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:২৩
যারা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও কারচুপি করে তাদের অধীনে কখনো সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। গতকাল বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর খেলাফত মজলিসের সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। নজরুল ইসলাম খান বলেন, যে দল শুধু জাতীয় নির্বাচন নয়, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও কারচুপি করে। প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের ভোট দিতে দেয় না, তাদের অধীনে কোনো সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে পারে না বলে আমরা ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানিয়েছি। তিনি বলেন, আমরা দাবি জানিয়েছি জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম মেশিন ব্যবহার করা যাবে না। কারণ, এই ইভিএমের মাধ্যমে একটি আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে সকল ভোটারের ভোট কাস্ট করে নেয়া সম্ভব। এ সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরকারের দুর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার শুধু আর্থিক খাতেই দুর্নীতি করেনি। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে জাতীয় নির্বাচনে যা দুই চারটা ইভিএম মেশিন ব্যবহার করা হয় তার প্রত্যেকটির দাম মাত্র ২১ হাজার টাকার মতো।
আমাদের দেশে ইভিএম কেনার সিদ্ধান্ত হলে একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিটি মেশিন মাত্র ২২ হাজার টাকায় বিক্রি করতে চেয়েছিল। কিন্তু এই সরকার তা নেয়নি। এখন প্রতিটি মেশিন কেনা হচ্ছে ২ লাখ ৩৪ হাজার টাকা দরে। বিএনপির অন্যতম এ নীতিনির্ধারক বলেন, এরকম একটি পরিস্থিতিতে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে এগিয়ে যাওয়ার মতো একমাত্র নেত্রী ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এই কারণে তাকে জেলে নেয়া হয়েছে। আমরা জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে সকলে মিলে আন্দোলন-সংগ্রাম করে দেশনেত্রীকে মুক্ত করবো। আগামী দিনে এই স্বৈরাচার সরকারের পতন নিশ্চিত করবো। বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মে. জে. (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহীম বীরপ্রতীক বলেন, মানুষের শরীরের মধ্যে এপেন্ডিক্স নামের একটি নাড়ি আছে। যা অনেকেই জানেন না। এই নাড়িটা কোনো সমস্যা করে না। কিন্তু এই নাড়ি যখন ব্যথা করে তখন এটাকে বলা হয় এপেন্ডিসাইটিস। এপেন্ডিসাইটিস হলে নাড়ি কেটে না ফেলা পর্যন্ত সমস্যার সমাধান হয় না। রাজনীতির মধ্যেও এমন এপেন্ডিসাইটিস দেখা দিলে তাকে কেটে ফেলা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। গতকাল বিকালে রাজধানীর কোনো এক জায়গায় একটি সংবাদ সম্মেলন হচ্ছে। এই জন্য মনটা ভারাক্রান্ত। তারা যাই বলুক, আমরা সবাই গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে এক সঙ্গে থাকতে চাই। কারণ এই কাজ একা একা করা সম্ভব না। খেলাফত মজলিসের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক বলেন, আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে আমাদের সকলকে হিম্মতের সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে। আমি ৯০ বছর বয়সেও রাস্তায় আছি। ৭০ বছর ধরে রাস্তায় আছি। বাকি সময়ও রাস্তায় থাকব ইনশাআল্লাহ। আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রামের সময় আপনাদের সামনের কাতারে থাকব। এ সময় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনের মাঠে সক্রিয় থাকার জন্য নেতাকর্মীদের হাত উঁচিয়ে শপথ পাঠ করান তিনি। এলডিপি মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ বলেন, আমরা যারা জাতীয়তাবাদী শক্তি আছি তারা বিনা শর্তে বহুদিন ধরে এক সঙ্গে রয়েছি। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের সময় বড় বড় প্রলোভন থাকার পরও আমরা জোট ত্যাগ করিনি। কিন্তু যারা প্রকৃতপক্ষে জাতীয়তাবাদী শক্তি নয়। তারা অল্প কিছু পেলেই ছোটাছুটি করে। যারা এখনো জোটের সঙ্গে আছে তাদের সকলের উদ্দেশ্যে বলতে চাই- বিএনপি একা একা নির্বাচন করবে না। আমাদের মধ্যে যারা নির্বাচনের যোগ্য লোক তাদের সুযোগ দেবে বলে আমি বিশ্বাস করি। সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন- খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাও. সৈয়দ মজিবুর রহমান, মাও. সাখাওয়াত হোসেন, অধ্যাপক খালেকুজ্জামান, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের সহসভাপতি মাও. আবদুর রব ইউসুফি, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, যুগ্ম মহাসচিব মুন্তাসির আলী প্রমুখ।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

বিদেশি চ্যানেলে দেশি পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধের ঘোষণা

‘এসএসসি পরীক্ষায় ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি আদায় করলে ব্যবস্থা’

‘পুলিশ হেড কোয়ার্টারে বসে কারচুপির ষড়যন্ত্র করছে’

মনোনয়ন পাচ্ছেন না বদি-রানা

আমজাদ হোসেনের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

রফিকুল ইসলাম মিয়ার ৩ বছর কারাদণ্ড

এরশাদ কন্যা মৌসুমীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা

প্রেস পাস পুনর্বহাল সাংবাদিক অ্যাকস্টার

গাংনীতে অস্ত্র-মাদকসহ আটক ১

এরশাদকে ছেড়ে যাবো না

পর্যবেক্ষকরা মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে ভোট পর্যবেক্ষণ করবেন: ইসি সচিব (ভিডিও)

ভারতভুক্তির তিন বছর পর সাবেক ছিটবাসীরা জমির স্বত্ব পাচ্ছেন

‘পাকিস্তানকে বলির পাঁঠা বানাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র’

ফিরলেন এরশাদ

মহারাষ্ট্রে সেনাবাহিনীর অস্ত্রভান্ডারে বিস্ফোরণে নিহত ৬

বাংলাদেশী রেজাউরের কাণ্ড!