রাজবাড়ির কাজ হচ্ছে জানেন না কেউই

বাংলারজমিন

জাবেদ রহিম বিজন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে | ১৭ অক্টোবর ২০১৮, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ৭:০৪
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হরিপুর রাজবাড়ি সংরক্ষণের কাজ শুরু করেছে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ। তবে কি কাজ হচ্ছে তা জানেন না কেউ। কাজ তদারকিতেও দেখা পাওয়া যায়নি সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাউকে। গত কয়েক মাস ধরে এই কাজ চললেও এলাকার সংসদ সদস্য, উপজেলা প্রশাসন, ইউপি চেয়ারম্যান কেউই একাজ সম্পর্কে অবহিত নন। গায়েবি ভাবেই যেন কাজ হচ্ছে। জানা যায়-১৮শ’ শতাব্দীতে জমিদার কৃষ্ণপ্রসাদ রায় চৌধুরী তিতাস নদীর পূর্ব তীরে এই প্রাসাদটি নির্মাণ করেন। ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত মূলত এখানে তাদের বসতি ছিল। এর আরো বেশ ক’বছর পর এটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়।
বাড়িটির আয়তন এবং আড়ম্বরপূর্ণ স্থাপত্য ঐতিহাসিক যুগের শৈল্পিক নৈপুণ্যের স্বাক্ষর বহন করে। প্রায় ৫ একর জমির উপর নির্মিত এই বাড়ি। যাতে ৬০টি কক্ষে নাট্যশালা, দরবার হল, গুদাম, গোশালা, রন্ধনশালা, প্রমোদ কক্ষ, খেলার মাঠ, মঠ, মন্দির, মল, পুকুর ইত্যাদি বিদ্যমান। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বেহাল দশা হয়ে পড়ে এই বাড়ির। বাস্তুহারা মানুষ আশ্রয় নেয় বাড়িটিতে। বাড়ির দেয়ালের অধিকাংশ পলেস্তরা খসে পড়েছে এরই মধ্যে। সেখানে জমেছে শেওলার আবরণ। দৃষ্টি নন্দন কারুকাজের খুব অল্পকিছু অংশই বিলীন হওয়ার বাকি। শতাধিক বছর পেরুলেও বাড়িটিতে সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি কখনো। তারপরও সৌন্দর্য পিপাসু মানুষের কাছে এর আকর্ষণ কমেনি। বর্ষা মওসুমে যখন পানিতে চারদিক ভরে উঠে তখন এর সৌন্দর্য অনেকাংশে বেড়ে যায়। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অনেক লোক আসেন বাড়িটি দেখতে। ব্যবহার হয় বনভোজনের স্পট হিসেবে। ১৯৯৯ সালে পুর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মধুমালতী’, ২০০১ সালে টেলিফিল্ম ‘নাইওরী’ এবং ২০১২ সালে ‘ঘেটুপুত্র কমলা’র শুটিং হয় এখানে। অবশেষে এই বাড়িটি রক্ষণাবেক্ষণের দিকে নজর দেয় সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ। কয়েক মাস আগে কাজ শুরু করে তারা। সরজমিনে সেখানে গিয়ে দেখা যায় বাড়ির সামনের অংশের কাজ চলছে। পার্শ্ববর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বুধন্তী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. গাউছ মিয়া কাজটি দেখাশুনা করছেন। তবে গাউছ বিস্তারিত কিছু বলতে পারেননি। জানান- কাজের বিষয়ে জাকির সাহেব বলতে পারবেন। মোবাইল ফোনে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেন চৌধুরী জানান-তারা রাজবাড়ির সংস্কার ও সংরক্ষণের কাজ শুরু করেছেন। পর্যটনভিত্তিক একে গড়ে তোলার জন্যে যা যা করার দরকার তাই করবেন তারা। প্রাথমিকভাবে ৬/৭ লাখ টাকার কাজ হচ্ছে। ছোট দরপত্রের মাধ্যমে এই কাজ করা হচ্ছে। ভৈরব বাড়ি এই প্রকৌশলী বলেন-এক মাস ১০দিন সময়ের মধ্যে পুরাকীর্তিকে সংরক্ষণের কোনো রেকর্ড নেই। আমি এটি করিয়েছি আমাদের এলাকার বলে। অবশ্য বিজয়নগর উপজেলার ইসলামপুরের বাসিন্দা একজন সচিব এবং প্রয়াত মন্ত্রী ছায়েদুল হকের এ ব্যাপারে রিকোয়েস্ট ছিল। এই প্রেক্ষাপটেই এটি করা হয়েছে। মে মাস থেকে কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে এই কাজের বিষয়ে কোনো কিছুই বলতে পারেননি হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান দেওয়ান আতিকুর রহমান আখি। কাজের কোনো কিছুই জানেন না উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ পারভেজ মজুমদার। তিনি বলেন- তারা নিজেরাই কাজ করছে। কি করছে না করছে তা আমাদের জানানো হয়নি। এলাকার সংসদ সদস্য বিএম ফরহাদ হোসেন সংগ্রামের কাছে কাজের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তার অজ্ঞতাই প্রকাশ করেন।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

kazi

২০১৮-১০-১৬ ২৩:৩৯:৩৬

বেশী জানাজানি হলে কাজ করাই অসম্ভব হত।বখরা চাইত সবাই । বর্তমানে এই হল বাস্তবতা। পুরাকীর্তি কারও কাছে মূল্যহীন ।

আপনার মতামত দিন

প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে ইসির অনাপত্তি, মুহিতকে নিষেধ

নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের স্ট্যাটাস কী হবে জানতে চান কূটনীতিকরা

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের উদ্বেগ

কারাগারে থেকে ভোটের প্রস্তুতি

শহিদুল আলমের জামিন

ধানের শীষে লড়বে ঐক্যফ্রন্ট

নিপুণ রায় চৌধুরী গ্রেপ্তার

আতঙ্ক উপেক্ষা করে পল্টনে ভিড়

বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত

কুলাউড়ায় সুলতান মনসুরের বিপরীতে কে?

ঢাকার প্রচেষ্টা ব্যর্থ

নির্বাচন পেছাবে না ইসির সিদ্ধান্ত

ঝিনাইদহে ৩৭৪ মামলায় আসামি ৪১ হাজার

বিএনপি আবার আগুন সন্ত্রাস শুরু করেছে

বড় জয়ে সিরিজে সমতা

উত্তেজনায় ফুটছে বৃটিশ রাজনীতি, চার মন্ত্রীর পদত্যাগ