পালু শহরে এখন শুধুই লাশের উৎকট গন্ধ

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ৬ অক্টোবর ২০১৮, শনিবার
ভূমিকম্প ও সুনামিতে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার পালু শহর। এখনও পচনশীল মৃতদেহ বের হয়ে আসছে মাটির নিচ থেকে। পচন ধরা এসব লাশ থেকে ছড়িয়ে পড়ছে দুর্গন্ধ। ফলে বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পেটোবো এবং বালারোয়া শহরে এখনও রয়েছে বহু মৃতদেহ। এলাকাবাসীকে এই দুটি শহর এড়িয়ে চলার সতর্কবার্তা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।
ইন্দোনেশিয়ার অনুসন্ধান ও উদ্ধারকর্মীদের একজন মুখপাত্র ইউসুফ লতিফ এএফপিকে জানান, বহু সংখ্যক মৃতদেহ পাওয়া গেছে যেগুলো আর অক্ষত নেই।
পচন ধরা এ মৃতদেহগুলো উদ্ধারকর্মীদের স্বাস্থ্যের জন্য বিপদজনক। দূষণ পরিহারে আমাদেরকে আরো সতর্ক হতে হবে। তিনি আরো বলেন, আমাদের দলের কর্মীদের ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে। কিন্তু উদ্ধারকর্মীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকায় তাদের আরো সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এছাড়া এসব এলাকায় ভীড় ঠেকানোও খুব কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে উদ্ধারকাজ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চালানো হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে কোন ধ্বংসস্তুপের নিচে মরদেহ থাকতে পারে তা ধারণা করে উদ্ধারকাজ চলছে।
আর পালু শহরের পার্কগুলো শরণার্থী শিরিরে পরিণত হয়েছে। যাদের ঘরবাড়ি ভেঙ্গে গেছে এবং অন্য কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই, তারা এই পার্কগুলোতে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকে খোলা জায়গাতেও ঘুমাচ্ছেন, ত্রাণের জন্য অপেক্ষা করছেন।
আলজাজিরার প্রতিবেদক ওয়াইনে হের বরাত দিয়ে সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখনও খাদ্যের ঘাটতি রয়েছে। শহরের কেন্দ্রস্থলে গত এক সপ্তাহ ধরে মানুষ তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান করছেন। গত এক সপ্তাহে ইন্দোনেশিয়া সরকার ও বিদেশি রাষ্ট্রের পর্যাপ্ত অর্থ সাহায্য পাঠানো সত্ত্বেও কেউ এখনও পর্যন্ত অস্থায়ী টয়লেট কিংবা পর্যাপ্ত আশ্রয়ের ব্যবস্থার করতে পারেনি।
পালুর স্থানীয় বাসিন্দা হাজী রতœাবতী তাকওয়া আল-জাজিরাক জানান, সেখানে অল্প সংখ্যক টয়লেট আছে। কিন্তু সেগুলো ব্যবহারের উপযুক্ত নেই। হয়ত এই মুহুর্তে সবাই ভালো আছে। কিন্তু এই অবস্থার পরিবর্তন না হলে তারা খুব তাড়াতাড়িই সবাই অসুস্থ হয়ে যাবেন।
জাতিসংঘ বলেছে, সংস্থাটি ইন্দোনেশিয়ায় সুনামি এবং ভূমিকম্পে ভুক্তভোগীদের ৫ কোটি ডলার ত্রাণের ব্যবস্থা করছে। জাতিসংঘ আগামী তিন মাসের মধ্যে ১ লাখ ৯১ হাজার মানুষকে সাহায্য করার পরিকল্পনা করেছে। সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুসারে, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ৬৫ হাজার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার মধ্যে ১০ হাজার বাড়ি পুরোপুরিভাবে সুনামিতে ধ্বংস হয়ে গেছে। আর ১৫ হাজার বাড়ি ভূমিকম্পে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮শে সেপ্টেম্বরে ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপে তীব্র সুনামি এবং ভূমিকম্পে এখনও পর্যন্ত ১৫৭১ জন মারা গেছেন বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বোর্ড। ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প এবং ৬ মিটার উচ্চতার সুনামি জলোচ্ছ্বাস বয়ে যায় ঘন্টায় ৮০০ কিলোমিটার বেগে। সুনামিতে সুলাওয়েসি দ্বীপের কমপক্ষে ৭০ হাজার বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। বর্তমানে সেখানে ৮৫৫ সদস্যের মেডিকেল দল কাজ করছে। এছাড়াও বিদ্যুত ও জ্বালানি সরবরাহের পরিস্থিতিরও উন্নতি হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ছাত্রের সঙ্গে শিক্ষিকার যৌন সম্পর্ক

বিদায় সোনালী কাবিন-এর কবি

প্রথম ধাপের আখেরি মোনাজাতে কল্যাণের ফরিয়াদ

অ্যামাজনকে টেক্কা দিতে চান বাংলাদেশি ইমরান

জীবন ভিক্ষা চাইলেন আমান

গণশুনানির জন্য হল পাচ্ছে না ঐক্যফ্রন্ট

মঞ্জু মুখ খুললেন

যানজটে বিশ্বের শীর্ষ শহর ঢাকা

আইসিসির সিদ্ধান্তকে স্বাগত প্রধানমন্ত্রীর

মেহেদীর রং না মুছতেই ঘাতক বাস কেড়ে নিলো তাসনিমকে

‘হঠাৎ বস বাড়ি চলে যেতে বলেন’

ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা তুঙ্গে, সীমান্ত থমথমে

প্রার্থীর চেয়ে পরিবেশ নিয়েই আলোচনা বেশি

সংরক্ষিত আসনে ৪৯ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত

রাজধানীতে শিশুকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত আটক

এক ধর্ষিতার বাঁচার লড়াই