যে গল্প যায় না বলা ১

বাবা ডেকেও রেহাই মেলেনি লুৎফার

প্রথম পাতা

মরিয়ম চম্পা | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৩৫
এটা শুধু একদল নারীর স্বপ্ন ভঙ্গের গল্প নয়। বরং তাদের নিয়তি আর জীবন কীভাবে তছনছ হয়ে গেছে এটা সেই গল্প। বর্ণনা করা যায় না, বলা যায় না, লেখা যায় না। অসহ্য আর দুঃসহ যন্ত্রণা নিয়ে ফিরছে ওরা। বিমানবন্দরে নেমেই ভেঙে পড়ছে কান্নায়। কেউবা লজ্জায় মুখ ঢাকছে। কেউবা করছে আত্মহত্যার চেষ্টা। সৌদি ফেরত নারীদের জীবনের অবর্ণনীয় পরিস্থিতি নিয়ে অনুসন্ধান করেছেন আমাদের স্টাফ রিপোর্টার মরিয়ম চম্পা-

লুৎফা বেগম।
বয়স ৩৩। বাড়ি নেত্রকোনার চারুলিয়ায়। স্বামী আল-আমিন খেতখামারে কাজ করেন। তাদের তিন ছেলে-মেয়ে। একটু ভালো থাকার আশায় গত বছরের শেষের দিকে সৌদিতে পাড়ি জমান লুৎফা। সেখানে মুখোমুখি হন ভয়ঙ্কর জীবনের। বাসার প্রত্যেক লোক মিলে পালাক্রমে মারধর করতো। মালিকের স্ত্রী, ছেলে, মালিক কেউই বাদ যেত না।

সে সময়কার কথা স্মরণ করে এখনো আঁতকে উঠেন লুৎফা। বলেন, ওরা আমাকে টানা ৭ মাস ধরে নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন করেছে। দিনের পর দিন না খেতে পেয়ে দমটা বেরিয়ে যাওয়ার অবস্থা হয়েছিল। একদিন তো সকালে মার শুরু করে সন্ধ্যায় ক্ষান্ত দিয়েছে। এরপর আমি এশার নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করছিলাম। তখন এসে মালিকের ছেলে আমাকে লাথি মেরে ফেলে দেয়।

কেন তাকে মারা হতো জানতে চাইলে তিনি বলেন, মালিকের ছেলে আমার সঙ্গে খারাপ কাজ করতে চাইতো। খারাপ কাজের প্রস্তাব দিতো। তখন বলতাম ‘আমি তোমার মা’র মতো। মায়ের সঙ্গে কেউ খারাপ কাজ করে বাবা। এটা বলার পর সে আমাকে কিল, ঘুষি, লাথি দিতে থাকে। এক পর্যায়ে চিকন তার দিয়ে আমার গলা পেঁচিয়ে ধরে। এভাবে প্রায় সময় সামান্য কোনো বিষয়ে আমাকে মারতো। একদিন মাঝরাতে মালিকের ছেলে আমাকে বলে ওর মা অসুস্থ তার কাছে যেতে হবে। লুৎফা গিয়ে দেখেন তার মা দিব্বি সুস্থ। এ সময় তাকে একটা রুমে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করে। অনেক কষ্টে নিজেকে মুক্ত করেন লুৎফা। এদিকে বাসার মালিক একদিন সন্ধ্যারাতে তাকে গোসলখানা ধুতে যেতে বলেন। মালিক গোসলখানার ভেতরেই ছিলেন। লুৎফা জানতেন না। লুৎফা গোসলখানা ধুতে গেলে মালিক মন মতো তাকে কাছে না পেয়ে চুলের মুঠি ধরে বেদম পিটাতে থাকেন।

লুৎফা মালিককে বলেন, বাবা আমাকে ছেড়ে দেন। কি অন্যায় করেছি। এ সময় মালিক বলেন, তুই শব্দ করে বাথরুম খুললি কেন। এভাবে দিনের পর দিন অত্যাচারের শিকার হন লুৎফা। তিনি বলেন, মার খেতে খেতে আমার নিয়মিত বমি হতো। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে একদিন বাসা থেকে পালানোর চেষ্টা করি। তখন ওরা আমাকে ধরে ফেলে। এরপর বেদম মারতে থাকে। আমার খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দেয়। তাই যখনই সুযোগ পেতাম চুরি করে খাবার খেতাম। হঠাৎ আবার অসুস্থ হয়ে পড়ি। মরার মতো অবস্থা। বাসার মালিক মনে করেছে আমি অসুস্থের ভান করে বাসার দামি জিনিসপত্র নিয়ে পালাবো। তাদের বাসা থেকে কিছু চুরি করেছি কিনা তা পরীক্ষা করতে মালিকের বউ আমার গায়ের কাপড় চোপড় খুলে উলঙ্গ করে শরীর চেক করে। পরে আমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে রাস্তায় ফেলে যায়। তখন আমার কোনো হুঁশ-জ্ঞান ছিল না। এরপর পুলিশ আমাকে বাংলাদেশ দূতাবাসে রেখে আসে। সেখান থেকে সফর জেলে দেয়া হয়। সফর জেল খেটে অবশেষে বাংলাদেশে ফেরত আসি।

দেশে ফেরত এসে নতুন করে বেঁচে থাকার লড়াই করছেন লুৎফা বেগম। স্বামী শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় খেতখামারের কোনো কাজই করতে পারছেন না। তিন ছেলে-মেয়েকে নিয়ে দিনের তিন বেলার দুই বেলাই না খেয়ে থাকতে হয়। পাড়া-প্রতিবেশীরা যে দুই ১শ টাকা দিয়ে সাহায্য করেন তাই দিয়ে চলে লুৎফার সংসার। তিনি বলেন, একটু আগে একজন প্রতিবেশী ১শ টাকা দিয়েছেন। সেটা দিয়ে ছেলেকে ১ কেজি চাল কিনতে পাঠিয়েছি। চালটা পানিতে ফুটিয়ে ছেলেদের খেতে দিবো। এতো কিছুর পরও নিজ দেশে ফিরতে পেরে সন্তুষ্ট লুৎফা। দেশের মাটিতে না খেয়ে মারা গেলেও যেন সৌদি আরবের মতো দেশে আর যেতে না হয়- এমনটাই জানান তিনি।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

millat

২০১৮-০৯-২৩ ২৩:৫৬:৪৩

িছঃ

Imran

২০১৮-০৯-২৪ ১২:১০:৩১

Aei mohila guli shob jene buje ashe. Ami Dhaka airporte koekjonke bolte shunechi amra shob jani. Bollam deshe kichu ekta koren. Jei taka khoroch kore ora bidesh jae oi taka die murgi palleo er chaite valo taka aye korte pare ijjoter shathe. R Sohorkar antorjatik shokol shomporke harie shes porjonto nari der die shomporko tikie rakhte chesta korche.

মোঃ শরীফুজ্জামান

২০১৮-০৯-২৪ ১০:৪১:২৫

মুসলমানদের ধর্মীয় অপার বিশ্বাস আর নিরাপদ স্থান হলো নবীর দেশ সৌদি আরব। সাম্প্রতিক কালে সৌদির নাগরিকগণ যে র্নিলজ্জ, পাশবিকতার পরিচয় দিচ্ছে তাতে আমরা মুসলিম হিসাবে লজ্জাবোধ করছি। পাশাপাশি বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসাবে সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে সবিনয় অনুরোধ করছি কোন বাংলাদেশী নারীকে যে সৌদিতে গৃহকর্মীর কাজে না পাঠানো হয।

মোঃ শরীফুজ্জামান

২০১৮-০৯-২৪ ১০:২৮:২৩

মুসলমানদের ধর্মীয় অপার বিশ্বাস আর নিরাপদ স্থান হলো নবীর দেশ সৌদি আরব। সাম্প্রতিক কালে সৌদির নাগরিকগণ যে র্নিলজ্জ, পাশবিকতার পরিচয় দিচ্ছে তাতে আমরা মুসলিম হিসাবে লজ্জাবোধ করছি। পাশাপাশি বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসাবে সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে সবিনয় অনুরোধ করছি কোন বাংলাদেশী নারীকে যে সৌদিতে গৃহকর্মীর কাজে না পাঠানো হয।

moniril alam

২০১৮-০৯-২৩ ১৯:৫১:৫২

সৌদির এই সব ঘটনা আজকের না,প্রায় সবাই জানে।এর পরও নাড়িরা যায়।তারপর করুন কাহিনী।

Shahadat

২০১৮-০৯-২৩ ১৭:৪৯:৩২

সৌদি এক সময় সেষ হয়ে যাবে কারন এগুলো জানোয়ার এর ছেয়ে খারাপ এরা মানুষ হতে পারে না

আবুল হোসেন ভূইয়া

২০১৮-০৯-২৩ ১৪:৪২:১৬

এত কাহিনী কেন? মহিলা হয়ে বিনদেশে কেন গেলে. অতি টাকার লোভ দেশে কত গার্মেন্টস কত মহিলা কাজ করছে।

আপনার মতামত দিন

নাটক করছে ঐক্যফ্রন্ট

হাসপাতালে যেমন আছেন খালেদা

ইমরুলের ব্যাটে বঞ্চনার ‘জবাব’

অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের তাগিদ

মইনুলের বিরুদ্ধে দুই মামলা, জামিন

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উদ্বেগ প্রশমিত করতে পারে

দেশে ৩ কোটি মানুষ দরিদ্র এক কোটি হতদরিদ্র

আড়াইহাজার ও রূপগঞ্জে ৫ যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ

স্টেট ডিপার্টমেন্টের সর্বোচ্চ সম্মাননা পেলেন বার্নিকাট

ভোটের হাওয়া ভোটারের চাওয়া

তরুণদের কাছে ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

আমীর খসরু কারাগারে

প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তফসিল: ইসি সচিব

সড়কে সেই আগের চিত্র

পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বোচ্চ সম্মাননা পেলেন বার্নিকাট

প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন কাল