কমেছে পাসের হার ও জিপিএ-৫

সাত বছরে সর্বনিম্ন ফল

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ২০ জুলাই ২০১৮, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:৪৬
এইচএসসি পরীক্ষায় কাক্সিক্ষত ফল পেয়ে ভিকারুন নিসার শিক্ষার্থীদের উল্লাস ছবি: শাহীন কাওসার
গত সাত বছরের মধ্যে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় সর্বনিম্ন ফল হয়েছে। গত বছরের চেয়ে কমেছে জিপিএ-৫ এর সংখ্যাও। বেড়েছে নেতিবাচক শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা। শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে। পাসের হারে মেয়েরা এগিয়ে থাকলেও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে ছেলেরা। চলতি বছর পাসের হার কমার জন্য মানবিক বিভাগে পাসের হার কমা,  ইংরেজি, পদার্থ ও আইসিটিতে খারাপ ফলকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া সিলেট ও যশোর উভয় শিক্ষা বোর্ডে গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় ১০ শতাংশ এবং রাজশাহী ও দিনাজপুর বোর্ডে ৫ শতাংশ পাসের হার কমায় সার্বিক ফলাফল খারাপ হয়েছে। আর বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ কম পাওয়ায় সব বোর্ডে জিপিএ-৫ এর সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষা বোর্ডগুলোর তথ্যমতে, ২০১১ সালের পর এবার সর্বনিম্ন ফলাফল হয়েছে। ২০১১ সালে পাসের হার ছিল ৭৫ দশমিক ০৮ শতাংশ । ২০১২ সালে ২ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৭৩ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০১৩ সালে আরেক দফা কমে পাসের হার হয় ৭১ দশমিক ১৩ শতাংশ। তার আগে বছর ২০১২ সালে পাসের হার বেড়ে হয়েছিল ৭৩ দশমিক ৫ শতাংশ। এ ৭ বছরের মধ্যে রেকর্ড সংখ্যক পাস করে ২০১৪ সালে। এ বছর পাসের হার ছিল ৭৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। পরের বছর ২০১৫ সালে প্রায় ৯ শতাংশ কমে পাসের হার দাঁড়ায় ৬৯ দশমিক ৬০ শতাংশে। ২০১৬ সালে পাসের হার ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৭৪ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ২০১৭ সালে বড় ধরনের ছন্দপতন ঘটে পাসের হারে। প্রায় ৬ শতাংশ কমে পাসের হার হয় ৬৮ দশমিক ৯১ শতাংশ।

গতকাল সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফলাফলে অনুলিপি তুলে দেয়ার পর দুপুরে সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সংবাদ সম্মেলনে ফলাফলে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে আমরা এবার ৬টি কৌশল নিয়েছি। কৌশলগুলো সফল হওয়ায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করা সম্ভব হয়েছে। নাহিদ বলেন, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, পরিশোধন, মুদ্রণ, প্যাকেটজাতকরণ, ট্রাঙ্কজাতকরণ ও কেন্দ্রে পাঠানোসহ প্রতিটি স্তরেই কঠোর নজরদারি, সতর্কতা এবং বেশ কিছু কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। ছয়টি কৌশল উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা কক্ষে আসনগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা, পরীক্ষার দিন ট্রেজারি থেকে প্রশ্নপত্রের সব সেট পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে আনা, ট্রেজারি থেকে পুলিশসহ তিনজন কর্মকর্তার মাধ্যমে কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র পৌঁছানো, পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে এসএমএসের মাধ্যমে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে সেট কোড পাঠানো, বিশেষ নিরাপত্তা খামে প্রশ্নপত্র সংরক্ষণ করা এবং পরীক্ষা চলাকালীন পুলিশসহ র?্যাব, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন অধিদপ্তর, সব বোর্ড, জেলা ও মাঠ প্রশাসনের ভিজিল্যান্স টিমের কঠোর নজরদারি ছিল।

ফলাফল হস্তান্তরের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, একটা বদনাম হতো প্রশ্নপত্র ফাঁস। প্রশ্নপত্র ফাঁস সমস্যাটা কিন্তু শুধু আমাদের দেশে না। অনেক উন্নত দেশেও এই সমস্যাটা দেখা যাচ্ছে কারণ ডিজিটাল হওয়াতে ডিজিটালের যেমন সুফল আছে, মাঝেমাঝে কিছু কুফলও এসে যায়। খুব তাড়াতাড়ি সেটা প্রচার হয়ে যায়। এবারে যে পদ্ধতিটা নেয়া হয়েছে, সেটা খুবই চমৎকার। আধা ঘণ্টা আগে পরীক্ষার্থীরা চলে যাবে পরীক্ষার হলে। ২৫ মিনিট আগে জানানো হবে, কয়েকটা সেটের প্রশ্নপত্র থাকে, কোন সেটটা দেয়া হবে। তার ফলে নকল বন্ধ হয়েছে। তিনি বলেন, একটা ছোট্ট অনুরোধ আমার থাকবে, সেটা হলো পরীক্ষার সময়টা। পরীক্ষার একটা দীর্ঘ সময়। সেটি একটু কমিয়ে আনা যায় কী না সেটি ভাববেন।

প্রকাশিত ফলাফলের তথ্যমতে, এবার ১০টি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে এবার ১২ লাখ ৮৮ হাজার ৭৫৭ জন অংশ নিয়ে পাস করেছে ৮ লাখ ৫৮ হাজার ৮০১ জন। ১০ বোর্ডে গড় পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। গত বছর ছিল ৬৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। গত বছরের চেয়ে তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ২ দশমিক ২৭ শতাংশ। এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৯ হাজার ২৬২ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৩৭ হাজার ৯৬৯ জন। গত বছরের চেয়ে জিপিএ-৫ কমেছে ৮ হাজার ৭০৭ জন। ৪০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। তবে গতবারের চেয়ে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করা ১৩২টি প্রতিষ্ঠান কমেছে। ৫৫টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করেছি। তবে গত বছরের চেয়ে এবার শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৭টি কমেছে। ৮টি সাধারণ শিক্ষাবোর্ডে এবার ১০ লাখ ৭২ হাজার ২৮ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এরমধ্যে ৬ লাখ ৯১ হাজার ৯৫৮ জন পাস করেছে। পাসের হার ৬৪ দশমিক ৫ শতাংশ। গত বছর পাসের হার ছিল ৬৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় ২ দশমিক ২৯ শতাংশ শিক্ষার্থী কম পাস করেছে।

প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, আট সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে বরিশাল বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৭০ দশমিক ৫৫ শতাংশ। সবচেয়ে কম পাস করেছে দিনাজপুর বোর্ডে। এ বোর্ডে পাসের হার  ৬০ দশমিক ৪০ শতাংশ। কুমিল্লা বোর্ডে গত বছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ৯০ শতাংশ বেশি পাস করেছে।  এবারো পাসের হার ৬০ দশমিক ২১ শতাংশ। ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৬৬ দশমিক ১৩ শতাংশ, রাজশাহী বোর্ডে ৬৬ দশমিক ৫১ শতাংশ, যশোর বোর্ডে ৬০ দশমিক ৪০ শতাংশ, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৬২ দশমিক ৭৩ শতাংশ,  সিলেট বোর্ডে ৬২ দশমিক ১১ শতাংশ। মাদরাসা বোর্ডে এবার ৯৭ হাজার ৭৯৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৭৬ হাজার ৯৩২ জন। এ বোর্ডে পাসের হার ৭৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ। অন্য নয়টি বোর্ডে পাসের হার কমলেও মাদরাসা বোর্ডে পাসের হার বেড়েছে এক দশমিক ৬৫ শতাংশ। তবে জিপিএ-৫ কমেছে। এ বছর মাদরাসা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ২৪৪ জন। গত বছর  এ সংখ্যা ছিল এক হাজার ৮১৫ জন। জিপিএ-৫ কমেছে ৫৭১ জন। কারিগরি বোর্ডে এক লাখ ১৮ হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৮৯ হাজার ৮৯ জন। পাসের হার ৭৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। গত বছর পাসের হার ছিল ৮১ দশমিক ৩৩ শতাংশ। পাসের হার কমেছে পাঁচ দশমিক ৮৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৪৫৬ জন। গত বছর দুই হাজার ৬৬৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিল। গত বছরের চেয়ে জিপিএ-৫ কমেছে ২১৩ জন। ঢাকা বোর্ডের অধীনে বিদেশের সাতটি কেন্দ্রে ২৮৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ২৬৩ জন। পাসের হার ৯২ দশমিক ২৮। ১৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

আটটি সাধারণ শিক্ষাবোর্ডে বিভাগ ভিত্তিক পাসের শীর্ষে রয়েছে বিজ্ঞান ও গার্হস্থ্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগে পাসের হার ৭৯ দশমিক ১৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২১ হাজার ১৭১ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৬৮ দশমিক ৫৫ ভাগ। এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৪৩৭ জন। মানবিক বিভাগে পাসের হার ৫৬ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৯৫৪ জন।

