এক শান্তি যোদ্ধার পাণ্ডুলিপি

ষোলো আনা

শরিফুল ইসলাম | ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:২৯
সময়ের পরিক্রমায় একদিন থেমে যায় মানুষের কর্মকোলাহল। মৃত্যু অনিবার্য, মৃত্যুই সত্য। মৃত্যুর মধ্য দিয়েই সমাপ্ত হয় জীবনের পাণ্ডুলিপি। কিন্তু জগত সংসারে পড়ে থাকে মানুষের কর্ম। সে কর্ম যদি হয় মহৎ-কল্যাণকর, তাহলে মানুষ হয় ইতিহাস, অমরতার আলোকরশ্মি ছড়ায় যুগ-যুগান্তর, কফি আনান তেমনি একটি নাম। ১৯৩৮ সালে আফ্রিকার দেশ ঘানায় জন্ম নেয়া কফি আনান প্রথম আফ্রিকান কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে ১৯৯৭ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে জাতিসংঘের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একজন বর্ণবাদ বিরোধী সৈনিক।

জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাজেট কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেয়ার মাধ্যমেই জাতিসংঘে তার কর্মজীবন শুরু হয়।
তারপর কর্মজীবনের প্রায় পুরো সময় তিনি জাতিসংঘে বিভিন্ন সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। কফি আনানই প্রথম জাতিসংঘে কর্মরত কোনো ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির সর্বোচ্চ পদ মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করার বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেন। আপাদমস্তক সৃজনশীল এই মানুষটি জীবনভর বিশ্ব শান্তির জন্য কাজ করেছেন। তার এই মানবিক কর্মকাণ্ডই ২০০১ সালে এনে দেয় শান্তিতে নোবেল পুরস্কার।  ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মানুষের মহান আত্মত্যাগ, স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে নিরলস এগিয়ে চলায় নজর এড়াইনি কফি আনানের। জাতিসংঘ মহাসচিব হওয়ার ঠিক আগেই তিনি শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের প্রধান ছিলেন। শান্তিরক্ষী বাহিনীতে বাংলাদেশের অবদান তাকে আগ্রহী করে তোলে। কফি আনানের সময়েই নিয়মিতভাবেই শান্তিরক্ষী মিশনে যোগ দেয়ার সুযোগ পায় বাংলাদেশ। যা বাংলাদেশকে নিয়ে যায় তালিকার শীর্ষে।

১৯৯৯ সালে জাতিসংঘে বাংলাদেশের যোগদানের রজতজয়ন্তী পালনসহ ২০০১ সালে এসেছিলেন বাংলাদেশ সফরে। উত্তাল এক সময়ে বিশ্বের সর্বোচ্চ সংস্থার দায়িত্ব নিতে হয়েছিল তাকে। তার সময়ের অসাধারণ প্রজ্ঞার সুফল এখনো পাচ্ছে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো। তার মেয়াদকালের সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল দারিদ্র আর শিশু মৃত্যু কমাতে বিশ্বব্যাপী ‘সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ’। ২০০৬ সালে অবসর নেন তিনি। কিন্তু থেমে যায়নি তার পথচলা। বিশ্বব্যাপী অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জন্য গড়ে তোলেন ‘কফি আনান ফাউন্ডেশন’, ২০০৭ সালে। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত ও শান্তি প্রতিষ্ঠাই যার প্রধান কাজ। পরবর্তীতে সিরিয়া সংকট মেটাতে জাতিসংঘের বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সিরিয়ার সংকট সমাধানে তার উদ্যোগ ছিল প্রশংসনীয়। তবে, কফি আনানের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত না হওয়ায় অব্যাহতি নিয়েছিলেন সে দায়িত্ব থেকে।

শেষ জীবনে রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার পক্ষেও সোচ্চার ছিলেন। জড়িত ছিলেন মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিধনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সমস্যার সমধান প্রক্রিয়ায়। যেখানেই সমস্যার খোঁজ পেতেন, সেখানেই পৌঁছে যেতেন তিনি। গভীর সমবেদনায় জয় করেন হাজারো মানুষের জীবন। অকৃত্রিম ভালোবাসা নিয়ে কাজ করে গেছেন অন্যের জন্য। তার জীবনের পাণ্ডুলিপি বন্ধ হয়ে যায় ১৮ই আগস্ট ২০১৮ সালে। লোকচক্ষুর আড়াল হয়ে গেলেও কিংবদন্তিতুল্য এই মহান ব্যক্তিটি আজীবন বেঁচে থাকবেন শান্তিকামী মানুষের মনে।




এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

‘লেভেল প্লেইংয়ের বিষয়টা এখন পুরোপুরি ইসির ওপর’

দুই বোনের এক প্রেমিক ও...

গণফোরামে রেজা কিবরিয়া, ঐক্যফ্রন্টের হয়ে লড়বেন হবিগঞ্জ-১ আসনে

‘জামাতা জড়িত, ১০ হাজার টাকায় চুক্তি হয় চালকের সঙ্গে’

২ খেমাররুজ নেতা দোষী সাব্যস্ত

ফেসবুক প্রধান মার্ক জাকারবার্গকে পদত্যাগের চাপ

ভারতে নারী অধিকারকর্মীদের নিয়ে তসলিমা নাসরিনের বিস্ময়

ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের গাড়িবহরে হামলা, নিন্দা

‘ভোট লুট হোক, চায় না ভারত’

যেভাবে সম্পন্ন হবে ব্রেক্সিট

তেরেসা মে’র ৫ কান্ডারি

সিএমএইচে এরশাদ

মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিন্দা জানিয়ে প্রস্তাব গৃহীত জাতিসংঘে

ক্ষমতায় গেলে যেসব কাজ করবে ঐক্যফ্রন্ট, জানালেন জাফরুল্লাহ

প্রিন্স সালমানের নির্দেশেই খাসোগিকে হত্যা করা হয়েছিল- সিআইএ

বাংলাদেশের নির্বাচন ও মানবাধিকার নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতি কতিপয় সুপারিশ