সিলেটে বিএনপি’র বিক্ষোভ, ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগ

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট থেকে | ১১ অক্টোবর ২০১৮, বৃহস্পতিবার
২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা-মামলার রায়ের প্রতিবাদে সিলেটে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠন। গতকাল বেলা সোয়া ১টার দিকে নগরের নয়াসড়ক এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করে তারা। তাছাড়া দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিলেটে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি। সিলেট রেজিস্টারি মাঠে এই কর্মসূচি পালন করা হবে বলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বিএনপি।  

কিন্তু রায়ে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান (বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) তারেক রহমানকে ফাঁসি না দিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছে সিলেট আওয়ামী লীগ। রায় ঘোষণার পর নগরের কোর্ট পয়েন্টে অবস্থান নেয়া জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় তারা বলেন, বর্বরোচিত ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনার মূল নায়ক তারেক রহমান। কিন্তু সেই মাস্টারমাইন্ড তারেকের ফাঁসির আদেশ না হওয়ায় সিলেটের মানুষ হতাশ হয়েছে।


এদিকে রায়কে ঘিরে যে কোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে প্রস্তুত ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সকাল থেকে পুলিশের রায়টকার নগরের বিভিন্ন সড়কে টহল অব্যাহত রাখে।

এ রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় আইভি রহমানসহ ২৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় খালেদা-নিজামীর চারদলীয় জোট সরকারের মন্ত্রী-এমপি ছাড়াও মাস্টারমাইন্ড তারেক দায়ী। সারা দেশের মানুষ তারেক রহমানের ফাঁসি চেয়েছিল। কিন্তু জাতি আজ হতাশ হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আদালতের প্রতি সম্মান রেখে বলছি, মামলার রায়ের বিরুদ্ধে তারেকের ফাঁসি চেয়ে আপিল করবো।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, ২১শে আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার মূল নায়ক তারেকের ফাঁসি না হওয়াতে আমরা হতবাক, হতাশ হয়েছি।
সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, তৎকালীন জোট সরকার বর্বরোচিত এ হামলাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছিল। তারা জজমিয়া নাটক সাজিয়েছিল। যে হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা আইভি রহমানসহ ২৪ জন নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। শত শত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ ঘটনার মূল নায়ক তারেকের ফাঁসি না হওয়ায় সারা দেশের মানুষ হতাশ হয়েছেন। আমরা তারেক জিয়ার ফাঁসি দাবি করছি।  এ সময় জেলা, মহানগর আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এরপর আওয়ামী লীগ নেতারা রাজপথ ছেড়ে জেলা পরিষদের সামনে এসে অবস্থান নেন। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিএনপির নেতাকর্মীদের রাজপথে দেখা যায়নি।

এদিকে, ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা-মামলার রায়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলে বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজমল চৌধুরী সাদেক, মহানগর সহ-সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা সহ-সভাপতি শাহাব উদ্দিন, মহানগর দপ্তর সম্পাদক  সৈয়দ রেজাউল করিম আলো, স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক হাবিবুর আহমদ চৌধুরী শিলু ও আপ্যায়ন সম্পাদক আফজাল উদ্দিন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিলেট বিভাগীয় সহ-সভাপতি মাহবুবুল হক চৌধুরী, জেলা বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক আবদুল মালেক, বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেন জয়, হাবিবুর রহমান হাবিব, সাবেক ছাত্রনেতা কয়েস আহমদ ও আজাদুর রহমান আজাদ প্রমুখ। একই সময়ে নগরীর আম্বরখানায় স্বেচ্ছাসেবক দল ও ধোপাদিঘীর পাড় এলাকায় ছাত্রদল পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। তবে নগরের কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার পরিতোষ ঘোষ বলেন, নগরের সার্বিক পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের কঠোরভাবে দমন করা হবে। তাছাড়া রায় ঘোষণার পর থেকে সিলেট নগরী জুড়ে রয়েছে সরকারি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ও সাদা পোশাকধারী নারী ও পুরুষ সদস্যরা। যাতে করে কোনো ধরনের চোরাগুপ্তা হামলা বা নাশকতার সৃষ্টি না হয়, সেজন্য কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।  এছাড়া র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৯) এর সিনিয়র এ এস পি মনিরুজ্জামান জানান, ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই এ মামলার রায়কে ঘিরে যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে সেজন্য আমাদের পক্ষ থেকে বাড়তি টহল জোরদার করা হয়েছে। তাছাড়া সিলেট জুড়ে আমাদের গোয়েন্দা পুলিশের বাড়তি নজরদারি রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ এ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। অল্পের জন্য ওই হামলা থেকে প্রাণে বেঁচে যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি, তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা। তবে হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, সাবেক রাষ্ট্রপতি (প্রয়াত) জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভী রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন দলের তিন শতাধিক নেতাকর্মী। ঘটনার পরদিন মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে মামলা করেন।




এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

বিয়ে নিয়ে এলাহিকান্ড

টুইটার প্রধান কী লিখে তোপের মুখে পড়েছেন ?

সতর্ক করা হয়েছে মিয়ানমারের মন্ত্রীকে

‘এখন আর সেই চাপ নেই’

হাইকোর্টের আদেশের পর ধানের শীষ পেলেন ৩ প্রার্থী

মাঠের লড়াই শুরু

১০ বছরে দ্রুত বেড়েছে ধনী-গরিব বৈষম্য

ধ্রুপদী লড়াই

ইমরান এইচ সরকারের মনোনয়নপত্র গ্রহণের নির্দেশ

বিএনপিতে নতুন মুখের জয়জয়কার

উন্মুক্ত আসনের রাজনীতির নেপথ্যে কী?

মহাজোটে পুরনো আর অভিজ্ঞদের প্রাধান্য

প্রার্থিতা ফিরে পেতে খালেদা জিয়ার রিট

ব্যাংক লুটেরাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি টিআইবির

পেট্রোলবোমার পাশাপাশি লগি-বৈঠা, ব্যাংক লুট বাকস্বাধীনতা হরণের কথাও তুলে ধরা যেতো

রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নিয়ে বিব্রত ইসি