আইভি আপার পা’টা বিচ্ছিন্ন হয়ে আমার শরীরেই ছিল

দেশ বিদেশ

মরিয়ম চম্পা | ১১ অক্টোবর ২০১৮, বৃহস্পতিবার
ওইদিন আমি অ্যাসাইনমেন্টে ছিলাম। আইভি আপা আর আমি এক সঙ্গেই দাঁড়ানো ছিলাম। আমি তার পেছনে দাঁড়ানো ছিলাম। যখন ঘটনা ঘটে তখন আইভি আপার বিচ্ছিন্ন পা’টা আমার শরীরের ওপরে পড়েছিল। ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার এমনই লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার ডেপুটি চিফ ফটোগ্রাফার আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, তার পা’টা ছুটে গায়ে এসে পড়ে। খুব কাছ থেকে দেখেছিলাম পুরো বিষয়টি। আনিসুর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা তখনো আসেননি।
যখন তিনি আসলেন তখন ভিড়ের চাপে আমি মহিলাদের মাঝে চলে গিয়েছিলাম। এ সময় আমি অনেকবার ট্রাকের স্টেজে যাওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু সিকিউরিটি আমাকে যেতে নিষেধ করেন। তিনি আমাকে বলেন, এদিকে আসিয়েন না উপরে অনেক ঝামেলা। যে সিকিউরিটি এ কথা বলেছিল তার নাম ছিল মাহবুব। শেখ হাসিনার বক্তৃতা শেষ হতে না হতেই বিস্ফোরণ। দ্বিতীয় গ্রেনেডটি যখন বিস্ফোরিত হয় তখন মাহবুব মারা যায়। এভাবে একে একে ৫টি গ্রেনেড ফুটলো। আইভি আপা আহত হওয়ার পর পেছন থেকে দুটো ছেলে ধরে রাখার যে ছবি সোস্যাল মিডিয়ায় এখন দেখা যায় ওটা আমারই তোলা। ঘটনার দিন ট্রাকে আমাদের ৪ জন ফটোগ্রাফার ছিল। আমি একমাত্র নিচে ছিলাম। আমার সঙ্গে শওকত জামিল ও প্রথম আলোর জিয়া ছিল। তাদের মধ্যে শওকত জামিল মারা গেছে। মিটিং শুরু হওয়ার দুই মিনিট আগে তারা ওই জায়গা ছেড়ে চলে যায়। সেদিনের স্মৃতি হাতড়ে আনিসুর বলেন, বক্তৃতা প্রায় শেষ পর্যায়ে। এ সময় মতিয়া চৌধুরী আপা এসে আইভি আপাকে বললেন, ‘আপা আসেন আমরা আগেই চলে যাই’ মিছিল শুরু হয়ে ৩২ নম্বরে যাবে। তখন আইভি আপা বলেছিলেন ‘আপা আপনি যান আমি আসতেছি’। এটাই ছিল আমার শোনা আইভি আপার শেষ কথা। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এই ধরনের কালো ঘটনা যেন আর না ঘটে। আমি কোন দলের সাপোর্ট করি বা করি না এটা কোনো বিষয় না। আজকে যে রায়টা হলো তাতে একজন প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আমি সত্যিকারেই অনেক অনেক খুশি।
দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান ফটো সাংবাদিক জিয়াউল ইসলাম বলেন, এত বছর ধরে সাংবাদিকতা করছি নৃশংসতা, বোমা হামলা, গোলাগুলি অনেক কিছুই দেখেছি। কিন্তু ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনা আর কখনো দেখিনি। প্রথম দিকে আমরা বুঝতে পারিনি যে ওটা এতো শক্তিশালী গ্রেনেড এবং এতগুলো লোক মারা যাচ্ছে। পরবর্তীতে বুঝতে পারি এটা কতবড় ভয়াবহ ঘটনা ছিল। ওইদিন আমার কোনো অ্যাসাইনমেন্ট ছিল না। একেবারে শেষ মুহূর্তে আমাদের বিভাগীয় প্রধান ফিরোজ ভাই বললেন যে, তুমি যাও ওখানে আওয়ামী লীগের সমাবেশ আছে। সমাবেশে যাওয়ার পরে শেখ হাসিনার বক্তব্য যখন শেষ পর্যায়ে তখন আমি শেখ হাসিনাসহ মঞ্চের পুরো অর্ডিয়েন্সকে নিয়ে একটি ছবি তুলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু একজন ফটোগ্রাফার যেমন ছবি তুলতে চায় সেরকম ছবি কেন জানি হচ্ছিল না। তারপর ভাবলাম ওখান থেকে জিরো পয়েন্টে এসে ছবিটা তুলবো। সামনে পুরো লোকজনসহ শেখ হাসিনার ছবি নিবো। কিন্তু সেটা নিতে পারলাম না। সেকেন্ডের মধ্যে পুরো ঘটনাটি ঘটলো। বোম ব্লাস্ট হলো। পুলিশের গোলাগুলি শুরু হয়ে গেল। সবমিলিয়ে আক্রমণ শুরু হলো। চারদিকে হাহাকার। আর্তনাদ। চিৎকার। এ সময় আমি ছিটকে পড়ি। অনেকেই আমার উপর পড়ে। সবাই যখন আমার ওপরে তখন আমি শুয়ে শুয়ে হাত উঁচিয়ে এলোমেলোভাবে অনবরত ছবি তুলছিলাম। সেই ছবিগুলোতে জিল্লুর রহমান থেকে শুরু করে আরো অনেকের অনেক রকম ছবি উঠেছিল। তখন ক্যামেরায় আমার চোখ ছিল না। সবগুলো ছবি আমার হাতের মেজারমেন্টে বা পরিমাপে তুলেছিলাম। গ্রেনেড বিস্ফোরণের পর গোলাগুলি শুরু করেছিল পুলিশ। গোলাগুলি শেষে যখন তাকালাম একেবারে হতভম্ব হয়ে গেলাম। বারবার মনে হচ্ছিল কোনো একটি যুদ্ধের ময়দানে দাঁড়িয়ে আছি।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

‘এখন আর সেই চাপ নেই’

হাইকোর্টের আদেশের পর ধানের শীষ পেলেন ৩ প্রার্থী

১০ বছরে দ্রুত বেড়েছে ধনী-গরিব বৈষম্য

ধ্রুপদী লড়াই

ইমরান এইচ সরকারের মনোনয়নপত্র গ্রহণের নির্দেশ

বিএনপিতে নতুন মুখের জয়জয়কার

উন্মুক্ত আসনের রাজনীতির নেপথ্যে কী?

মহাজোটে পুরনো আর অভিজ্ঞদের প্রাধান্য

প্রার্থিতা ফিরে পেতে খালেদা জিয়ার রিট

ব্যাংক লুটেরাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি টিআইবির

পেট্রোলবোমার পাশাপাশি লগি-বৈঠা, ব্যাংক লুট বাকস্বাধীনতা হরণের কথাও তুলে ধরা যেতো

রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নিয়ে বিব্রত ইসি

যে ব্যাখ্যা দিলেন কামাল মজুমদার

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিদেশিদের ভ্রমণ বন্ধ!

ঝিনাইদহে বিএনপি প্রার্থী মজিদের কার্যালয়ে হামলা ভাঙচুর, আহত ১৫

মর্যাদার আসনে লড়াইয়ে মোমেন-মুক্তাদির