ভোটের আমেজ সর্বত্র, সবার মুখে ‘যদি’

প্রথম পাতা

মারুফ কিবরিয়া, বরিশাল থেকে | ২১ জুলাই ২০১৮, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:২৯
নির্বাচনের আর মাত্র আট দিন বাকি। মেয়র-কাউন্সিলর প্রার্থীরা উৎসবের-আমেজে চালাচ্ছেন নির্বাচনী প্রচারণা। প্রধান তিন দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি ছাড়াও অন্য দলের মেয়র-কাউন্সিলর প্রার্থীরা বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন ভোট চাইতে। কিন্তু এ নির্বাচন নিয়ে প্রার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা কাজ করলেও সাধারণ ভোটারদের মনে ভর করেছে নানা শঙ্কা। শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে উৎসব থাকবে কিনা এ নিয়ে   
মানুষের মুখে মুখে কেবল ‘যদি’ আর ‘যদি’। সাধারণ ভোটাররা বলছেন, যদি ভোট সুষ্ঠু হয়, পরিবেশ উৎসবমুখর থাকে তাহলে তারা তাদের পছন্দের প্রার্থী মনোনীত করতে পারবেন।


গতকাল সকাল থেকে বরিশাল শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সাধারণ মানুষের মাঝে ভোট নিয়ে শঙ্কার চিত্র পাওয়া গেছে। নগরীর কেডিসি বস্তি এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় গিয়েছিলেন বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার। সেখানকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন তিনি। এর পরেই একই এলাকায় প্রচারণায় আসেন জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস। নির্বাচনী প্রচারণা শেষে কেডিসি বস্তি এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভোটের পরিবেশ দেখে তারা ভোট দিতে চান। শফিক নামের এক ফল ব্যবসায়ী জানান, প্রার্থীরা প্রচারণায় এসে অনেক কথাই বলবে। কিন্তু তাদের ভয় দূর করতে পারবেন না কেউ। তিনি বলেন, ‘আমরা কারে ভোট দেবো সেটা যদি কেউ ঠিক কইরা দেয় তাইলে কেন্দ্রে যাইয়া ভোট দিয়া কী হইবো! তিনি আরো বলেন, টিভিতে গাজীপুর আর খুলনার নির্বাচন দেখছি। অনেক মানুষ ভোট কেন্দ্রে গিয়া দেখছে তাগো ভোট হইয়া গেছে। এইখানেও যদি একই অবস্থা হয় তাইলে ক্যামনে ভোট দিমু।’ একই এলাকার ফিরোজ নামের আরেক যুবক বলেন, ‘আমরা ভোট দিতে চাই। কিন্তু কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে ভয় হচ্ছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলেই ভালো। প্রার্থীরা তো দিনে একবার করে আসা-যাওয়া করে। কিন্তু ভরসা পাচ্ছি না। কেন্দ্রে গিয়ে যদি মারামারির মধ্যে পড়তে হয়। শুক্রবার সকাল থেকে একের পর এক মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা প্রচারণা চালিয়েছেন বাঁধ রোড এলাকায়। সেখানে কয়েক জনের সঙ্গে কথা বললে তারাও ভয়-ভীতির মধ্যে আছেন বলে জানিয়েছেন। সবুজ নামের এক বেসরকারি কর্মকর্তা বলেন, আমরা একটা সুন্দর নির্বাচন দেখতে চাই।’

কেন্দ্র দখলের মতো ঘটনা যদি ঘটে যায় তাহলে আমরা আর ভোট দিয়ে কি করবো। অনেক বুঝেশুনে ঠিক করেছি, এলাকার উন্নয়নে যারা কাজ করবে বা যিনি যোগ্য প্রার্থী তাকেই ভোট দেবো। কিন্তু নিরাপদ কেন্দ্র যদি না পাই তাহলে ভোটটা দেবো কীভাবে? বরিশালের ব্যস্ততম আরেকটি এলাকা বাজার রোড এলাকা। এখানেও দুপুরের দিকে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা। একই সঙ্গে ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীরাও প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। তবে ভোট দেয়া নিয়ে শঙ্কা সেখানকার মানুষের মাঝেও। আফতাব নামের এক ব্যবসায়ী জানান, ‘ভোট দিতে তো ইচ্ছা করে। কিন্তু গাজীপুরে যে নির্বাচন দেখছি তাতে কেন্দ্রে যাইতেও ভয় করে। মানুষ তো আগে নিজের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে। মানুষের মুখে শুনছি যারা ক্ষমতায় আছে তারা নাকি আগেই সব ঠিকঠাক কইরা রাখছে।’ ইব্রাহীম নামের এক মুদি দোকানি বলেন, ‘নির্বাচন নিয়া সবার আগ্রহ আছে। আমারও আছে। প্রার্থীরা এসে ভোট চেয়ে যাচ্ছেন। রাত পর্যন্ত প্রচারণা চলছে। এসব দেখে ভালোই লাগছে। কিন্তু ভোটে কারচুপি হলে তখন এই ভালোলাগাটা নষ্ট হয়ে যাবে। আমরা বরিশালবাসী সুন্দর একটা নির্বাচন চাই। নগরীর চকবাজার এলাকায় নির্বাচন নিয়ে দেখা গেছে উৎসব আমেজ। প্রার্থীদের আনাগোনায় বেশ খোশ মেজাজ দেখা গেছে এলাকাবাসীর মাঝেও। তবে ভেতরে ভেতরে অনেকের চিন্তা। আসলেই কি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে? সাইদ নামের এক কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, ‘সব ঠিকভাবেই দেখছি। ভালোই লাগছে। কিন্তু নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে একটা প্রশ্ন সব মানুষের।’
চক বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী সৌম্য বলেন, ভালো নির্বাচন আমরা সবাই আশা করি। সবাই সবার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবে।

দুপুরের দিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মজিবুর রহমান সরোয়ার নগরীর পলাশপুর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকাগুলোতে জনসংযোগ করেন। সেখানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হতে হলে সেনা মোতায়েন করতে হবে। তার নির্বাচনী প্রচারণা শেষে এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাকায় এখন পর্যন্ত নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ঝামেলার সৃষ্টি হয়নি। তবে এলাকার মানুষের মনে ভয় জেগেছে নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে। সেখানকার ব্যবসায়ী জহির বলেন, আমরা ভয়ে আছি গাজীপুর বা খুলনা সিটি নির্বাচনের ঘটনাগুলো আমাদের এখানেও ঘটবে কিনা। এখন পর্যন্ত সব ঠিকঠাক হলেও শেষ পর্যন্ত এমন পরিবেশ থাকে কিনা- এটাই বড় কথা।

প্রচারণার বৈঠক থেকে জামায়াত নেতা বাবর গ্রেপ্তার
স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল থেকে জানান, বরিশাল মহানগর জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি জেনারেল জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরীর বটতলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ দাবি করেছে তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। তবে তিনি শুক্রবার বিএনপির সরোয়ারের ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচনী সভায় যোগ দিয়েছিলেন

জানা গেছে, বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে বটতলা এলাকায় অনুষ্ঠিত একটি উঠান বৈঠক শেষে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৈঠকে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার, বিএনপ্থির কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর উপস্থিত ছিলেন। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত) আসাদুজ্জামান বলেন, বটতলা থেকে জহির উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে কোন মামলায় তাকে আটক দেখানো হয়েছে এ বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেনি।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

শোকের দিনে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ

ইডেন ছাত্রীসহ গ্রেপ্তার ৩

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১১

শহিদুল আলমের মুক্তি দাবি রুশনারা-রুপার

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নপূরণ আমাদের দায়িত্ব

নাগরিকদের স্তব্ধ করা বন্ধ করুন

বর্তমান সরকারের উন্নয়ন নজিরবিহীন

মিয়ানমার থেকে শূন্য হাতে ফিরেছে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল

বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ঘিরে গণগ্রেপ্তার চলছে

হজ ফ্লাইট শেষ, যেতে পারেননি ৬০৬ জন

ভিজিএফ’র চাল-গম বিনামূল্যে নয়, টাকা দিয়ে কিনতে হবে

বেপরোয়া টানাপার্টি টার্গেট নারী

বর্বরতা

সৌদিতে আরও ৫ বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু

সেই রোহিঙ্গা শিশুর নাম রাখা হলো আয়েশা খালেদা

নিউইয়র্কে ইমরান এইচ সরকার লাঞ্ছিত (ভিডিও)