তেলের দাম বাড়ায় জনবিক্ষোভ

হাইতি প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

অনলাইন

অনলাইন ডেস্ক | ২১ জুলাই ২০১৮, শনিবার, ৭:০৩
ফুটবল বিশ্বকাপে মগ্ন থাকার  সুযোগে ৬ই জুলাই দেশটিতে তেলের দাম ৪০ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছিল হাইতি সরকার। একদিকে বিশ্বকাপে পছন্দের দল  ব্রাজিলের হার, অন্যদিকে তেলের দাম বাড়ার খবরে সহিংস বিক্ষোভ দেখা যাচ্ছে দেশের সর্বত্র। হাইতির জনগণ বরাবরই ব্রাজিলের সমর্থক। তার পেছনে অবশ্য রয়েছে বেশ কিছু কারণ। ব্রাজিলের কাছ থেকে আর্থিক ও সামরিক সাহায্য পেয়ে আসা দেশটির জনগণ এমনকি ব্রাজিলের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় পেলের সঙ্গে তাদের দেশটির শিকড় আছে বলে মনে করেন। সেই ব্রাজিলের খেলায় দেশবাসীর মগ্নতার সুযোগ নিতে চেয়েছিল দেশটির সরকার। কিন্তু সরকারের নাটক  ধরা পরে যায় বেলজিয়ামের কাছে ব্রাজিল হারের পর। ব্রাজিলের হারের পর হাইতির রাজধানী পোর্ট অ প্রিন্স কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
বিক্ষোভকারীরা গাড়ি পুড়িয়ে, রাস্তাঘাট অচল করে দেয়। জনগণের ক্ষোভের রোষানলে পরে হাইতির প্রধানমন্ত্রী জ্যাক গি লেফনটন্ট দ্রুত জ্বালানি তেল থেকে ভর্তুকি তুলে নেবার নীতি বদলে ফেলেন। তারপরেও শেষ রক্ষা হোলো না। জ্বালানি তেলের  মূল্যবৃদ্ধির যে প্রস্তাব তোলা হয়েছিল, তাতে জনগণের বিরোধীতা হিসেবে সহিংস প্রতিবাদের মুখে ১৪ জুলাই তাকে পদত্যাগ করতে হয় তাঁকে। ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে জানা যায়, এ ঘটনায় দেশটির জিডিপির ২ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে। সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছে তিনজন।লাতিন আমেরিকার এই দরিদ্র দেশটি ২০১০ সালের ভূমিকম্পের ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই নতুন নতুন সমস্যার সম্মূখীন হচ্ছে। দিন যাচ্ছে আর দেশটিতে বিদেশি সাহায্যের পরিমাণ আগের তুলনায় কমে যাচ্ছে। ভেনেজুয়েলা হাইতিকে আগে যে সহযোগিতা করতো, সেটা এখন কমে গিয়েছে তাদের অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়ার কারণে। সবদিক থেকে দুর্দশার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশটি। এরপর আবার সরকারের এই তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারচুপি।

গত বছর হাইতির প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘূর্ণিঝড় ম্যাথুর পর ক্ষমতায় আসীন হন প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মইসি। তার প্রথম পদক্ষেপই ছিল ইন্টারন্যাশনাল মনিটরি ফান্ডের (আইএমএফ) সঙ্গে একটি চুক্তি করা। চুক্তিতে আইএমএফ পরামর্শ দেয় জ্বালানিতে ভর্তুকি তুলে নেওয়ার। তাদের মতে, এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে ও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। তবে হাইতির সরকার যে ভর্তুকি দেয়, তার ৮৫ শতাংশই চলে যায় দেশটির ১০ শতাংশ ধনী নাগরিকদের হাতে।

প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ উইলসন ল্যালেউ বলেন, হাইতি থেকে ছয় হাজার ব্যারেল জ্বালানি চোরাচালানের মাধ্যমে প্রতিবেশী ডমিনিকান রিপাবলিকে চলে যায়। ভর্তুকি বাদ দিলে ৩৫ কোটি ডলার বাঁচানো সম্ভব যা অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় করা যেতো। হাইতি তার মোট জিডিপির মাত্র ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষায় ব্যয় করার ক্ষমতা রাখে। লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে দরিদ্র দেশ হন্ডুরাস ও নিকারাগুয়া এর চেয়ে বেশি এসব খাতে ব্যয় করে।

এখন এই অবস্থায় সেনাবাহিনীবিহীন দেশটির বিশৃঙ্খলা বা বিক্ষোভ ঠেকানো সরকারের জন্য কঠিন বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষীরা দেশটিতে কাজ করছিলেন। গত অক্টোবর মাসে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় তাদের। দেশে শক্তিশালী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুপস্থিতে কম বেতনের পুলিশ সদস্য দিয়ে ভবিষ্যতে দাঙ্গা কতটা নিয়ন্ত্রণ রাখা যাবে, সে প্রশ্ন এখন সময়ের দাবী। অবশ্য কিছু সরকারি কর্মকর্তা মনে করছেন, দেশটিতে বিরজমান বর্তমান অবস্থার জন্য  ভর্তুকি থেকে সুবিধা পাওয়া জ্বালানি চোরাচালানকারী, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী কিংবা শক্তিশালী পরিবারের হাত থাকতে পারে।




এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

নিরাপত্তার অভাবে এলাকা ছাড়লেন রেজা কিবরিয়া

হামলার বিচার চেয়ে লতিফ সিদ্দিকীর অবস্থান

নির্বাচনের আগে চারটি জনসভা করবেন শেখ হাসিনা

ভারতীয় নেতারা বিজয় দিবসে মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি দেননি

নির্বাচন না হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে

অভিযোগের প্রতিকার নেই ইসিতে

নির্বাচনে বলপ্রয়োগ গ্রহণযোগ্য হবে না

পরিস্থিতি নো ইলেকশনের দিকেই যাচ্ছে

হাসিনা না খালেদা ভারতের উভয় সংকট

ঐক্যফ্রন্টের শোভাযাত্রায় জনতার ঢল

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার আজ

নির্বাচনকে সামনে রেখে ভারত থেকে আসছে অস্ত্র

ভারতীয় নেতারা বিজয় দিবসে মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি দেন নি

বিজয় দিবসে দেশ গড়ার দৃপ্ত শপথ

সাতক্ষীরায় ধানের শীষ প্রার্থী নজরুল গ্রেপ্তার

'ধানের শীষে ভোট মানেই ৩০ লাখ শহীদের হত্যাকারীদের পক্ষে ভোট'