নাগরিকদের স্তব্ধ করা বন্ধ করুন

শেষের পাতা

তাসনিম নাজির | ১৬ আগস্ট ২০১৮, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৪৮
বাংলাদেশে নির্মম এক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর রাজধানী ঢাকাজুড়ে শুরু হয় ব্যাপক ছাত্রবিক্ষোভ। শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল, সড়ক নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে শান্তিপূর্ণ এই প্রতিবাদে বাগড়া দেয় পুলিশ ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষ। তারা বিক্ষোভকারীদের পেটায় ও মোবাইল ইন্টারনেট যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। প্রতিবাদকারীরা টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপের কথাও জানিয়েছে। যার কারণে কয়েক ডজন গুরুতরভাবে আহত হয়। এ ধরনের প্রতিক্রিয়া সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ও অমানবিক।

এছাড়াও এই বিক্ষোভ নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশের পর প্রখ্যাত আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে আটক করা হয়।
হতাশাজনক হলেও মনে হচ্ছে সরকারের আক্রোশের শিকার হওয়া ব্যতীত বাংলাদেশে কোনো নাগরিকই নিজের মত প্রকাশ করতে পারেন না।

জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নে উদ্বেগ জানালেও, সহিংসতা ছড়িয়েছে। সড়ক নিরাপত্তা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার তোপের মুখে পড়লেও, সরকার এখন উদ্দেশ্যমূলক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের বিধান যোগ করতে বদ্ধপরিকর।

এদিকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া বার্নিকাটকে বহনকারী গাড়িবহরেও সশস্ত্র লোকেরা হামলা চালায়। দূতাবাস অবশ্য জানিয়েছে, তারা কেউ আক্রান্ত হয়নি। মার্কিন দূতাবাস পরে বিবৃতি দিয়ে জানায়, অনর্থক সম্পত্তি বিনষ্ট করাকে তারা সমর্থন করে না। তবে হাজার হাজার তরুণ, যারা শান্তিপূর্ণভাবে নিরাপদ বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলার মাধ্যমে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চা করছিল, তাদের ওপর নিষ্ঠুর হামলা ও সহিংসতার কোনো অজুহাত থাকতে পারে না।

একজন সাংবাদিক হিসেবে আমি মনে করি, আমি যদি বাংলাদেশের জাতীয় কোনো প্রকাশনায় সরকারের বিরুদ্ধে কিছু লিখতাম তাহলে আমাকেও হয়তো গ্রেপ্তার করা হতো। গণমাধ্যমকে স্তব্ধ করা ও মানুষকে সঠিক তথ্য জানা থেকে বঞ্চিত করার প্রবণতা উদ্বেগজনক। এই অপচর্চার ব্যাপারে সরব হওয়া উচিত। এটি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি অবিচারের শামিল। তাদের পূর্ণ অধিকার দেয়া প্রয়োজন।

সরকার বিক্ষোভকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি ও ভিডিও পোস্ট করতে বাধা দিয়েছে কেন? লুকানোর কিছু যদি না-ই থাকে, তাহলে তারা কেন ইন্টারনেট যোগাযোগ বন্ধ করেছিল? নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কারণে অনেক প্রতিবাদকারী গণমাধ্যমকে নিজের নাম পর্যন্ত বলতে রাজি হন না। যখন নাগরিকরা নিজেদের সরকারকেই ভয় পায়, যখন নাগরিকদের নিজের অধিকারের বিষয়ে মতপ্রকাশ থেকে বিরত রাখা হয়, তাহলে তারা কার কাছে যাবে?

বাংলাদেশ সরকারের বোঝা দরকার যে, জবাবদিহিতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থতার জন্য সরকারকে দায়বদ্ধ করা জরুরি। সরকারের সমালোচনার ক্ষেত্রে যে ধরনের অসহিষ্ণুতা বিরাজ করছে, তা প্রকাশ করতে হলে অনেক বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করতে হবে। ক্ষমতাধর রাষ্ট্র নিজের রাজনৈতিক সুবিধার জন্য আইনের অপব্যবহার করে ও নিজেদের দোষত্রুটি ধামাচাপা দেয়। এ কারণে তাদের বিচারের মুখোমুখি করা ও তাদের ব্যর্থতা নিয়ে সরব হওয়াটা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অংশ হিসেবে আমাদের উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো যাদের কথা বলার অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে, যারা একটি অগণতান্ত্রিক সরকারের হাতে নির্যাতিত হয়েই চলেছেন।

বিক্ষোভকারীরা নিজেদের বার্তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাঠানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন, যাতে তারা নিজের মত ব্যক্ত করতে পারেন। তারা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আরো সংবাদ প্রচারের জন্য চাপ দেয়া অব্যাহত রেখেছেন। তাদের আশা, এর মাধ্যমেই হয়তো বাংলাদেশে ইতিবাচক পরিবর্তনের মতো পদক্ষেপ দেখা যাবে।

(তাসনিম নাজির একজন পদকজয়ী সাংবাদিক। তিনি আল জাজিরা ইংলিশ, সিএনএন, বিবিসি, ফোর্বস সহ অনেক সংবাদমাধ্যমের জন্য লিখেছেন। তার এই নিবন্ধ ডিপ্লোম্যাট ম্যাগাজিনের ওয়েবসাইট থেকে অনুদিত।)



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ভোট হয়েছে রাতেই, নেতাদের প্রতিও ক্ষোভ

নাটেশ্বরের ঘরে ঘরে কান্না

গাড়িতে গাড়িতে ‘গ্যাস বোমা’

রাসায়নিকের গোডাউন ওয়াহেদ ম্যানশন

সরকারকে দায়ী করে বিএনপির মন্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন: তথ্যমন্ত্রী

চ্যালেঞ্জ ছুড়ে সিলেটে মাঠে ৫ বিদ্রোহী আওয়ামী লীগে দ্বিধাবিভক্তি

সড়কে মৃত্যুর মিছিল যেন স্বাভাবিক

বাংলাদেশের জনগণ ভালো থাকলে কিছু মানুষ অসুস্থ হয়ে যায়

গা ঢাকা দিয়েছেন গোডাউন মালিকরা

চার জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৫

কোথায় হারালো দুই বোন

আজিমপুরে শোকের মাতম

কান্নায় ভারি হয়ে উঠেছে বাতাস

কন্যার স্মৃতিতে পিতা

বাংলাদেশের জনগণ ভালো থাকলে কিছু মানুষ অসুস্থ হয়ে যায়

দরিদ্র্যতা নয় লোভের বলি