রায়ে অখুশি আহতরা

প্রথম পাতা

শুভ্র দেব | ১১ অক্টোবর ২০১৮, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:১১
নারকীয় ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলার রায়ে পুরো খুশি নন এ ঘটনায় আহতরা। নিহতদের স্বজনরাও এমন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তবে দীর্ঘ ১৪ বছর পর রায় ঘোষণা হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তারা। আহতদের দাবি ‘হামলার পরিকল্পনাকারী তারেক রহমান’। তার মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত ছিল। রায়ে যাদের মৃত্যুদণ্ড  দেয়া হয়েছে তা দ্রুত কার্যকর করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
গ্রেনেড হামলায় আহত মো. সম্রাট আকবর সবুজ নাজিম উদ্দিন রোডের বিশেষ আদালতের সামনে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ১৪ বছর ধরে এই দিনটার জন্য আমি অপেক্ষায় ছিলাম। ২০০৪ সালের ওই দিনটি ইতিহাসের একটি কলঙ্কিত দিন।
ওই দিন শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে চিরতরে ধ্বংস করার জন্য গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। হামলায় আমাদের অনেক শুভাকাঙ্ক্ষীদের হারিয়েছি। পাশাপাশি আমার মতো অনেকেই পঙ্গু হয়ে ঘরে বসে আছে। দীর্ঘদিন পর এই রায় হওয়াতে আমি খুশি হয়েছি। তবে রায়ে হামলার পরিকল্পনাকারী তারেক রহমানকে ফাঁসি দেয়া হয়নি। সম্রাট বলেন, ওই ঘটনাই আমার পুরো জীবনটাকে শেষ করে দিয়েছে।

গ্রেনেড হামলার চিহ্ন শরীরে বয়ে বেড়ানো হারুন অর রশীদ বলেন, অনেক প্রতীক্ষার বিচার পেলাম। জীবিত থেকেই এই বিচার দেখে যেতে পেরেছি বলে ভালো লাগছে। তবে আমরা চেয়েছিলাম ২৪ জন হত্যাকাণ্ডের এ মামলায় সব আসামিকে সমান শাস্তি দেয়া হবে। মূল হোতাদের যাবজ্জীবন হওয়াতে আমরা কিছুটা অখুশি। এদিকে রায় শুনতে আসা আহত রাশিদা আক্তার রুমা মানবজমিনকে বলেন, আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী রায় হয়নি। আমরা চেয়েছিলাম এই ভয়ঙ্কর হামলার মূল নায়ক তারেক রহমানের ফাঁসি হবে। কিন্তু আদালত তাকে ফাঁসি দেননি। আমরা এখন উচ্চ আদালতে আপিল করব। তিনি বলেন, চোখের সামনে সেদিনের বর্বরতা এখনও ভেসে ওঠে। শরীরের যন্ত্রণায় রাতে ঘুমাতে পারি না। সারা শরীরে এখনও শত শত স্প্লিন্টার। ১৭ বার অস্ত্রপাচার করতে হয়েছে। আমার একটি পায়ের নিচের অংশ কেটে ফেলে দিতে হবে। রুমা বলেন, ওইদিন আমাদের কী দোষ ছিল। মূলত আমাদের নেত্রীকে হত্যার উদ্দ্যেশে এমন পরিকল্পনা করা হয়েছিল। দ্রুত তাদের ফাঁসি কার্যকর করতে হবে।

একুশে আগস্ট বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন নাজমুল বলেন, রক্তাক্ত ওই ঘটনার মামলার রায় খুব দ্রুত হওয়াতে আমাদের সন্তুষ্টি আছে। কারণ, ১৪টা বছর আমরা কষ্ট করেছি। রায় হওয়াতে ভালো লাগছে। তবে আমাদের প্রত্যাশা ছিল তারেক রহমানকে ফাঁসি দেয়া হবে। আদালত সেটা করেননি। তার পরও আদালতের প্রতি আমাদের সম্মান রয়েছে। এখন উচ্চ আদালতে আপিল করে আমরা তারেক রহমানের ফাঁসি চাইব। তিনি বলেন, আমি চাই সুষ্ঠু বিচারের মধ্যদিয়ে নিহতদের আত্মার শান্তি পাক এবং আমরা যারা এখনও বেঁচে আছি, তাদের যেন প্রত্যাশা পূরণ হয়।
একুশে আগস্ট বাংলাদেশের ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক বাহার মিয়া বলেন, ১৪ বছর ধরে শরীরে তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে বিচারের অপেক্ষায় ছিলাম। আমাদের প্রত্যাশার সেই রায় হলেও তারেক রহমানের সাজা কম হওয়াতে এতটা খুশি হইনি। আমরা সুবিচার চাই। যার পরিকল্পনায় এমনটা হলো তাকে কেন কম সাজা দেয়া হবে।

