ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মার্কিন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের বৈঠক

‘সন্ত্রাসবাদে অর্থ সহায়তাকারীদের শনাক্তে একযোগে কাজের অঙ্গীকার’

যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা

নিউইয়র্ক থেকে এনআরবি নিউজ | ১২ মে ২০১৬, বৃহস্পতিবার
বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচার, সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কে অর্থ সহায়তা, সম্প্রতি নিউ ইয়র্ক রিজার্ভ ব্যাংকে বাংলাদেশের একাউন্ট থেকে বিপুল অর্থ সরিয়ে নেয়ার ঘটনাবলীসহ আর্থিক এবং মাদক সেক্টরের অপরাধীদের চিহ্নিত, গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ পরস্পরের সহযোগী হয়ে কাজের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। বিশেষ করে, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সন্ত্রাসবাদে অর্থ সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অভিযান শুরু করা নিয়েও আলোচনা হয় এ বৈঠকে।  ১১ই মে বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্র বিচার বিভাগের অর্থনৈতিক গোয়েন্দা সংস্থা এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাগণের সাথে বাংলাদেশের শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তাগণের দীর্ঘ বৈঠকে অপরাধ দমনে পরস্পরের সহযোগী হয়ে কাজের এ সংকল্প ব্যক্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ নওশাদ আলী চৌধুরী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের যুগ্ম পরিচালক মো. নূরল আমিন, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আহসানুর রহমান এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের মহাপরিচালক মো. মইদুল ইসলাম গত ৮ মে থেকেই ওয়াশিংটন ডিসিতে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণের সাথে বৈঠকের জন্যে। ১৪ মে পর্যন্ত ৫ সদস্যের এ টিম বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাগণের সাথে বৈঠকে মিলিত হবেন। ১১ই মে যুক্তরাষ্ট্র অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘ফাইন্যান্সিয়াল এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্ক’র এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক হিথার ময়ি এবং বিচার বিভাগের ফাইন্যান্সিয়াল অপারেশন দপ্তরের পরিচালক ডোনাল্ড হ্যাস ইমের সাথে আলাদা ভাবে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বৈঠকে মিলিত হন। হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে উভয় বৈঠকেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সেক্টরের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রশিক্ষণ, তথ্য-প্রযুক্তি সার্ভিসকে আরো নিরাপদ এবং হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচার রোধকল্পে কার্যকর প্রক্রিয়া অবলম্বন বিষয়ে বিস্তারিত কথা হয় বলে এনআরবি নিউজের এ সংবাদদাতাকে জানান শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র থেকেও অনেক সময় বাংলাদেশে অর্থ যাচ্ছে বেআইনীভাবে। অর্থ পাচারের পাশাপাশি মাদকসহ নানা ধরনের দ্রব্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে যেমন যাচ্ছে, একইভাবে বাংলাদেশ থেকেও বিভিন্ন পথ ঘুরে যুক্তরাষ্ট্রে আসছে। বাংলাদেশ থেকে অন্য দেশেও অর্থ পাচার হচ্ছে। এসব কিছুই যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষের গোচরে রয়েছে। কারণ, অনলাইনে অর্থ লেন-দেনের সমস্ত ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের সার্বক্ষণিক নজরে রয়েছে। এটি শুধু বাংলাদেশের জন্যেই নয়, বিশ্বের প্রায় সকল দেশের অর্থনৈতিক গতিবিধির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের গভীর পর্যবেক্ষণ রয়েছে।’ অর্থনৈতিক সেক্টরের নিরাপত্তায় বাংলাদেশকে সকল ধরনের সহায়তার অঙ্গিকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা-বলেন মইনুল।
বিশ্বব্যাপি আলোচিত ফেডারেল রিজার্ভ থেকে বাংলাদেশের ৮১ মিলিয়ন ডলার সরিয়ে নেয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতিও স্থান পায় এ বৈঠকে। মার্কিন কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে কাজ করছেন এবং এহেন অপকর্মে দায়ীদের শনাক্ত করার পর বিচারে সোপর্দ করার ব্যাপারেও উভয় দেশ একযোগে কাজ করবে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। ‘ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতির আর যেন অবতারণা না হয়, সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ অবলম্বনেও যুক্তরাষ্ট্র আন্তরিক সহায়তা প্রদান করবে’ বৈঠকের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান ড. মইনুল।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন