আওয়ামী লীগ-বিএনপির সমদূরত্বে থেকে ঐক্য

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ২১ জুলাই ২০১৮, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১০:২৭
আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমদূরত্বে থেকে বিকল্প ধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে ঐক্য গড়ে তুলতে চান কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী। একই সঙ্গে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে দলমত নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্যের উদ্যোগ নিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি এ আহ্বান জানান। এ সময় তিনি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে তার দলের অবস্থান তুলে ধরেন। কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে একটি জাতীয় ঐক্য গড়ার চেষ্টা করছি। এখনো করছি।
আমাদের ধারণাপত্রে স্পষ্ট বলেছি-বিএনপির সঙ্গে ঐক্য করার জন্য আমাদের প্রচেষ্টা নয়। বিএনপির প্রচেষ্টায় ঐক্য হওয়ার জন্য জাতীয় ঐক্য-সেটাও আমাদের লক্ষ্য নয়। আমাদের লক্ষ্য বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের সরকার থেকে সমদূরত্বে থেকে দেশের মানুষের কাঙ্ক্ষিত জাতীয় ঐক্য আমাদের কাম্য।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে বহুদিন একই ব্যক্তি সরকার প্রধান এবং একই ব্যক্তি দলীয় প্রধান। সেটা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ক্ষেত্রে হয়েছে। এই অন্ধকার থেকে আমরা মুক্তি চাই। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্র  চললে সরকার যে চালাবেন তাকে চালাবে দলের কর্তৃত্ব নেতৃত্ব। সরকার চলবে রাজনীতির হুকুমে, নির্দেশে। কিন্তু বর্তমানে একই ব্যক্তি সরকার ও দলের প্রধান হওয়ায় রাজনীতির কোনো গুরুত্ব নেই। রাজনীতির নেতৃত্বের কোনো গুরুত্ব নেই।’ কাদের সিদ্দিকী বলেন ‘আমরা যে ঐক্য চাই সেই ঐক্যে মানুষের সমর্থন ও সম্মতি পেলে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ও নেতৃত্ব সরকার পরিচালনা করবেন। সরকার হবেন একজন আর দল হোক, জোট, ফ্রন্ট হোক তার নেতা হবেন একজন।’ তিনি বলেন, ‘যে প্রচেষ্টা আমরা চালিয়ে আসছি সেখানে আমরা বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি অর্থবহ কার্যকরী জাতীয় ঐক্য চাই এবং সেই জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট কিংবা জোট হোক এর প্রধান হবেন বদরুদ্দোজা চৌধুরী। আর এই ফ্রন্টের নেতৃত্বে যদি আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারি তাহলে আমাদের সরকার প্রধান হবেন ড. কামাল হোসেন এবং আমরা এটা মনে প্রাণে চাই।’ প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে কাদের সিদ্দিকী বলেন, দেশ বসাবাসযোগ্য হোক এটাই আমরা চাই। আর চাই বলেই আমাদের দাবি আপনি একটি জাতীয় ঐক্যের প্রয়াস নিন। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ অবাধ একটা নির্বাচন যাতে অনুষ্ঠিত হতে পারে সেইজন্য দলমত নির্বিশেষে সকল পেশার মানুষকে ডেকে আপনি একটি সুস্থ সামাজিক পরিবেশ সৃষ্টি করুন। দেশে বর্তমানে সুস্থ সামাজিক পরিবেশের প্রচুর অভাব রয়েছে। জীবনের নিরাপত্তা নেই। আপনি মানুষের জীবনের নিরাপত্তা বিধান করুন।’

‘বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশে রক্ত গঙ্গা বয়ে যাবে’ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কাদের সিদ্দিকী বলেন, মানুষ যদি বিএনপিকে ভোট দেয় তাহলে তিনি কি করবেন? সরকারের কথায় দেশে শান্তির সুবাতাস বইছে। এ রকম অবস্থায় বিএনপি ক্ষমতায় এলে যদি রক্ত গঙ্গা বয়ে যায়, যদি রক্তে  বাংলাদেশ ডুবে যায়- তখন এর প্রতিকার কি? এটা আমাদের ভেবে দেখতে হবে। আমারতো মনে হয় না আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কাছে এর প্রতিকার আছে।’ কোটা সংস্কার আন্দোলকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার ঘটনার প্রেক্ষিতে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আমাদের সন্তানরা মেধার ভিত্তিতে কোটা নির্ধারণ চেয়েছে। তারা কোটা বাতিল চায়নি। সরকারের মনপুত না হলে সেটা বিএনপি বা জামায়াতের কাজ- এ রকম বলার পরিণাম ভয়াবহ। তিনি বলেন, ‘আইয়ুব আমলে ছাত্র ফেডারেশন হাতুরি নিয়ে ছাত্রলীগ কর্মীদের হাড়গোড় গুঁড়ো করেছে। এর পরিণতি ভালো হয়নি। যে ছাত্রলীগকে নিয়ে আমরা গর্ব করতাম, যে ছাত্রলীগ স্বাধীনতায় অন্য ভূমিকা রেখেছে সেই ছাত্রলীগ আজকে যদি কাউকে হাড়গোড় ভেঙে মানুষকে নির্যাতনের মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায় তাহলে লজ্জা রাখার মতো কোনো  জায়গা নেই। যে ছাত্রলীগকে নিয়ে জাতি গর্ব করতো, সেই ছাত্রলীগের ভূমিকায় আজকে মাথানত হয়ে যায়। আমি সরকারকে বলবো- এখনো সময় আছে কি না জানি না। এদেরকে সামলান। শক্তি দিয়ে পৃথিবীতে কেউ টিকে থাকতে পারেনি। শক্তি দিয়ে কেউ ইতিহাস সৃষ্টি করতে পারেনি। ক্ষমতা কারো চিরস্থায়ী নয়। আওয়ামী লীগের জন্যও নয়।’ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল  সিদ্দিকী। এ সময় দলের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদারসহ অন্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেনের যুক্তফ্রন্ট গঠিত হলে সেখানে যাবেন কি না- এমন প্রশ্নে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘যুক্তফ্রন্ট নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু এটি এখনো প্রেস কনফারেন্স করেনি, প্রকাশ্যে আসেনি। তাই আমি এখনই বলতে পারছি না যে যুক্তফ্রন্টে আছি কি নেই।’ খালেদা জিয়ার বৃটিশ আইনজীবী লর্ড কার্লাইলকে ভারতে ঢুকতে না দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কেন ভারতে এসে তাকে প্রেস কনফারেন্স করতে হবে এটি আমরা বুঝতে পারিনি। বৃটেনে সাংবাদিকের অভাব নেই? পৃথিবীর সকল দেশ বৃটেন থেকে খবর সংগ্রহ করে।’ কাদের সিদ্দিকী আরো বলেন, ‘খালেদা জিয়ার আইনজীবীকে কেন বাংলাদেশে এসে খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনি লড়াই করতে দেয়া হয়নি, এখানে বাধা কোথায় সেটাও আমরা বুঝতে পারিনি। পাকিস্তান আমলে আমরা বৃটিশ আইনবিদকে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় কৌঁসুলি নিয়োগ করেছিলাম। এবং আইয়ুব খানের মতো একজন স্বৈরশাসক থাকা সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুর পক্ষে তিনি নির্বিবাদে কাজ করতে পেরেছিলেন’।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

আইসিইউতে রাজধানী

ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টির চক্রান্ত করছে বিএনপি

ওয়ান ইলেভেনের বেনিফিশিয়ারি আওয়ামী লীগ

যেভাবে ঢাকার মেরামত সম্ভব

গুজব ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার ফারিয়া রিমান্ডে

৪০ লাখ বাংলাভাষী হবে বৃহত্তম রাষ্ট্রবিহীন জনগোষ্ঠী!

ইমরান খানই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

মওদুদের বাড়ি ঘেরাও করে রাখায় মির্জা ফখরুলের নিন্দা

বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য ও আন্দোলনের খসড়া রূপরেখা তৈরি

আত্মমর্যাদা ও মানবাধিকারের স্বপক্ষে একক কণ্ঠস্বর

ঈদের আগে ছাত্রদের মুক্তি দিন: ড. কামাল

‘কার কাছে গেলে ছেলেকে ফেরত পাবো’

বাজপেয়ীকে শেষ বিদায়

পশুবোঝাই ট্রাক ‘ছিনতাই’ শঙ্কায় সিলেটের বেপারিরা

ভোগান্তি মাথায় নিয়ে ঈদযাত্রা

মওদুদ আহমদকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