শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গ্রন্থাগারে হচ্ছে বঙ্গবন্ধু কর্নার

প্রথম পাতা

নূর মোহাম্মদ | ২৩ জুলাই ২০১৮, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:২১
দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গ্রন্থাগারে ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গ্রন্থাগারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা বই, প্রবন্ধ, কবিতা, বিবৃতি, বাণী  নির্দেশ, সাক্ষাৎকার এবং প্রামাণ্যচিত্র স্থান পাবে। এছাড়াও তার ওপর বিভিন্ন লেখকের লেখা গ্রন্থও থাকবে। বঙ্গবন্ধু ওপর লেখা প্রায় ১৩ শতাধিক বইয়ের কোন্‌ বইগুলো গ্রন্থাগারে স্থান পাবে তা নির্ধারণ করে দেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নির্ধারিত বইয়ের তালিকা করে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠানোর পর তা গ্রন্থাগারে রাখার নির্দেশ দেয়া হবে। তবে বঙ্গবন্ধুর ওপর ঠিক কতগুলো বই লেখা হয়েছে তা সঠিক তথ্য সংগ্রহ করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।  এক্ষেত্রে সরকারের অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সহযোগিতা নেয়া হবে।   

এ লক্ষ্যে আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠক ডাকা হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমেদ। বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) মহাপরিচালক, ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান উপস্থিত থাকবেন।
এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপ-সচিব কামরুল হাসান মানবজমিনকে বলেন, বিষয়টি একবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। মঙ্গলবার আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্মের ওপর বিভিন্ন বিষয়ে লেখা এই পর্যন্ত দেশ-বিদেশে ১৩ শতাধিক মৌলিক গ্রন্থ প্রকাশ পেয়েছে। একজন নেতার ও পৃথিবীর আর কোনো দেশে এতো বিপুলসংখ্যক বই প্রকাশ পায়নি বলে লেখক-প্রকাশকরা জানিয়েছেন। এই বইগুলো বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত। এছাড়াও বঙ্গবন্ধুর ওপর বেশসংখ্যক বই চীনা, জাপানি, ইতালি, জার্মানি, সুইডিশসহ কয়েকটি বিদেশি ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে। এসব বই সংগ্রহ করে গ্রন্থাগারে সংগ্রহ করার ব্যবস্থা করা হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সিলেবাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচিত ১০০ ভাষণের সংকলন সহায়ক পুস্তক হিসেবে তালিকাভুক্ত করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এরই আলোকে গ্রন্থাগারে বঙ্গবন্ধু কর্নার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গ্রন্থাগারে বইগুলো সরকারিভাবে দেয়া হবে নাকি প্রতিষ্ঠান নিজে সংগ্রহ করবে সে বিষয়ে আলোচনা হবে বৈঠকে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছেন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন ও বুদ্ধিজীবীরা।

২০০৪ সালে প্রকাশিত এ বইয়ে শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্তরীণ অবস্থায় বর্ণনা রয়েছে। বইটিতে বঙ্গবন্ধুর শৈশব, শিক্ষা জীবনের সংগ্রাম সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, ভাষা আন্দোলন, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা, যুক্তফ্রন্ট গঠন ও নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন, পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের বৈষম্যমূলক শাসন ও প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের বিস্তৃত বিবরণ এবং এসব বিষয়ে লেখকের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার বর্ণনা রয়েছে। এছাড়াও বঙ্গবন্ধুর জেল জীবনের  দৈনন্দিন বিবরণ বা ডায়েরির ওপর নির্ভর করে দ্বিতীয় এ বইয়ের নাম ‘কারাগারের রোজনামচা’।

শুধু বাংলায় নয় ইংরেজিতেও বইটি প্রকাশ হতে যাচ্ছে। দুটি সংস্করণই প্রকাশ করবে বাংলা একাডেমি। ২০১৭ সালে একুশে গ্রন্থমেলায় বাংলা সংস্করণটি প্রকাশ করেছে বাংলা একাডেমি। আর ‘এই দেশ এই মাটি’ নামে প্রবন্ধ, বক্তৃতা, বাণী, নির্দেশ ও সাক্ষাৎকারমূলক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি বই রয়েছে। এ বইয়ে বঙ্গবন্ধুর লেখা পাঁচটি প্রবন্ধ, ৫২৭টি বক্তৃতা-বিবৃতি, ৩২টি বাণী, ১৭টি নির্দেশ, ৩টি সাক্ষাৎকার, বহু উপাধিতে ভূষিত শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে ১২টি বিষয়, ১৭টি ঐতিহাসিক দলিলপত্র এবং ২২১টি দুর্লভ ছবি রয়েছে। এ দুটি বই গ্রন্থগারে বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের রেফারেন্স বই হিসেবে ব্যবহারের জন্য শেখ হাসিনার নির্বাচিত ১০০ ভাষণ সংকলনটি সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর? ২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের উল্লেখযোগ্য ভাষণগুলো নেয়া হয়েছে এই সংকলনে? প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে গত ২৬শে জুন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সহকারী পরিচালক সাখায়েত হোসেন বিশ্বাস স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

kazi

২০১৮-০৭-২৩ ০০:১৬:৩৬

রাংলাদেশ স্বাধীন না হলে বিশ্ববাসী বাঙ্গালী জাতিকে চিনত না। শেখ মুজিব স্বাধীনতার পথ প্রদর্শক। বাংলাদেশের প্রতিটি ধূলি কনায় তার নাম লিখিত। তাকে যারা অস্বীকার করে তারা কৃতঘ্ন । তার ইতিহাস আগামি প্রজন্মকে শিক্ষার সব পথ তৈরি করা অবশ্যই দরকার । যে জাতি তার জাতির জনককে অস্বীকার করে তার অস্তিত্ব বেশি দিন টিকে থাকে না। So he must be learned more.

আপনার মতামত দিন

ইন্টারপোলের সাবেক প্রধানের স্ত্রী আশ্রয় চেয়েছেন ফ্রান্সে

সাভারে চলন্ত বাসে ছিনতাইয়ে হেলপার

১৪ দলের শরিকরা বিরোধীদলে এলে সংসদ আরও প্রাণবন্ত হবে: রাঙ্গা

নারায়ণগঞ্জে ১৮ জনকে কুপিয়ে জখম

দ্রুত ধনী মানুষ বাড়ার দিক দিয়ে বাংলাদেশ তৃতীয়

‘চোর মেশিন’ ইভিএম বন্ধ করার দাবি

নিশানের সাবেক প্রধানের বিরুদ্ধে ৯০ লাখ ডলার হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

নিয়মিত মেডিকেল চেক-আপে কাল সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন এরশাদ

নৈতিক পরাজয় ঢাকতে আওয়ামী লীগের বিজয় উৎসব : ফখরুল

৫ দিনেও সন্ধান মেলেনি নিখোঁজ ২০ শ্রমিকের

প্রথম মা হচ্ছেন লুসি, সন্তানের পিতার পরিচয় গোপন রাখবেন

রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনে মিয়ানমার অত্যন্ত ধীর গতিতে

‘ইসরাইলিদের মালয়েশিয়ায় আসা উচিত নয়’

অবশ্যই নির্বাচন ‘পারফেক্ট’ ছিল না- জাতিসংঘ

‘বেস্ট সেলিং ব্রান্ড’ হলো আতঙ্ক- জাতিসংঘ মহাসচিব

১৮ ঘণ্টা পর খুলনার সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক