কমলগঞ্জে অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত ভাই-বোন গৃহবন্দি

বাংলারজমিন

সাজিদুর রহমান সাজু, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) থেকে | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ৮:৪৪
কমলগঞ্জে বিরল রোগে আক্রান্ত সাত বছরের শিশু বাবলী আক্তারের পর এবার ছালেকিন ও রিমা নামে দুই ভাই-বোন বিরল এক রোগে আক্রান্ত হওয়ার সন্ধান মিলেছে। তাদের বাড়ি কমলগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর তিলকপুর গ্রামে। ওই গ্রামের দরিদ্র কৃষক মো. ফখরুল ইসলাম আফরোজ এর দুই সন্তান সিরাসুস সালেকিন (১৮) ও আবেদা আক্তার রিমা (১৫) ভয়ঙ্কর এক রোগে আক্রান্ত। দেখলে আঁতকে ওঠার মত ভয়ঙ্কর ওই রোগ যন্ত্রণা নিয়ে বর্তমানে তারা গৃহবন্দি অবস্থায় নিজ বাড়িতে ছটপট করছেন।
কৃষক আফরোজের ৬ সন্তানের মধ্যে সালেকিন দ্বিতীয় ও রিমা ৩য় সন্তান।   ওই দুই সন্তানের পিতা ফখরুল ইসলাম আফরোজ জানান, জন্মের তিন বছরের মাথায় প্রথমে সালেকিন এর মুখমন্ডলে ক্ষতচিহ্ন ও সাদা সাদা দাগ দেখা দেয়। সেই দাগগুলো পরে কালো রূপ ধারণ করে। এক পর্যায়ে মুখমন্ডল জুড়ে বিরল এ রোগটি দেখা দিলে তিনি প্রথমে স্থানীয় কবিরাজ ও পরে পল্লী চিকিৎসকের দ্বারস্থ হন। কিন্তু স্থানীয় চিকিৎসকরা তাদের রোগ চিহ্নিত করতে পারেননি। এক পর্যায় সালেকিনের মুখমণ্ডলের পাশাপাশি তার শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
একই ভাবে তার মেয়ে রিমাও ওই রোগে আক্রান্ত হয়। পরবর্তীতে
স্থানীয়দের পরামর্শে ২০০২ সালে তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী  মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কিছুদিন চিকিৎসা নেয়ার পর ডাক্তাররা সঠিক রোগটি শনাক্ত করতে না পারায় এবং সুনির্দিষ্ট কিছু না বলায় রোগাক্রান্ত ছেলে-মেয়েকে নিয়ে তিনি বাড়িতে চলে আসেন। তারপর থেকে অজ্ঞাত ভয়ঙ্কর এ রোগে আক্রান্ত তার দুই সন্তান দীর্ঘ ১২ বছর ধরে বসতঘরে রোগ যন্ত্রণায় ছটপট করলেও অর্থাভাবে তিনি তার সন্তানদের উন্নত চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। ভাই-বোনের অবস্থা খুবই করুন। এ অবস্থায় তারা ঘরের বাইওে বের হলেও সূর্যের আলো সহ্য করতে পারেন না তারা। তাই রোগ যন্ত্রণা নিয়ে তারা গৃহবন্দি অবস্থায় জীবন-যাপন করছেন। দরিদ্র পিতার অসচ্ছলতার কারণে দীর্ঘ এক যুগ ধরে তাদের শরীরে ভয়ঙ্কর ওই রোগ বয়ে বেড়াচ্ছেন। সুচিকিৎসার অভাবে তাদের শরীরে যতই এ রোগ বিস্তার করছে ততই বাড়ছে তাদের যন্ত্রণা। রোগটির যন্ত্রণার ছটফট করে বেঁচে আছেন সালেকিন-রিমা। চিকিৎসার অভাবে তাঁরা দিন দিন মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে।

কমলগঞ্জ ৫০ শয্যা হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সৈয়দ শওকত আলী জানান, এটি জিনগত সমস্যা হতে পারে। রোগীর চামড়ার কোষে  মেলানিন না থাকায় সূর্যের আলোর অতিবেগুনী রশ্মীতে কোষের উঘঅ নষ্ট হয়ে যায়। ক্রমাগত অতিবেগুনী রশ্মির সম্মুখীন হলে উঘঅ নষ্ট হয়ে ক্যান্সার হতে পারে। প্রাথমিকভাবে তিনি ধারণা করছেন রোগটি ঢবৎড়ফবৎসধ চরমসবহঃড়ংধস হতে পারে। এটি একটি বিরল ধরনের রোগ। ছেলে ও মেয়েটিকে সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ অথবা পিজি হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ  দেন তিনি। কিন্তু দরিদ্র কৃষক ফখরুল ইসলামের পক্ষে তা সম্ভব হচ্ছে না। যদি সরকার বা কোন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসেন তা হলেই তাদের সুচিকিৎসা সম্ভব। তাদের সুচিকিৎসা হলে সালেকিন-রিমা ফিরে  পেতে পারে সুস্থ জীবন।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Md. Abdul Alim

২০১৮-০৯-২২ ০৩:২৮:৩৩

সাহিজো কিসে করে দিব?

আপনার মতামত দিন

দেশের স্বার্থে নতুন মেরূকরণ হতে পারে

এমপিদের লাগাম টানছে না ইসি

স্টিয়ারিং কমিটিতে যারা থাকছেন

এনডিআই-এর নির্বাচনী ২০ দফা

সিলেটে একদিন পিছিয়েও সমাবেশের অনুমতি পায়নি ঐক্যফ্রন্ট

জাপার দুর্গে আওয়ামী লীগের দৃষ্টি

শিক্ষকদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

সৌদি আরবে শঙ্কায় লাখ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক

তিন জেলায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত ৪

তিনদিনের সফরে ঢাকায় এলিস ওয়েলস

টাঙ্গাইলে দীপু মনির জনসভা বাতিল, উত্তেজনা

খাসোগি হত্যার দায় স্বীকার সৌদির

ল্যান্ডমার্ক ম্যাচে মাশরাফিদের অন্য ‘লড়াই’

জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্ট ঘোষণা

‘ক্ষমতায় গেলে ৭ দিনের মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল’

‘ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই’