সড়ক পরিবহন আইন সংসদে উত্থাপন

প্রথম পাতা

সংসদ রিপোর্টার | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৫৩
কোনো ব্যক্তির বেপরোয়া ও অবহেলাজনিত গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে এবং সেই দুর্ঘটনায় কেউ আহত বা নিহত হলে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড বা ৫ লাখ  টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে সড়ক পরিবহন বিল-২০১৮ উত্থাপন করা হয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিলটি উত্থাপনের পর অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে বহুল আলোচিত ওই বিলটি উত্থাপন করা হয়।

বিলে শাস্তির বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘তবে শর্ত থাকে যে, ফৌজদারি কার্যবিধিতে যাহাই থাকুক না কেন, কোনো ব্যক্তি বেপরোয়া ও অবহেলাজনিত মোটরযান চালানোর কারণে সংঘটিত দুর্ঘটনায় কোনো ব্যক্তি গুরুতরভাবে আহত হলে বা তার প্রাণহানি ঘটলে ওই ব্যক্তি অনধিক ৫ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’ বিলে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে কাউকে আহত করলে তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

আর ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ট্রাফিক আইন অমান্য করলে পয়েন্ট কাটার ব্যবস্থাও থাকবে আইনে। নির্ধারিত পয়েন্টের নিচে গেলে লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে। চালককে নতুন করে আবার লাইসেন্স নিতে হবে। বিলে ব্যক্তিগত গাড়ি চালনার জন্য চালকের বয়স আগের মতোই অন্তত ১৮ বছর রাখা হয়েছে।


তবে পেশাদার চালকদের বয়স হতে হবে কমপক্ষে ২১ বছর। সংসদে উত্থাপিত বিলে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য চালকের কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি পাসের শর্ত রাখা হয়েছে। আগের আইনে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। নতুন আইনের সহকারী হতেও শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে।

সহকারীর ৫ম শ্রেণি পাসের সার্টিফিকেট থাকতে হবে। আগের অধ্যাদেশে সহকারীদের লাইসেন্সের কথা থাকলেও তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত ছিল না। এছাড়া সহকারী হতে বাধ্যতামূলকভাবে লাইসেন্সের বিধানও থাকছে। বিলে চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে অনধিক ছয় মাসের জেল বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। সহকারীরও শাস্তির বিধান যুক্ত করা হয়েছে বিলে।

চালকের সহকারীর লাইসেন্স না থাকলে এক মাসের জেল বা ২৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। বিলের বিধান অনুযায়ী গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না চালক। এই বিধান অমান্য করলে এক মাসের কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হবে। এছাড়া ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে- এমন অপরাধের ক্ষেত্রে চালককে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে পুলিশকে।

নতুন আইনের বিধি অমান্য করলে পয়েন্ট কাটার বিধান রাখা হয়েছে বিলে। বিলের বিধান অনুযায়ী লাইসেন্সে থাকবে মোট ১২ পয়েন্ট। বিভিন্ন বিধি অমান্যে কাটা যাবে এই পয়েন্ট। পয়েন্ট শূন্য হলে বাতিল হবে চালকের লাইসেন্স। এর পর চালকে নতুন করে লাইসেন্স নিতে হবে। উল্লেখ্য, দীর্ঘ এক বছর ঝুলে থাকার পর আলোচিত এই নতুন সড়ক পরিবহন আইনটি গত ৬ই আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদিত হয়।

রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ব্যাপক আন্দোলনের মুখে সরকার ওই আইনের খাসড়া মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করে। সংসদের চলতি অধিবেশনেই বিলটি পাসের কথা রয়েছে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

প্রকাশ্যে স্ত্রীর সামনে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

রোহিঙ্গারা ফেরত না গেলে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে- সংসদে প্রধানমন্ত্রী

রেমিটেন্স ১৬শ’ কোটি ডলার ছাড়ালো

টিকে রইলো পাকিস্তান

সংকট সমাধানে আশাবাদী বিএনপি

এ যেন আরেক আয়লান

মাহমুদুল্লাহর সুস্থতার দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ

মায়ের ভিডিওকলে অন্তঃসত্ত্বা মেয়ের সংসার ভাঙার উপক্রম!

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বাকযুদ্ধ

টেলিকম খাতে করের বোঝা চাপিয়ে প্রবৃদ্ধিকে আটকে দেয়া হয়েছে

ফেসবুক, ইউটিউব গুগলকে ভ্যাট এজেন্ট নিয়োগের নির্দেশনা

তিউনিশিয়া থেকে ফিরলো আরো ২৪ জন

মাঠের অভাবে ছুটিতে বাংলাদেশ

চুড়িহাট্টা ও এফ আর টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ড থেকে শিক্ষা নিতে চায় সরকার

মৌসুমের প্রথম বৃষ্টিতেই ডুবলো সিলেট নগর

সিলেট-আখাউড়া রেলপথে পদে পদে মৃত্যু ঝুঁকি