‘আইন পাস হয়ে গেছে, এখন কিছু করার নেই’

প্রথম পাতা

দীন ইসলাম | ১৬ অক্টোবর ২০১৮, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:৩৪
‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮’ নিয়ে মন্ত্রিসভায় এজেন্ডা বহির্ভূত আলোচনা হয়েছে। গতকাল সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে আইনটি নিয়ে অনির্ধারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুমোদন হওয়া সম্প্রচার আইন নিয়ে আলোচনার আগেই আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক মন্ত্রিসভার উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা জাতীয় সংসদে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি পাস করেছি। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কিছু ধারার বিষয়ে সম্পাদক পরিষদসহ সাংবাদিক নেতাদের আপত্তি রয়েছে। এজন্য সম্পাদক পরিষদসহ সাংবাদিক নেতারা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। এ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী, আমি এবং তথ্য উপদেষ্টা মিলে সাংবাদিক নেতা ও সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে বৈঠক করেছি।

এ বৈঠকে তারা কিছু আপত্তির কথা জানিয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক মন্ত্রী সূত্রে জানা গেছে, আইনমন্ত্রীর বক্তব্য শেষ হওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এ আইন তো জাতীয় সংসদে পাস হয়ে গেছে।
এখন এ বিষয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে আলোচনার কী আছে? এ সময় যুক্তরাজ্যের উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে (যুক্তরাজ্যে) এ আইন আরো কড়া। এ আইন কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য করা হয়নি। যারা সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করে তাদের বিরুদ্ধে সরকার কড়া অবস্থানে থাকবে। যারা সত্য অনুসন্ধানী তাদের তো কোনো সমস্যা না। যারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে সরকার, দেশ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় তাদের জন্য এই আইন। এ সময় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে সম্পাদক পরিষদের মানববন্ধনের বিষয়টি তুলে ধরলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন সম্পাদক তো সব সময় আমার বিরুদ্ধে লেখার জন্য প্রস্তুত থাকে। পদ্মা সেতুর অর্থায়ন যাতে না হয় সে জন্য ড. ইউনূসের সঙ্গেও তিনি বিশ্বব্যাংকে গিয়ে কথা বলেছিলেন। এসব সম্পাদক তো বিভিন্ন সময় ভুল নিউজ ছেপে সেটি তাদের নয় একটি সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার নিউজ বলে দুঃখ প্রকাশও করে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে এত উদ্বেগ কেন? ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থ চিন্তা থেকে বিবেচনা করলে হবে না। সমগ্র রাষ্ট্র ও সমাজের কল্যাণের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিবেচনা করতে হবে। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কোনো বাধা হবে না। এরপর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে আলোচনা বেশিদূর এগোয়নি। এদিকে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ গণমাধ্যমের জন্য করা হয়নি দাবি করে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, আমরা মনে করি, সম্পাদক পরিষদের তথ্যের ঘাটতি আছে। সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে কথা হয়েছিল। তখন বলেছিলাম মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে উত্থাপন করবো। তবে অমুক মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে আলোচনা করবো এ কথা বলিনি। মন্ত্রিপরিষদে এই আইন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী খোলামেলা আলোচনা করেছেন।

এরপরও যদি এই আইন নিয়ে কোনো আলোচনা থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মন্ত্রণালয় আলোচনা করে দেখবে। প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা) খোলামেলা আলোচনা করেছেন জানিয়ে ইনু বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- এই আইন করা হয়েছে শিশুদের নিরাপত্তার জন্য, সাইবার অপরাধীদের জন্য, হ্যাকারদের জন্য, ডিজিটাল সমাজের নিরাপত্তার জন্য। কোনো অবস্থায়ই গণমাধ্যমের জন্য করা হয়নি। এই আইনের কোনো জায়গায় গণমাধ্যমের কর্মীদের কথা বলা হয়নি। এরপরও যদি এই আইন নিয়ে কোনো আলোচনা থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মন্ত্রণালয় আলোচনা করে দেখবে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

kazi

২০১৮-১০-১৬ ০০:২৯:২৬

সবাইকে বিগড়ানো হলে নির্বাচনে পরাজয় হবে। তখন এই আইনটিই আজকের বিরোধী দল ক্ষমতাসীন দলের সদস্যদের উপর অপপ্র্রয়োগ করে অত্যাচার করবে। সাংবাদিকরা অত্যাচারের ভয়ে সত্য কথা লিখবে না। তাই আগামী অধিবেশনে সংশোধন করে সাংবাদিকদের খুশি করে জন সমর্থন বাড়ানো উচিত ।

ওমর ফারুক

২০১৮-১০-১৫ ১৬:৩৯:১৯

তথ্য মন্ত্রীর বক্তব্য শাক দিয়ে মাছ ঢাকার ন্যায়। সম্পাদকদের বাকস্বাধিনতা ও কলমি শক্তি হরনের অপচেষ্টা চলছে।

আপনার মতামত দিন

নির্বাচন বর্জন নয়, কেন্দ্র পাহারা দিন

হঠাৎ কবিতা খানমের সুর বদল

ফাঁকা মাঠে গোল নয়

রেজা কিবরিয়া ঐক্যফ্রন্টে

সংখ্যালঘু নির্যাতনকারীদের নির্বাচনে মনোনয়ন না দেয়ার দাবি

‘ফের বাংলাদেশের বিরুদ্ধে’

মামলার বাদী যখন খুনি

ক্ষমতায় গেলে যেসব কাজ করবে ঐক্যফ্রন্ট জানালেন ডা. জাফরুল্লাহ

‘নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে’

বিএনপিতে মনোনয়ন যুদ্ধে সাবেক ছাত্র নেতারা

তলাফাটা নৌকা নিয়ে কতদূর যেতে পারেন দেখাতে চাই

সিলেটে জামায়াতকে ছাড় দিতে চায় না বিএনপি

রাষ্ট্র ভিন্নমতাবলম্বীদের সহ্য করতে পারছে না

নয়া মার্কিন দূত মিলার ঢাকা আসছেন আজ

দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে নাগরিক ঐক্য

ভোট পর্যবেক্ষণের আবেদন ২১ নভেম্বরের মধ্যে