পাসের হারে মেয়েরা এগিয়ে থাকলেও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে ছেলেরা ছিল এগিয়ে রয়েছে। এ বছর ৬ লাখ ৮০ হাজার ৮৪৮ জন ছাত্র পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৪ লাখ ৩৪ হাজার ৯৫৮ জন। পাসের হার ৬৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫ হাজার ৫৮১ জন। অন্যদিকে ৬ লাখ ৭ হাজার ৯০৯ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৪ লাখ ২৩ হাজার ৮৪৩ জন। ছাত্রীদের পাসের হার ৬৯ শতাংশ ৬৪ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৬৮১ জন। ছাত্রদের তুলনায় ৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ ছাত্রী বেশি পাস করেছে। তবে ছাত্ররা জিপিএ-৫ বেশি পেয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী জানান, এ বছর ২৬টি বিষয়ে ৫০টি পত্রে সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতিতে পরীক্ষা হয়েছে। আগে প্রতিটি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস হলেও এবারের পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস তো দূরের কথা কোনো ধরনের গুজব পর্যন্ত উঠেনি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক মো. মাহাবুবুর রহমান, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হকসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ফল খারাপের নেপথ্যে: ফলাফল খারাপের কারণ হিসেবে বেশ কিছু কারণ চিহ্নিত করেছেন বোর্ড সংশ্লিষ্টরা। প্রথমত বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় ফল খারাপ করেছে। বিজ্ঞান বিভাগের মধ্যে পদার্থ বিজ্ঞানের প্রথম পত্রের ফলাফল ছিল খারাপ। শুধু বিজ্ঞানে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে এ বছর জিপিএ-৫ কমেছে ৭৭৩৬ জন। এটা সব বোর্ড ও সার্বিক ফল ও জিপিএ-৫ প্রভাব ফেলেছে। তবে সাধারণ ৮টি বোর্ডে ইংরেজি, বিজ্ঞান ও আইসিটি বিষয়ে পরীক্ষা কঠিন হওয়ার এ বিষয়গুলোতে খারাপ ফল হয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে সার্বিক ফলে। ফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শুধু কুমিল্লা বোর্ড ছাড়া সব বোর্ডের বিজ্ঞানের ফল খারাপ হয়েছে। এজন্য প্রশ্ন কঠিন হওয়াকে দায়ী করছে শিক্ষার্থী ও বোর্ডের কর্মকর্তারা। আর মানবিক বিভাগ থেকে অংশ নেয়া পৌনে ছয় লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র সোয়া তিন লাখ শিক্ষার্থী পাস করেছে। এ বিভাগের গড় পাসের হার মাত্র ৫৬ দশমিক ৪৬ শতাংশ। মানবিকের এসব শিক্ষার্থীরা বেশি খারাপ করেছে ইংরেজিতে। ইংরেজি বিষয়ে এইচএসসিতে এবার ২৬ শতাংশ শিক্ষার্থী ফেল করেছে। অন্যদিকে আইসিটির কারণেও বড় ধাক্কা লেগেছে ফলাফলে। কারিগরি পাসের হার কমে যাওয়ায় সার্বিক ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এর বাইরে সিলেট ও যশোর শিক্ষা বোর্ডের খারাপ ফল, ছেলেদের পাসের হার কম, এসএসসির মতো এইচএসসিতেও খাতা মূল্যায়নে নতুন পদ্ধতি প্রয়োগ, পরীক্ষার কক্ষে কড়াকড়ি আরোপ ও প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানো- এসব কারণে ফলাফল এবারো বিপর্যয় ঘটেছে। এ ব্যাপারে আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মু. জিয়াউল হক মানবজমিনকে বলেন, বিজ্ঞানের সব কয়টি বিষয়ে পরীক্ষা কঠিন হয়েছে। একই সঙ্গে আইসিটি পরীক্ষা তুলনামূলক কঠিন হয়েছে। তিনি বলেন, শুধু ঢাকা বোর্ডের বিজ্ঞানে জিপিএ-৫ কমেছে ৭৭৩৬ জন। এটা পুরো জিপিএ-৫ কমার অন্যতম কারণ। এছাড়া চলতি বছর পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় কঠিন, প্রশ্নফাঁসমুক্ত পরীক্ষা ও খাতা মূল্যায়নে শিথিলতা প্রতিহারও এবার ফলাফল খারাপ হওয়ার কারণ।

মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর এ.কে.এম ছায়েফ উল্যা মানবজমিনকে বলেন, এবার পরীক্ষায় পদ্ধতিতে কোনো ত্রুটি ছিল না। শতভাগ প্রশ্নফাঁসমুক্ত পরীক্ষা হয়েছে। পরীক্ষকদের খাতা দেখায় কোনো ধরনের গাফিলতি সহ্য করা হবে না বলে সতর্ক করে দেয়া হয়েছিল। সব মিলিয়ে কঠোর একটা ব্যবস্থাপনার মধ্যে পরীক্ষা হওয়ায় এর কিছু প্রভাব ফলাফলে এসে পড়েছে।  

বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকরা জানান, এবার পাসের হার কমার আরেকটি অন্যতম কারণ সিলেট ও যশোর উভয় শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার কমেছে প্রায় ১০ ভাগ কমে যাওয়া। একই সঙ্গে উভয় বোর্ডেই জিপিএ-৫ এর সংখ্যা কমেছে। রাজশাহী ও দিনাজপুর বোর্ডে গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে প্রায় ৫ শতাংশ। এ চারটি বোর্ডে পাসের হার কমার কারণে সার্বিক ফলাফলে কমেছে।

ফল পুনঃনিরীক্ষা: রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক থেকে আজ থেকে ২৬শে জুলাই পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করা যাবে। ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে জঝঈ লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে বিষয় কোড লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফি বাবদ কত টাকা কেটে নেয়া হবে তা জানিয়ে একটি পিন নম্বর (পার্সোনাল আইডেন্টিফিকেশন নম্বর-চওঘ) দেয়া হবে। আবেদনে সম্মত থাকলে জঝঈ লিখে স্পেস দিয়ে ণঊঝ লিখে স্পেস দিয়ে পিন নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে যোগাযোগের জন্য একটি মোবাইল নম্বর লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। প্রতিটি বিষয় ও প্রতি পত্রের জন্য দেড়শ’ টাকা হারে চার্জ কাটা হবে। যে সব বিষয়ের দুটি পত্র (প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র) রয়েছে যে সকল বিষয়ের ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করলে দুটি পত্রের জন্য মোট ৩০০ টাকা ফি কাটা হবে। একই এসএমএসে একাধিক বিষয়ের আবেদন করা যাবে, এক্ষেত্রে বিষয় কোড পর্যায়ক্রমে ‘কমা’ দিয়ে লিখতে হবে।
 



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

kazi

২০১৮-০৭-১৯ ২১:২৬:১১

উল্লাস কান্নায় পরিণত হবে চাকরির বেলায়। ভালমন্দ ফলাফলে কি পার্থক্য যদি চাকরি সীমাবদ্ধ থাকে বিশেষ সুবিধাভোগীদের জন্য কোটার মাধ্যমে। স্কুল কলেজগুলি জনগণের পকেট কাটছে শিক্ষিত বেকার বৃদ্ধির জন্য। এরা হয়ে যাবে পরিবার ও সমাজের জন্য অভিশাপ । হতাশায় ভোগে হয়ত হবে মাদকসেবী অথবা মাদক ব্যবসায়ী ।

বাহাউদ্দিন বাবলু

২০১৮-০৭-১৯ ১৮:০৮:১১

সিলেট বোর্ডের পরীক্ষার হল যদি কড়াকড়ি করা হয় তাহলে পাশের হার ৩০ থেকে ৪০ ভাগের মর্ধ্যে আসবে।কারণ আমরা পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালন করতে যায়ে অনেক ধরণের ঝুকির মর্ধ্যে পড়তে হয়।

আপনার মতামত দিন

ইন্টারপোলের সাবেক প্রধানের স্ত্রী আশ্রয় চেয়েছেন ফ্রান্সে

সাভারে চলন্ত বাসে ছিনতাইয়ে হেলপার

১৪ দলের শরিকরা বিরোধীদলে এলে সংসদ আরও প্রাণবন্ত হবে: রাঙ্গা

নারায়ণগঞ্জে ১৮ জনকে কুপিয়ে জখম

দ্রুত ধনী মানুষ বাড়ার দিক দিয়ে বাংলাদেশ তৃতীয়

‘চোর মেশিন’ ইভিএম বন্ধ করার দাবি

নিশানের সাবেক প্রধানের বিরুদ্ধে ৯০ লাখ ডলার হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

নিয়মিত মেডিকেল চেক-আপে কাল সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন এরশাদ

নৈতিক পরাজয় ঢাকতে আওয়ামী লীগের বিজয় উৎসব : ফখরুল

৫ দিনেও সন্ধান মেলেনি নিখোঁজ ২০ শ্রমিকের

প্রথম মা হচ্ছেন লুসি, সন্তানের পিতার পরিচয় গোপন রাখবেন

রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনে মিয়ানমার অত্যন্ত ধীর গতিতে

‘ইসরাইলিদের মালয়েশিয়ায় আসা উচিত নয়’

অবশ্যই নির্বাচন ‘পারফেক্ট’ ছিল না- জাতিসংঘ

‘বেস্ট সেলিং ব্রান্ড’ হলো আতঙ্ক- জাতিসংঘ মহাসচিব

১৮ ঘণ্টা পর খুলনার সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক