উত্তপ্ত মসলার বাজার

এক্সক্লুসিভ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার: | ১১ আগস্ট ২০১৮, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:৫২
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর বাজারগুলোতে মসলার দাম বাড়তে শুরু করেছে। এর মধ্যে দারুচিনি, এলাচের দাম বেশি বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিবছরই ঈদুল আজহায় কোরবানি ঘিরে বাড়ে মাংসে ব্যবহৃত এসব মসলার দাম। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। এছাড়া অতিরিক্ত চাহিদা, পণ্য খালাসে বিলম্ব, ডলারের ঊর্ধ্বগতিতে মসলার বাজারে এ প্রভাব পড়েছে। ফলে বছরের অন্য সময়ের তুলনায় কোরবানির ঈদে মসলার চাহিদা বেশি থাকায় দাম বাড়িয়ে দেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদবাজারে মসলার বাড়তি চাহিদা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেশি।
পাশাপাশি পণ্যের আমদানি খরচও আগের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়েছে। ফলে দাম একটু বেড়েছে। রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রমজানের পর সব ধরনের মসলার দাম বেড়েছে। ঈদের আগে কেজিপ্রতি (মান ভেদে) এলাচের দাম ছিল ১,৭৫০ টাকা থেকে ১,৮০০ টাকা। বর্তমানে কেজি প্রতি তা বিক্রি হচ্ছে ১,৯২০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা।

একইভাবে বাজারে ভারত থেকে আমদানি করা জিরার কেজি ছিল ২৮৩ থেকে ২৯৭ টাকা। বর্তমানে এর কেজি ৩৩৫ টাকা। সিরিয়া থেকে আমদানি করা জিরার কেজি ছিল ৩৯০ টাকা, বর্তমানে কেজি ৪৫০ টাকা ও চীন থেকে আমদানি করা জিরা বিক্রি হচ্ছে ৩৯৫ টাকা। আর ১১০ টাকা কেজির মিষ্টি জিরা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা। এদিকে বাজারে ঈদের আগে দারুচিনির দাম ছিল কেজি ২৬৮ টাকা, এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ টাকা। দারুচিনি আমদানি হয় চীন ও ভিয়েতনাম থেকে। বাজারে প্রতি কেজি জয়ফল বিক্রি হয়েছিল ৫৫০ টাকা, বর্তমানে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এটি আমদানি হয় শ্রীলঙ্কা ও ভারত থেকে।

লবঙ্গ আমদানি হয় ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মাদাগাস্কার ও ব্রাজিল থেকে। বাজারে প্রতি কেজি লবঙ্গ মান ভেদে ১ হাজার থেকে ১,২০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। যা আগে বিক্রি হয়েছিল ১,২০০ টাকা থেকে ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত।
বাজারে গোলমরিচ (কালো) ৯৫০ টাকা, গোলমরিচ (সাদা) ১,২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা আগে কেজি প্রতি হাজার টাকার উপরে ছিল না।

এছাড়া বাজারে বাড়তি দামে জয়ত্রী ২,১০০, ধনিয়া ১০০ থেকে ১২০, ভারতীয় হলুদ ২১৫, ভারতীয় মরিচ ১৫০, দেশি শুকনা মরিচ ১৩০ কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

কাওরান বাজারের মেসার্স কমলা ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী রতন বলেন, আমাদের দেশে প্রায় সব ধরনের মসলা আমদানি করতে হয়। আমদানি করা এসব মসলার চাহিদা কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে বহুগুণ বেড়ে যায়। চাহিদা বহুগুণ বাড়লেও আমাদের আমদানিকারক কিন্তু বাড়ে না। ফলে ব্যাপক চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে অতি মুনাফা লুটে নেয় গুটিকয়েক আমদানিকারক। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েছে, সে প্রভাবও দেশের মসলার বাজারে পড়েছে।

কাওরান বাজারে মসলা কিনতে আসা বাসিত বলেন, ঈদ আসতে এখনও সপ্তাহ দুই বাকি আছে। তাই আগেই এসেছি মসলা কিনতে। কিন্তু এখন দেখছি সব মসলার দাম বেড়ে গেছে। প্রতিকেজি মসলায় ৩০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

কাওরান বাজার পাইকারি মসলা ব্যবসায়ী মেসার্স সোহাগ বানিয়াতী স্টোরের স্বত্বাধিকারী কাদের বলেন, ঈদ আসলে মসলার দাম বাড়ে। কারণ বাজারে হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যায়। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। তবে এবার এলাচি ছাড়া অন্য মসলার দাম এখনও খুব বেশি বাড়েনি। এলাচি কেজিতে ২০০ টাকা বেড়েছে।

মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এনায়েত উল্লাহ বলেন, বন্দর থেকে পণ্য খালাস করতে আগের তুলনায় এখন সময় বেশি লাগছে। এখন আমদানিকারকদের অনুমতিপত্র জোগাড়ের মতো নতুন ঝামেলা যোগ হয়েছে। ফলে আগের তুলনায় এখন আমদানি খরচও বেড়েছে। যার প্রভাবে পণ্যের দামও কিছুটা বেড়ে যাচ্ছে।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, মসলার দাম প্রতিবার বাড়ে এবারও বেড়েছে। তবে এ বাড়ার জন্য আমদানিকারকরা যে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়তি, ডলারের দাম বেশিসহ নানাবিধ যুক্তি দেয়, এটা আসলে ভিত্তিহীন যুক্তি। দাম বাড়ার জন্য মূলত চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে আমদানিকারকদের অতি মুনাফা লুটার মানুষিকতা দায়ী।

এদিকে দেশের পরিবহন ব্যবস্থায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসায় রাজধানী ব্যাপী কমতে শুরু করেছে সবজিসহ নিত্যপণ্যের দাম। গত সপ্তাহের চেয়ে ৫ থেকে ১০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের সবজি। মরিচের জাঝও কমে এসেছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া মরিচ বাজারভেদে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের অজুহাতে প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হয়েছে প্রতিটি সবজি। গত সপ্তাহে বাজারে ৬০-৮০ টাকায় বিক্রি হওয়া সবজি বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪৫ টাকায়। বাজারে প্রতি কেজি চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা, পটোল ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ টাকা, কাকরোল ৫০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, বেগুন ৪০ টাকা, গোল বেগুন ৫০ টাকা, শসা ৪০ টাকা, টমেটো ৮০ টাকা, করলা ৫০ টাকা এবং প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকায়। এদিকে স্থিতিশীল রয়েছে মাছ ও মুরগির দাম। বাজারে গত সপ্তাহের মতো বয়লার মুরগি ১৫০-১৫৫ টাকা এবং লাল লেয়ার মুরগি ২৫০-২৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি জোড়া কর্ক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৩৬০ টাকায়।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

তুরস্কের কাছে খাশোগি হত্যার রেকর্ডিং চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

ইসিতে ইইউ’র প্রতিনিধি দল

‘মাস্টারপ্লানের বিরোধিতা করায় মাহবুব তালুকদারের পদত্যাগ দাবি করছে সরকার’

জাতীয় ঈদগাহে কাল জানাজা

প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর শোক

দুই মামলা, পুলিশ হেফাজতে মেঘনা ও মৌ

এটি আপনার ঘর

সন্দেহভাজন ঘাতকের তালিকায় সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের ঘনিষ্ঠরা

অপারেশন গর্ডিয়ান নট-এ নিহত জঙ্গী মোস্তাফার বাড়ি ঝিনাইদহে

ফারাক্কা ব্যারেজের লকগেট ভেঙে বিপত্তি

আইয়ুব বাচ্চু আর নেই

‘ডাবিং করতে গিয়ে বেশ ভয় পেয়েছিলাম’

আন্দোলন ও নির্বাচন ২ প্রস্তুতিতেই বিএনপি

মি-টু আন্দোলনের মুখে এম জে আকবরের পদত্যাগ

নীতিমালা নেই অ্যাপস চালুর চিন্তা

সিলেট, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে সমাবেশের তারিখ চূড়ান্ত করেছে ঐক্যফ্রন্ট