বিচারিক ক্ষমতা নিয়ে মাঠে থাকছে ৩৭১০০০ সেনা, পাকিস্তানে নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ২১ জুলাই ২০১৮, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:৩৮
দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে বহুল আলোচিত দেশ পাকিস্তানে আর মাত্র চার দিন পরেই ২৫ শে জুলাই জাতীয় নির্বাচন। এ নির্বাচনে দেশজুড়ে নির্বাচন কেন্দ্রগুলোতে প্রায় ৩ লাখ ৭১ হাজার সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে। তাদেরকে শুধু মোতায়েন করাই হচ্ছে না, একই সঙ্গে দেয়া হচ্ছে ব্যাপক বিচারিক ক্ষমতা। এ নিয়ে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও মানবাধিকা বিষয়ক গ্রুপগুলোর মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। এর কারণ খুবই পরিষ্কার। একদিকে শুধু নির্বাচন নয়, রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএলএন) প্রধান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ। তাকে দুর্নীতির অভিযোগে বর্তমানে কারাগারে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) সহসভাপতি ও সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারিকে তিনটি ব্যাংকে অর্থ কেলেংকারিতে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
ফলে রাজনীতির মাঠ বলতে গেলে ফাঁকা। শুধু প্রকাশ্যে ভাল অবস্থানে আছেন পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ (পিটিআই) দলের প্রধান ও সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খান। পিএমএলএন ও পিপিপির প্রতি প্রতিকূলতা দেখিয়ে ইমরান খানকে অনুকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। তাছাড়া দেশটির রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর ভূমিকা সর্বজনবিদিত। সবাই জানেন এ দেশটিতে বেশির ভাগ সময় ক্ষমতায় প্রভাব বিস্তার করে আছে সেনাবাহিনী। এমন অবস্থায় ৩ লাখ ৭১ হাজার সেনা সদস্যকে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে নির্বাচন কেন্দ্রে মোতায়েনের সিদ্ধান্তে বড় ধরনের ভয় দেখা দিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানে ২৫শে জুলাইয়ের এ নির্বাচনকে দেখা হচ্ছে দ্বিমুখী নির্বাচন। এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দুটি পক্ষ। একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খান। অন্য পক্ষে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে জেলে থাকা নওয়াজ শরীফ। এরই মধ্যে নওয়াজ শরীফ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেছেন, ইমরান খানকে নেপথ্যে থেকে সমর্থন দিচ্ছে সেনাবাহিনী। তবে এমন অভিযোগ পাকিস্তান সেনাবাহিনী প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বার বার বলেছে, নির্বাচনে তাদের কোনো ভূমিকা নেই। উল্লেখ্য, এর আগে পাকিস্তানে নির্বাচন হয় ২০১৩ সালে। সে সময় যে পরিমাণ সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল এবার তার প্রায় তিনগুনে সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে। গত মাসে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশটির নির্বাচন কমিশন সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেয়। এর ফলে যেকেউ নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন করলে ঘটনাস্থলেই তার বিরুদ্ধে শাস্তি দিতে পারবে সেনারা। কেউ ভোটের সময় ওই ধরনের অপরাধ করলে তাকে ৬ মাস পর্যন্ত জেল দেয়ার কথা বলা হয়। নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র আলতাফ খান বলেছেন, পোলিং স্টেশনের চার্জে যেসব কর্মকর্তা থাকবেন তাদেরকে এমন কর্তৃত্ব দেয়া হয়েছে। এমন কর্তৃত্বের কি অপব্যবহার হতে পারে? এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না। মোটেই না। তারা তো আমাদেরই অংশ। সেনাবাহিনী মোতায়েন করে তাদেরকে এত বড় কর্তৃত্ব দেয়ার বিরুদ্ধে আপত্তি তুলেছে বেশ কিছু রাজনৈতিক দল। তারা বলছে, নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা সীমিত। তারা শুধু নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। এটাই তাদের দায়িত্ব হওয়া উচিত। পিপিপির এমপি ফরহাতুল্লাহ বাবর বলেছেন, সেনাবাহিনীকে এভাবে এই প্রথমবার ব্যবহার করা হচ্ছে। সরকার, সমাজ ও রাজনীতিতে এরই মধ্যে ভয়াবহভাবে সামরিকীকরণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালে স্বাধীন হয় পাকিস্তান। এরপর অনেকবার সেখানকার ক্ষমতা দখল করেছে সেনাবাহিনী। দেশটির স্বাধীনতার অর্ধেক সময় সরাসরি শাসন করেছে তারা। এমন সব সমালোচনার জবাবে এ মাসে সংবাদ সম্মেলন করেন সেনা মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গাফুর। তিনি বলেছেন, সেনাবাহিনী নিরপেক্ষ থাকবে। নির্বাচন কমিশন আমাদেরকে যতটুকু সহায়তা করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে আমরা ততটুকুই করবো। নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ততটুকুই হবে।
এর আগে কমপক্ষে একবার সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দেয়া হয়েছিল। ২০১৩ সালে কয়েক দফা বিশেষ নির্বাচনের সময় এমনটা ঘটেছিল। কিন্তু একটি জাতীয় নির্বাচনের সময় যখন সেনাবাহিনীকে এত বড় ক্ষমতা দেয়া হয় তখন তাতে যথেষ্ট উদ্বেগ থাকে বলে মনে করছে নিরপেক্ষ মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা হিউম্যান রাইটস কমিশন অব পাকিস্তান। তারা এক বিবৃতিতে বলেছে, এমন পদক্ষেপ অপ্রত্যাশিত। যেখানে বেসামরিক লোকজনের ম্যান্ডেটের বিষয় সেখানে তাদের এতটা কঠোরতা, তাদের মতো একটি প্রতিষ্ঠানকে এত বড় ব্যবস্থাপনায় নামানো বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

নিরাপত্তার অভাবে এলাকা ছাড়লেন রেজা কিবরিয়া

হামলার বিচার চেয়ে লতিফ সিদ্দিকীর অবস্থান

নির্বাচনের আগে চারটি জনসভা করবেন শেখ হাসিনা

ভারতীয় নেতারা বিজয় দিবসে মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি দেননি

নির্বাচন না হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে

অভিযোগের প্রতিকার নেই ইসিতে

নির্বাচনে বলপ্রয়োগ গ্রহণযোগ্য হবে না

পরিস্থিতি নো ইলেকশনের দিকেই যাচ্ছে

হাসিনা না খালেদা ভারতের উভয় সংকট

ঐক্যফ্রন্টের শোভাযাত্রায় জনতার ঢল

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার আজ

নির্বাচনকে সামনে রেখে ভারত থেকে আসছে অস্ত্র

ভারতীয় নেতারা বিজয় দিবসে মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি দেন নি

বিজয় দিবসে দেশ গড়ার দৃপ্ত শপথ

সাতক্ষীরায় ধানের শীষ প্রার্থী নজরুল গ্রেপ্তার

'ধানের শীষে ভোট মানেই ৩০ লাখ শহীদের হত্যাকারীদের পক্ষে ভোট'