পরিসংখ্যানে নারী নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র

ষোলো আনা

শরিফুল ইসলাম | ৫ অক্টোবর ২০১৮, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:৩৯
সামাজিক সূচকে বাংলাদেশের বিস্ময়কর সাফল্যের পেছনে নারীদের অবদান প্রশংসনীয়। অগ্রগতিতে তাদের অবদান বড় ভূমিকা রাখলেও ঘরের মধ্যে নারীর অবস্থা তেমন বদলায়নি। দেশের বিবাহিত নারীদের ৮৭ শতাংশই স্বামীর মাধ্যমে কোনো না কোনো সময়ে, কোনো না কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ঘরের ভেতরে নারীদের নিরাপদ হিসাবে ধারণা করা হয় কিন্তু বাস্তবে চিত্র ভিন্ন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ১২ হাজার ৫৩০ জন নারী নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে একটি জরিপ চালিয়ে নারী নির্যাতনের চিত্র তুলে আনে। এতে উঠে আসে ৬৫ শতাংশ নারী স্বামীর মাধ্যমে শারীরিক নির্যাতন, ৩৬ শতাংশ যৌন নির্যাতন, ৮২ শতাংশ মানসিক এবং ৫৩ শতাংশ নারী স্বামীর মাধ্যমে অর্থনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। জরিপে আরো বলা হয় অধিকাংশ নারীকেই তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে স্বামীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক গড়তে বাধ্য হতে হয়েছে।


বাংলাদেশ মানবাধিকার সংস্থার (বিএমবিএস) মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশনের তথ্যমতে, ১০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই দেশের ৫.১৭ শতাংশ শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। নির্যাতিতদের আইনি সুবিধার্থে ২০০০ সালে সরকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন তৈরি করে।
এ প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য ছিল এ আইনের আওতায় সংঘটিত অপরাধের যথাযথ বিচার এবং অপরাধীদের শাস্তি দিয়ে ভুক্তভোগীদের রক্ষা করা। ২০১৩ সালে সরকার এ আইন সংশোধন করে আরো কঠোর করে কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে দেখা যায় অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার হার কম।

পুলিশ সদর দপ্তরের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৭ সালে নারী নির্যাতনের মামলা হয়েছে ১৫ হাজার ২শ ১৯টি, ২০১৬ সালে ১৬ হাজার ৭৩০টি, ২০১৫ সালে ১৯ হাজার ৪৮৬টি, ২০১৪ সালে ১৯ হাজার ৬১৩টি, ২০১৩ সালে ১৮ হাজার ৯১টি, ২০১২ সালে ১৯ হাজার ২৯৫টি এবং ২০১১ সালে ১৯ হাজার ৬৮৩টি।

আইনি প্রতিকার চাইলে কোথায় যেতে হবে, কার কাছে যেতে হবে সে সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় অপরাধীরদের বিচারের মুখোমুখি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। সরকার নারীদের সুরক্ষা দিতে ব্যবস্থা নিয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় বাদী কে নিজস্ব কোনো আইনজীবী নিয়োগের প্রয়োজন নেই। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯২ ধারা অনুযায়ী তিনি সরকারের পক্ষ থেকে আইনজীবী পাবেন। তিনি মামলার সব তত্ত্বাবধান করবেন। যদি বাদী নিজে আইনজীবী নিয়োগ দিতে চান তাহলে সেই আইনজীবী সরকারি আইনজীবীর অধীনে কাজ করবেন। সরকারের পক্ষ থেকে নিয়োগ দেয়া আইনজীবীকে কোনো খরচ দিতে হবে না।




এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

হাসান জামান

২০১৮-১০-০৪ ১৭:০২:৩৯

পুরুষ নির্যাতনের পরিসংখ্যানটাও বিবিএস'র প্রকাশ করা উচিত ছিল। আমি জোর দিয়ে বলতে পারি সে হারও উদ্বেগজনকই হবে।

আপনার মতামত দিন

‘লেভেল প্লেইংয়ের বিষয়টা এখন পুরোপুরি ইসির ওপর’

দুই বোনের এক প্রেমিক ও...

গণফোরামে রেজা কিবরিয়া, ঐক্যফ্রন্টের হয়ে লড়বেন হবিগঞ্জ-১ আসনে

‘জামাতা জড়িত, ১০ হাজার টাকায় চুক্তি হয় চালকের সঙ্গে’

২ খেমাররুজ নেতা দোষী সাব্যস্ত

ফেসবুক প্রধান মার্ক জাকারবার্গকে পদত্যাগের চাপ

ভারতে নারী অধিকারকর্মীদের নিয়ে তসলিমা নাসরিনের বিস্ময়

ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের গাড়িবহরে হামলা, নিন্দা

‘ভোট লুট হোক, চায় না ভারত’

যেভাবে সম্পন্ন হবে ব্রেক্সিট

তেরেসা মে’র ৫ কান্ডারি

সিএমএইচে এরশাদ

মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিন্দা জানিয়ে প্রস্তাব গৃহীত জাতিসংঘে

ক্ষমতায় গেলে যেসব কাজ করবে ঐক্যফ্রন্ট, জানালেন জাফরুল্লাহ

প্রিন্স সালমানের নির্দেশেই খাসোগিকে হত্যা করা হয়েছিল- সিআইএ

বাংলাদেশের নির্বাচন ও মানবাধিকার নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতি কতিপয় সুপারিশ