নৃশংসতার মামলা দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে- আইনমন্ত্রী

দেশ বিদেশ

সংসদ রিপোর্টার | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার
২০১৪-১৫ সালে বিএনপি-জামায়াত জোটের জ্বালাও-পোড়াও ও নৃশংস  হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলোর মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। তিনি বলেন, যেসব মামলার চার্জশিট দেয়া হয়েছে তার কিছু মামলার বিচার শেষ হয়েছে এবং আসামিদের শাস্তি হয়েছে। বাকি মামলাগুলোর মধ্যে কিছু মামলা এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট কোর্টে না এলে বিচার হবে না। সেই জন্য দেরি হচ্ছে। তবে যাতে দ্রুত এই মামলাগুলোর তদন্ত কাজ শেষ হয় এবং চার্জশিট দেয়া হয় সেজন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সোমবার সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তরিকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নূর জাহান বেগমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের মাস্টারমাইন্ড ও পরিকল্পনাকারীদের ব্যাপারে একটি পৃথক কমিশন গঠনের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরো জানান, বাল্যবিবাহ বন্ধে একটি সর্বজনীন আইন  প্রণয়নের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।


তিনি জানান, বাল্যবিবাহ বন্ধে প্রচলিত বর্তমান আইনকে যথাযথভাবে কার্যকর করার জন্য সরকার নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো জানান, বাল্যবিবাহমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের স্বার্থে বিবাহ নিবন্ধনের সময় সংশ্লিষ্ট মুসলিম নিকাহ রেজিস্টার ও হিন্দু পুরোহিতগণকে বর্তমান প্রচলিত আইনের বিধি-বিধান যথাযথভাবে প্রতিপালনের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ নিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মামুনুর রশীদ কিরনের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর হতে দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন করেছেন। বর্তমান সরকার মামলা জট কমানোকে একটি চ্যালেঞ্জ হিসাবে গ্রহণ করে জট কমানোর জন্য নিরলসভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে।

এই সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর হতে মামলা জট কমানোর লক্ষ্যে অধিক সংখ্যক আদালত সৃজন করে বিচারক নিয়োগ করেছে। এ ছাড়া বর্তমানে আরো বিচারক নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি জানান, বিচার কাজে গতিশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকারের বিশেষ উদ্যোগে বিভিন্ন পর্যায়ের বিচারকের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে এবং উচ্চ আদালত ও নিম্ন আদালতে বিচারক নিয়োগ অব্যাহত রয়েছে। সারা দেশের বিচার ব্যবস্থায় দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে বিচার কাজ ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি ও এজলাস সংকট নিরসনে বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। বিচার কাজে গতিশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকারের বিশেষ উদ্যোগে বিভিন্ন পর্যায়ের বিচারকের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে।

আইনমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার বিচারপ্রার্থী জনগণের ভোগান্তি লাঘবের জন্য একটি আধুনিক বিচার বিভাগ ও বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, বিচার বিভাগ আধুনিকায়ন ও গতিশীল করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তা বাস্তবায়িত হলে সারা দেশে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা একটি সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে এবং মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কার্যকর ও দৃশ্যমান উন্নয়ন সাধিত হবে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ব্যাংকের সংখ্যা নিয়ে সমস্যা দেখছেন না অর্থমন্ত্রী

১২ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না ঢাকার বেশির ভাগ স্থানে

অনড় সুলতান মনসুর ১৫ই মার্চের মধ্যে শপথ

শেবাচিমের ডাস্টবিনে ২২ অপরিণত শিশুর মরদেহ

জামায়াতের সামনে ৪ বিকল্প

পালওয়ামায় এনকাউন্টার সেনা, জঙ্গিসহ নিহত ৭

আমাদের পেছনে কেউ নেই অনেকের সমর্থন আছে

ভিসির কার্যালয় ঘেরাও বামপন্থিদের

জবিতে দিনভর সংঘর্ষ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া

শাজাহান খানকে নিয়ে সংসদে প্রশ্ন

অভিজিৎ হত্যায় ৬ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট

‘বঙ্গবন্ধুর ছবি অন্তর্ভুক্ত না করায় ইতিহাস বিকৃতি হয়েছে’

এমপিদের শপথের বৈধতা নিয়ে রিট খারিজ

এমসি কলেজে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, সাংবাদিকদের ওপর হামলা

পাকিস্তানকে উজাড় করে দিলেন ক্রাউন প্রিন্স

জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার পক্ষে আওয়ামী লীগ: কাদের