স্ক্যানার দিয়েও মেলেনি কথিত গুপ্তধন?

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ১৭ আগস্ট ২০১৮, শুক্রবার
রাজধানীর মিরপুরের সেই বাড়িতে গুপ্তধন সন্ধানের জন্য এবার স্ক্যানার দিয়ে পরীক্ষা চালিয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও ভূতাত্ত্বিক জরিফ অধিদপ্তর। তবে সেই বাড়িতে কথিত গুপ্তধরেন কিছুই মেলেনি। হতাশ হয়েছেন অভিযোগকারী ও বাড়ির মালিক। প্রথমে চেষ্টা করা হয়েছিল মাটি খুঁড়ে গুপ্তধন বের করার জন্য। কিন্তু, কয়েক ফুট খুঁড়ে তা বন্ধ রাখা হয় বাড়ি ধসে পড়বে বলে। পরে সিদ্ধান্ত হয় স্ক্যানার দিয়ে পরীক্ষা করার। প্রায় ৪ ঘণ্টা খোঁড়াখুঁড়ি ও প্রযুক্তির সাহায্য নিয়েও গুপ্তধনের সন্ধান না মেলায় গতকাল বিকালে অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা করেছে ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
গত ১০ই জুলাই মোহাম্মদ আবু তৈয়ব নামের এক ব্যক্তি মিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এরপর ১২ই জুলাই রাতে কয়েকজন লোক বাড়ির ভেতরে গুপ্তধন আছে বলে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা করেন। এই মর্মে ১৪ই জুলাই বাড়ির মালিক মনিরুল ইসলাম থানায় একটি জিডি করেন। পরে তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই বাড়িটিতে খননের সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।
গতকাল বিকালে সরজমিনে মিরপুর ১০ নম্বর সি ব্লকের ১৬ নম্বর সড়কের ১৬ নম্বর সেই বাড়ির সামনে গিয়ে দেখা গেছে সেখানে পুলিশ, বিশেষজ্ঞের পাশাপাশি ছিলেন ঢাকা জেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ। স্ক্যানার ও আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে গুপ্তধন সন্ধান করা হচ্ছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাড়ির সামনে এলাকাবাসী ভিড় করেন। পুলিশ হ্যান্ড মাইক দিয়ে সবাইকে সরে যেতে বলেন। এলাকাবাসীর ভিড় সামলাতে পুলিশকে বেগ পেতে হয়। প্রায় ৪ ঘণ্টা খোঁড়াখুঁড়ির পর সেখান থেকে কিছু না পাওয়ায় বাড়িটির মেঝে মাটি ফেলে ভরাট করে ফেলেছে বাড়ির মালিক।
এ বিষয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজওয়ার আকরাম সাংবাদিকদের জানান, গতকাল দুপুরে ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর ও বুয়েটের এক্সপার্ট এনে ওই বাড়ির ভেতরে জিপিআর স্ক্যানার দিয়ে পরীক্ষা করে দেখেছি। কিন্তু, সেখানে কোনো ধাতব বা গুপ্তধনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তাই অভিযানটি সমাপ্ত ঘোষণা করা হলো। পাশাপাশি ওই বাড়ি থেকে পুলিশের পাহারাও তুলে নেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে মিরপুর থানার ওসি দাদস ফকির জানান, মিরপুরের ওই বাড়িতে কোনো গুপ্তধন পাওয়া যায়নি। ফলাফল শূন্য। তাই প্রশাসনের নির্দেশে সেখান থেকে পুলিশি পাহারা তুলে নিয়েছে। বাড়িটির মালিক মনিরুল সাংবাদিকদের জানান, আমি আমার বাসা বুঝে পেয়েছি। এই বাড়িতে গুপ্তধন আছে এমন একটি গুজব ছিল সেটি এখন ভুল প্রমাণিত হলো। দুর্বৃত্তরা এই গুজব ছড়িয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
গত ২১শে জুলাই থেকে মিরপুর-১০ নম্বরের সি ব্লকের বাড়িটির নিচে দুই মণের বেশি স্বর্ণালঙ্কার ও দামি জিনিসপত্র থাকতে পারে- এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সেগুলো উদ্ধারের জন্য প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরকে নিয়ে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করে ঢাকা জেলা প্রশাসন ও পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে তখন আলোড়ন সৃষ্টি হয়। প্রতিদিনই ভিড় জমাতে থাকে উৎসুক জনতাও। বাড়িটির মাটির নিচে কমপক্ষে দুই মণ স্বর্ণালঙ্কার থাকার দাবি ওঠায় ওই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে শুরু হয় এই অভিযান। ২০ জন শ্রমিকের সহায়তায় ছয় ঘণ্টা ধরে সাড়ে ৪ ফুট খোঁড়াখুঁড়ি করা হয়। বাড়ির ভিত্তিপ্রস্তর দুর্বল হওয়ায় ওইদিন খোঁড়াখুঁড়ি স্থগিত করে দেয়া হয়। এরপর পুনরায় ২২শে জুলাই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের অভিমত নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। ২০১০ সালে সেলিম রেজা নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে এই বাড়িটি গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে কেনেন মনিরুল ইসলাম। বাড়ির ভেতরে রয়েছে সাতটি কক্ষ। বাড়িটি দেখাশোনা করেন শফিকুল ইসলাম ও সুমন নামে দুজন। ২টি রুমে তারা থাকত। বাকি রুমগুলোতে ভাড়াটিয়া থাকলেও নতুন ভবন করা হবে জানিয়ে তাদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন বাড়ির মালিক।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

নির্বাচন বর্জন নয়, কেন্দ্র পাহারা দিন

হঠাৎ কবিতা খানমের সুর বদল

ফাঁকা মাঠে গোল নয়

রেজা কিবরিয়া ঐক্যফ্রন্টে

সংখ্যালঘু নির্যাতনকারীদের নির্বাচনে মনোনয়ন না দেয়ার দাবি

‘ফের বাংলাদেশের বিরুদ্ধে’

মামলার বাদী যখন খুনি

ক্ষমতায় গেলে যেসব কাজ করবে ঐক্যফ্রন্ট জানালেন ডা. জাফরুল্লাহ

‘নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে’

বিএনপিতে মনোনয়ন যুদ্ধে সাবেক ছাত্র নেতারা

তলাফাটা নৌকা নিয়ে কতদূর যেতে পারেন দেখাতে চাই

সিলেটে জামায়াতকে ছাড় দিতে চায় না বিএনপি

রাষ্ট্র ভিন্নমতাবলম্বীদের সহ্য করতে পারছে না

নয়া মার্কিন দূত মিলার ঢাকা আসছেন আজ

দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে নাগরিক ঐক্য

ভোট পর্যবেক্ষণের আবেদন ২১ নভেম্বরের মধ্যে