আহত মাহমুদা মনোয়ারা বেগম বলেন, রায়ে সন্তুষ্ট হলেও আমরা চাই তারেক রহমানের ফাঁসি হোক। তাকে বিদেশ থেকে এনে আবার রায় ঘোষণা করে ফাঁসি কার্যকর করা হোক। এটা ১৬ কোটি মানুষের দাবি। ওই হামলায় আমার জীবনটা শেষ হয়ে গেছে। আহত সুফিয়া বেগম বলেন, এ রায়ে আমি সন্তুষ্ট, আবার সন্তুষ্ট না। আমি চাই তারেক জিয়াকে দেশে এনে ফাঁসিতে ঝুলানো হোক। সেদিনের কথা এখনো কানে বাজে। রাতে ঘুমাতে পারি না। ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শরীরে ১৮০০ স্প্লিন্টার নিয়ে বেঁচে থাকা মাহবুবা পারভীন বলেন, তারেক রহমান ছিল ওই হামলার মাস্টার প্ল্যানার। কিন্তু রায়ে তার ফাঁসি হলো না। এটি কেমন রায় হলো? গ্রেনেড হামলায় নিহত শামসুদ্দীনের স্ত্রী আয়শা বেগম বলেন, যে রায় হয়েছে তার থেকে ভালো রায় আশা করেছিলাম। কিন্তু কী আর বলব, কিছু বলার নেই। আবুল কাশেম নামের আরেক ভুক্তভোগী জানান, এ রায়ে আমাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

এদিকে মামলার প্রত্যক্ষ সাক্ষী বদর আজিজ উদ্দিন রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন। এ রায় কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি। বদর আজিজ উদ্দিন বলেন, আমি এ মামলার প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী। ১৫৪ নম্বর সাক্ষী। যে রায় ঘোষণা হয়েছে তা কিছুতেই মেনে নেয়ার মতো না। ঘটনার মাস্টার মাইন্ড তারেক রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। অথচ তার ফাঁসি হওয়ার কথা ছিল। তিনি আরো বলেন, ২০০৪ সালে আমি প্রথম মামলা করি। সেসময় মামলার কাজ বন্ধ ছিল। পরে আবার এ মামলা নিয়ে তদন্ত শুরু হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। আমরা অপেক্ষা করছিলাম আমাদের প্রত্যাশিত রায় শুনবো।

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহত হয়েছিলেন তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঘটনার দিন আমি সমাবেশে উপস্থিত ছিলাম। সেখানেই গ্রেনেড হামলার শিকার হই। আমার পায়ে স্প্লিন্টারের আঘাত লাগে। এখনো বাম পায়ের নিচের অংশ কালো হয়ে আছে। এ অবস্থায় আমি কুয়েত চলে যাই। কিন্তু সে দেশে আমার অপারেশন না হওয়ায় দেশে ফিরে এসেছি।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

kazi

২০১৮-১০-১০ ২২:০৪:৫৮

রায়ে প্রত্যেক আহত ও নিহত পরিবারের জন্য আসামিদের কাছ থেকে আদালত ক্ষতিপূরণ আদায় করেন নি।

আপনার মতামত দিন

ছাত্রের সঙ্গে শিক্ষিকার যৌন সম্পর্ক

বিদায় সোনালী কাবিন-এর কবি

প্রথম ধাপের আখেরি মোনাজাতে কল্যাণের ফরিয়াদ

অ্যামাজনকে টেক্কা দিতে চান বাংলাদেশি ইমরান

জীবন ভিক্ষা চাইলেন আমান

গণশুনানির জন্য হল পাচ্ছে না ঐক্যফ্রন্ট

মঞ্জু মুখ খুললেন

যানজটে বিশ্বের শীর্ষ শহর ঢাকা

আইসিসির সিদ্ধান্তকে স্বাগত প্রধানমন্ত্রীর

মেহেদীর রং না মুছতেই ঘাতক বাস কেড়ে নিলো তাসনিমকে

‘হঠাৎ বস বাড়ি চলে যেতে বলেন’

ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা তুঙ্গে, সীমান্ত থমথমে

প্রার্থীর চেয়ে পরিবেশ নিয়েই আলোচনা বেশি

সংরক্ষিত আসনে ৪৯ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত

রাজধানীতে শিশুকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত আটক

এক ধর্ষিতার বাঁচার লড়াই