কেসিসি’র ৬৩৭ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, শুক্রবার
জলাবদ্ধতা ও সড়ক সংস্কারের উপর গুরুত্ব দিয়ে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য ৬৩৭ কোটি ৯ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় সিটি কর্পোরেশনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে কেসিসি মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এ বাজেট ঘোষণা করেন। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের (গত অর্থবছরের) প্রস্তাবিত বাজেট ছিল ৪৪০ কোটি ৭৯ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। পরে তা সংশোধিত আকারে দাঁড়িয়েছে ২৫৫ কোটি ৭৮ লাখ ২৯ হাজার টাকা। বাস্তবায়ন হয়েছে শতকরা ৫৮ দশমিক ২৯ ভাগ। তবে পূর্বের অর্থবছরের তুলনায় এবার বাজেটের আকার বেড়েছে। মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বর্তমান পরিষদের পাঁচ বছরের সর্বশেষ বাজেট ঘোষণা করল। আগামী ২৬শে সেপ্টেম্বর নবনির্বাচিত মেয়র মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক নগর ভবনে বসবেন বলে জানা গেছে।

খুলনা সিটি করপোরেশনের এবারের বাজেটে নিজস্ব আয় ধরা হয়েছে রাজস্ব তহবিল থেকে ১৩৪ কোটি ২২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা।
এবং প্রারম্ভিক স্থিতি ৪৭ কোটি ৬৭ লাখ ১০ হাজার টাকা।

কেসিসি মেয়র বলেন, বাজেটের রাজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮১ কোটি ৮৯ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। এবং সরকারি বরাদ্দ ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা হতে উন্নয়ন খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫৫ কোটি ২০ লাখ আট হাজার টাকা। তিনি বলেন, এটি একটি উন্নয়নমুখী বাজেট। এই বাজেটে জনকল্যাণের জন্য নতুন নতুন কিছু পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। তদুপরি বাজেটে নতুন কোনো কর আরোপ করা হয়নি।

মেয়র মনিরুজ্জামান বলেন, বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭৭ কোটি ৫১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এর মধ্যে পূর্ত খাতে ৪৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, কনজারভেন্সি খাতে ১৬ কোটি ২৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং জনস্বাস্থ্য খাতে ১১ কোটি টাকা উল্লেখযোগ্য।

তিনি বলেন, খুলনা মহানগরীতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য ১২ কোটি ৫৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এবং খুলনায় একটি পাবলিক হল কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। খালিশপুরে ভারত সরকারের আর্থিক সহায়তায় একটি কলেজিয়েট গার্লস স্কুল নির্মাণ কাজ চলছে। এই প্রকল্পে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য সাড়ে ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় লাইফ স্টক ডেভলমেন্ট বেজ ডেইরি রেভ্যুলেশন এবং মিট প্রডাকশন প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। যেখানে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
সিটি মেয়র প্রস্তাবিত বাজেটকে উন্নয়নমুখী হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ বাজেটে নতুন কোন করারোপ করা হয়নি। নগরীর সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ জলাবদ্ধতা নিরসন, শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে বাজেটে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে সেগুলি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ ও সেবার মানোন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি এ বাটেজে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন, পার্ক, ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং কেসিসি’র বিভিন্ন বিভাগ ও শাখা অটোমোশনের আওতায় আনা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধে মশক নিধনের সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে।

বাজেটের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা দিতে গিয়ে সিটি মেয়র বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে যে ক্ষতি নিয়মিত হচ্ছে তা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের স্বনির্ভর করে গড়ে তোলার দিকনির্দেশনা রাখা হয়েছে এ বাজেটে। নিজস্ব সংস্থাপন ব্যয় মিটিয়ে নগরীর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের জন্য রাজস্ব খাত থেকে এ বাজেটে ৬৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) খাত থেকে থোক ও বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭৭ কোটি ৫১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এ ছাড়া ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জাতীয় এডিপিতে কেসিসি’র ২টি প্রকল্পে ৯৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বাজেট অনুষ্ঠানে কেসিসি মেয়র জানান, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ‘খুলনা মহানগরীতে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পে’ ১২ কোটি ৫৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ‘খুলনা সিটি করপোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামত ও উন্নয়ন প্রকল্পে’ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮৩ কোটি ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সিটি মেয়র বলেন, নগরীর সার্বিক উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণের জন্য আমরা সরকারের পাশাপাশি ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, জার্মান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, ইউএনডিপি, ইউনিসেফ, এফএও, বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন, জার্মান উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা (জিআইজেড) সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে কাজ করি। তারও আমাদের প্রতি সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেছে। বর্তমানে বিভিন্ন দাতা সংস্থার ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকায় চলমান রয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এসব প্রকল্পে ২৮১ কোটি ৮৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকার উন্নয়ন সহায়তা পাওয়া যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

বাজেট অনুষ্ঠানে সাংবাদিক ও নাগরিকবৃন্দের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সিটি মেয়র বলেন, বর্তমান পরিষদ নাগরিক সেবা বৃদ্ধির পাশাপাশি অনেক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। তবে কিছু কাজ চলমান রয়েছে যা নতুন পরিষদ এসে সম্পন্ন করবেন। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে সিটি মেয়র বলেন, বিগত অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন হার ৫৮.০২৯%। সরকার ও দাতা সংস্থা থেকে আশানুরূপ বরাদ্দ না পাওয়ার কারণে বাজেটের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, বিএমডিএফ (বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল ডেভেপমেন্ট ফান্ড) নগরীর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ১১১ কোটি টাকা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরবর্তীতে কোনো অর্থ ছাড় না করায় গৃহীত প্রকল্পগুলি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। সিটি মেয়র আরো বলেন, খুলনা আমার প্রিয় নগরী। দায়িত্বশীল না থাকলেও এ নগরীর মানুষের কল্যাণে আজীবন সম্পৃক্ত থেকে কাজ করে যাবো। তিনি বলেন, শুধুমাত্র সরকারি বা বিদেশি সাহায্যের উপর নির্ভর করে উন্নয়ন সম্ভব নয়। এজন্য কেসিসিকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য বিকল্প চিন্তা করতে হবে। তিনি কেসিসি’র নতুন পরিষদকে স্বাগত জানান এবং তাদের সার্বিক সফলতা কামনা করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পলাশ কান্তি বালা, অর্থ ও সংস্থাপন স্থায়ী কমিটির সভাপতি শেখ মো. গাউসুল আযমসহ কাউন্সিলরবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা, নাগরিক, ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, গত ১৫ই মে অনুষ্ঠিত কেসিসি নির্বাচনে বর্তমান মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। সে নির্বাচনে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক বিএনপির প্রার্থীকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন।

এদিকে আগামী ২৫শে সেপ্টেম্বর বর্তমান সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের মেয়াদ পূর্ণ হবে। একই দিন বিকালে দায়িত্ব বুঝে নেবেন নবনির্বাচিত মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় একটি নির্দেশনা পাঠিয়েছে। তবে, ২৬শে সেপ্টেম্বর তালুকদার আব্দুল খালেক দায়িত্ব বুঝে নেবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ই-মেইল বার্তায় দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন বর্তমান মেয়রকে। সে অনুযায়ী আগামী ২৫শে সেপ্টেম্বর বেলা ৩টায় নতুন মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের যোগদান প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে।
নবনির্বাচিত মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, আগামী ২৫শে সেপ্টেম্বর দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় একটি ই-মেইল বার্তা পাঠিয়েছে। মেইলটি কেসিসি’র নিকটও পাঠানো হয়েছে।
বর্তমান মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, আগামী ২৫শে সেপ্টেম্বর আমার মেয়াদ শেষ হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করেননি।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে ইসির অনাপত্তি, মুহিতকে নিষেধ

নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের স্ট্যাটাস কী হবে জানতে চান কূটনীতিকরা

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের উদ্বেগ

কারাগারে থেকে ভোটের প্রস্তুতি

শহিদুল আলমের জামিন

ধানের শীষে লড়বে ঐক্যফ্রন্ট

নিপুণ রায় চৌধুরী গ্রেপ্তার

আতঙ্ক উপেক্ষা করে পল্টনে ভিড়

বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত

কুলাউড়ায় সুলতান মনসুরের বিপরীতে কে?

ঢাকার প্রচেষ্টা ব্যর্থ

নির্বাচন পেছাবে না ইসির সিদ্ধান্ত

ঝিনাইদহে ৩৭৪ মামলায় আসামি ৪১ হাজার

বিএনপি আবার আগুন সন্ত্রাস শুরু করেছে

বড় জয়ে সিরিজে সমতা

উত্তেজনায় ফুটছে বৃটিশ রাজনীতি, চার মন্ত্রীর পদত্যাগ