জামিন নিতে ঢাকায় এসে আরেক গায়েবি মামলায় গ্রেপ্তার

শেষের পাতা

রুদ্র মিজান | ১০ অক্টোবর ২০১৮, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ১০:১৬
একটি ‘গায়েবি’ মামলায় জামিন নিতে এসে আরেক ‘গায়েবি’ মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন চার তরুণ। রাজধানীর ফকিরাপুলের একটি আবাসিক হোটেল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাদের। সিলেটের একটি গায়েবি মামলার আসামি তারা। ওই মামলায় জামিন নিতে এসেছিলেন উচ্চ আদালতে। আদালত জামিন মঞ্জুরও করেছিলেন। প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন রাতেই বাড়িতে ফিরবেন। কিন্তু তাদের আর ফেরা হয়নি। মতিঝিল থানায় দায়েরকৃত মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় তাদের।
সোমবার বিকালে যখন সিলেটে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তখন হঠাৎ করেই হোটেল কক্ষে পুলিশের অভিযান। কিছু বুঝে উঠার আগেই গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয় মতিঝিল থানায়। গত ৩০শে সেপ্টেম্বরের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় তাদের। ওই দিন বিএনপি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করে। সমাবেশের দিন পুলিশের কাজে বাধা ও গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা করে পুলিশ। এসব মামলার যেসব ঘটনার কথা বলা হয়েছে তার সত্যতা নেই বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

গ্রেপ্তারকৃতদের স্বজনরা জানান, ঢাকার সঙ্গে তাদের তেমন কোনো যোগাযোগ নেই। খুব প্রয়োজন না হলে ঢাকায় আসা হয় না। মতিঝিল থানার ৫৮ নম্বর ওই মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার দিন খালেদা জিয়ার মুক্তি, তারেক রহমানের ওপর দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার ও অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছিল বিএনপির সমাবেশ। সমাবেশ থেকে ফেরার সময় বিকাল ৫টা ১৭ মিনিটে দৈনিকবাংলা ক্রসিং এলাকায় মিছিল করছিল শতাধিক নেতাকর্মী। সশস্ত্র অবস্থায় যানবাহন থামিয়ে তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছিল। এ সময় পুলিশ তাদের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করতে অনুরোধ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। গাড়ি ভাঙচুর করে। তিন-চারটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় কনস্টেবল সুবল চন্দ্রসহ কয়েক পুলিশ সদস্য আহত হন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই মামলায় এজাহারনামীয় ১১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার দিন ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মতিঝিল থানার ওই মামলার বাদী হয়েছেন পিএসআই আব্দুর রাজ্জাক।

দৈনিকবাংলা ও আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে দায়েরকৃত ওই মামলার অভিযোগ সম্পর্কে কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। ককটেল বিস্ফোরণ ও পুলিশের ওপর হামলার মতো ঘটনার কথা উল্লেখ করা হলেও ওই এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান, সেদিন এ ধরনের কোনো ঘটনা তাদের চোখে পড়েনি। আলমগীর হোসেন নামে দৈনিকবাংলা এলাকার একজন ব্যবসায়ী বলেন, ওই দিন বিপুল মানুষ আসা-যাওয়া করেছে। কিন্তু কোনো সংঘর্ষ, মারধর বা ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেনি। এত বড় ঘটনা ঘটলে এই এলাকার প্রায় সবাই জনতো বলে দাবি করেন তিনি।
পান-সিগারেট বিক্রেতা মরিয়ম বেগম জানান, দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই এলাকাতেই ছিলেন। এরকম কোনো ঘটনা দেখেননি। কারও কাছে শুনেনওনি। একই বক্তব্য ওই এলাকার একটি অনুবাদ সেন্টারে কর্মরত মাসুদ আলমের।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আসামির স্বজনদের দাবি এটি একটি ‘গায়েবি মামলা’। এই ‘গায়েবি’ মামলাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে সিলেটের ছাত্রদলের চার নেতাকর্মীকে। গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে, ছাত্রদলের সিলেট জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক- বিশ্বনাথের আজিজুর রহমানের ছেলে তানিমুল ইসলাম, ছাত্রদলের মহানগরের যুগ্ম সম্পাদক, সিলেট নগরীর সোনারপাড়ার রফিকুর রহমানের পুত্র ফাহিম রহমান মৌসুম, একই এলাকার শামসুল ইসলামের পুত্র মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক রুবেল ইসলাম ও জগন্নাথপুরের আল-আমিন। একইদিনে ওই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের কাজী মানিক নামে ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে। এই মামলার বাদী মতিঝিল থানার পিএসআই আব্দুর রাজ্জাকের কাছে ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি আপনার কথার উত্তর দিতে বাধ্য নই।’ বিএনপির সিলেট জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আহাদ খান জামাল জানান, একটি গায়েবি মামলায় জামিন নিতে গিয়েছিা তারা। গত ১৭ই সেপ্টেম্বর পুলিশ বাদী হয়ে সিলেটে ওই মামলাটি করে।

বিএনপির সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদের মায়ের মৃত্যুতে এর আগের দিন সোবহানীঘাট মসজিদে দোয়া মহাফিলের আয়োজন করা হয়। দোয়া মাহফিল শেষে মসজিদের পার্শ্ববর্তী বিএনপির সিলেট জেলার সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীমের বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় পুলিশ ১২ রাউন্ড ফাকা গুলি ছুঁড়ে। বাসার ভেতর থেকে পাঁচ জনকে আটক করে নিয়ে যায়। পরদিন পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে মামলা করা হয়। কিন্তু এলাকাবাসী জানান, সেদিন পুলিশের ওপর হামলার কোনো ঘটনা তারা দেখেননি। অন্যদের সঙ্গে ওই মামলায় আসামি করা হয় বিএনপির মহানগর সভাপতি নাসিম হোসাইন, জেলার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সল ও মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজমল বক্ত সাদেককে। কিন্তু ঘটনার দিন এই তিন নেতা সিলেটেই ছিলেন না। ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের জাতীয় কনভেনশনে যোগ দিতে তারা অবস্থান করছিলেন ঢাকায়।

বিএনপির সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, একটি গায়েবি মামলায় জামিন নিতে গিয়ে আরেক গায়েবি মামলায় সিলেটের তরুণদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে ওসমানী নগরের ছয় জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসব গায়েবি মামলার কারণে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা বিলীন হয়ে যাচ্ছে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

দেশের স্বার্থে নতুন মেরূকরণ হতে পারে

এমপিদের লাগাম টানছে না ইসি

স্টিয়ারিং কমিটিতে যারা থাকছেন

এনডিআই-এর নির্বাচনী ২০ দফা

সিলেটে একদিন পিছিয়েও সমাবেশের অনুমতি পায়নি ঐক্যফ্রন্ট

জাপার দুর্গে আওয়ামী লীগের দৃষ্টি

শিক্ষকদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

সৌদি আরবে শঙ্কায় লাখ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক

তিন জেলায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত ৪

তিনদিনের সফরে ঢাকায় এলিস ওয়েলস

টাঙ্গাইলে দীপু মনির জনসভা বাতিল, উত্তেজনা

খাসোগি হত্যার দায় স্বীকার সৌদির

ল্যান্ডমার্ক ম্যাচে মাশরাফিদের অন্য ‘লড়াই’

জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্ট ঘোষণা

‘ক্ষমতায় গেলে ৭ দিনের মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল’

‘ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই’