নির্বাচনী হালচাল সিলেট ৬

জোট-মহাজোটে জটিল হিসাব

শেষের পাতা

মিলাদ জয়নুল, বিয়ানীবাজার (সিলেট) থেকে | ১০ অক্টোবর ২০১৮, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:০৩
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ নির্বাচনী আসনে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে জোট-মহাজোটে চলছে জটিল হিসাব-নিকাশ। কোন জোটে কার ভাগ্যে দলীয় প্রতীক জুটবে- এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। সাংগঠনিক শক্তির বিচারে এখানে আওয়ামী লীগ মূল রাজনৈতিক শক্তি। এরপরও জোটের হিস্যা মেলাতে শরিক দলগেুলোকে আসনটি ছেড়ে দেয়া হয়েছে বারবার। জোট-মহাজোটের মারপ্যাঁচের কারণে আলোচিত এ আসনে এবারও প্রার্থিতা নির্ভর করছে জোটের রূপ কেমন দাঁড়ায় তার উপর।

বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৬ আসনটি। এ আসনে স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে কোনো দলই নিরঙ্কুশ জয় পায়নি। এখান থেকে আওয়ামী লীগের আবদুর রহিম ও নুরুল ইসলাম নাহিদ, জাতীয় পার্টির গৌছ উদ্দিন ও শরফ উদ্দিন খসরু, স্বতন্ত্র থেকে ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন লেছু মিয়া এমপি নির্বাচিত হন।
২০০৮ সালে চারদলীয় জোট থেকে সিলেট-৬ আসনে মনোনয়ন পান জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা হাবীবুর রহমান। এবার আওয়ামী লীগের ৪ জন, বিএনপি’র ৫ জন, জাতীয় পার্টির ১ জন এবং জামায়াতে ইসলামীর ১ জন প্রার্থী মনোনয়ন পেতে আগ্রহী। তবে এ আসনের এমপি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এ আসনের চেহারা পাল্টে দিয়েছেন। উন্নয়নে রেখেছেন ব্যাপক ভূমিকা। একজন নিরেট ভদ্রলোক হিসেবে সবার কাছে তিনি সমাদৃত।


দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ থেকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, কানাডা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছরওয়ার হোসেন, লন্ডন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আফছার খান সাদেক এবং ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য মোহাম্মদ জাকির হোসেন, বিএনপি থেকে জাসাসের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হেলাল খান, জেলা বিএনপি’র সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী, জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি ও সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি এডভোকেট রশিদ আহমদ এবং জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ফয়ছল চৌধুরী,  জাতীয় পার্টি থেকে হুইপ সেলিম উদ্দিন এবং জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা হাবীবুর রহমান নির্বাচন করতে বিভিন্নভাবে লবিং করছেন। এদের পাশাপাশি সুযোগের অপেক্ষায় আছেন সাবেক সংসদ সদস্য এবং নির্বাচনী মাঠের দক্ষ খেলোয়াড় ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন লেছু মিয়া। এ প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ-বিএনপি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী সব প্রার্থীই দলীয় হাইকমান্ডের সবুজ সংকেত পেয়েছেন বলে কর্মীদের অবহিত করেছেন।

সূত্র জানায়, জাতীয় পার্টিকে নিয়ে আওয়ামী লীগের মহাজোট বজায় থাকলে এ আসন থেকে কে মনোনয়ন পাবেন- এ নিয়ে যেমন অনিশ্চয়তা আছে একইভাবে জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি নির্বাচনে গেলে কার ভাগ্যে বিরোধী এ জোটের মনোনয়ন জুটবে, তা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হেলাল খান জানান, ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে আমাকে মনোনয়নের ব্যাপারে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। আমি এবার সিলেট-৬ আসন থেকে নির্বাচন করবো, ইনশাআল্লাহ্‌। জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি এডভোকেট রশিদ আহমদ বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনসহ সব রাজবন্দির মুক্তি দিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

এছাড়া হাইকমান্ডের নির্দেশে গত ১০ বছর ধরে কাজ করে দলকে সুসংগঠিত করছি। বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের সহযোগিতা দিয়ে আসছি। আশা করছি দলের হাইকমান্ড আমার যোগ্যতা ও রাজনৈতিক ত্যাগ বিবেচনা করে আমাকেই মনোনয়ন দেবেন। একই জোটের অপর প্রার্থী ফয়ছল চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার জরিপে আমাকে দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে এগিয়ে রাখা হয়েছে। এমরান আহমদ চৌধুরী জানান, বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেলে আমিই দলীয় প্রার্থী হবো, এটা নিশ্চিত করে বলতে পারি।

আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী আফছার খান সাদেক বলেন, সিলেট-৬ আসনে নেত্রী নতুন মুখ খুঁজছেন। আমাকে হাইকমান্ড থেকে মাঠে কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আমি তো মাঠেই আছি। তবে আমি ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রচারণার বিপরীতে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে সরকারের উন্নয়ন কাজের তথ্য অবহিত করছি। ছরওয়ার হোসেন হোসেন জানান, নেত্রীর সবুজ সংকেতে বিয়ানীবাজার- গোলাপগঞ্জ এলাকার সর্বত্র চষে বেড়াচ্ছি। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সম্পাদন করে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে পেরেছি বলে মনে করি। দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করবো। জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী হুইপ সেলিম উদ্দিন লন্ডনে এক সভায় সিলেট-৫ ও সিলেট-৬ আসনে তিনি নির্বাচন করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।

এদিকে ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন লেছু মিয়া জানান, নির্বাচন করতে আমি প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। এখন সময়ের অপেক্ষা। আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের কথা- নুরুল ইসলাম নাহিদই পাচ্ছেন এ আসনে নৌকার টিকিট। এলাকায় তিনি স্বচ্ছ রাজনৈতিক হিসেবে পরিচিত। এছাড়া শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে তিনি তার নিজ আসনে শিক্ষার উন্নয়নেও কাজ করেছেন। তবে বিএনপি জোটে কে হচ্ছেন প্রার্থী তা এখনও পর্যন্ত রয়ে গেছে অজানা।

আগামীকাল: টাঙ্গাইল-২



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

দেশের স্বার্থে নতুন মেরূকরণ হতে পারে

এমপিদের লাগাম টানছে না ইসি

স্টিয়ারিং কমিটিতে যারা থাকছেন

এনডিআই-এর নির্বাচনী ২০ দফা

সিলেটে একদিন পিছিয়েও সমাবেশের অনুমতি পায়নি ঐক্যফ্রন্ট

জাপার দুর্গে আওয়ামী লীগের দৃষ্টি

শিক্ষকদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

সৌদি আরবে শঙ্কায় লাখ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক

তিন জেলায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত ৪

তিনদিনের সফরে ঢাকায় এলিস ওয়েলস

টাঙ্গাইলে দীপু মনির জনসভা বাতিল, উত্তেজনা

খাসোগি হত্যার দায় স্বীকার সৌদির

ল্যান্ডমার্ক ম্যাচে মাশরাফিদের অন্য ‘লড়াই’

জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্ট ঘোষণা

‘ক্ষমতায় গেলে ৭ দিনের মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল’

‘ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই’