গাজীপুরে স্ত্রী-কন্যাকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যা

শেষের পাতা

ইকবাল আহমদ সরকার, গাজীপুর থেকে | ২০ জুলাই ২০১৮, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৪৭
গাজীপুরে মেডিকেল কলেজছাত্রী মেয়ে ও তার মায়ের গলাকাটা মরদেহ ও ছাত্রীর বাবার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের তিনজনের মৃত্যু নিয়ে এলাকায় রহস্য ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী ও নিহতদের স্বজনদের ধারণা, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পুলিশ বলছে, তদন্ত না করে এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ধারণা দেয়া যাচ্ছে না। নিহতরা হলেন, সিটি করপোরেশনের হায়দারাবাদ   এলাকার আবুল হাশেমের ছেলে কামাল হোসেন (৪০), তার স্ত্রী নাজমা বেগম (৩৫) ও তাদের একমাত্র মেয়ে উত্তরা বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজের ১ম বর্ষের ছাত্রী সানজিদা কামাল ওরফে রিমি (১৮)। পুলিশ তাদের মরদেহ উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। একই পরিবারের তিনজন সদস্য নিহত হওয়ার পর ওই পরিবারের আর কোনো সদস্য বাকি রইলো না।

নগরের পুবাইল পুলিশ ফাঁড়ির এস আই শফিকুল আলম জানান, হায়দরাবাদে তিনজনের নিহতের খবর পেয়ে তারা দুপুর দুটার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনটি মরদেহ সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির পর উদ্ধার করে অধিকতর তদন্তে নিহতের বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে জানান উদ্ধারকারী পুলিশ কর্মকর্তা। মা-মেয়ের ঘটনা হত্যাজনিত হলেও কামাল হোসেনের মৃত্যু আত্মহত্যাজনিত নাকি হত্যাজনিত তা তদন্ত ছাড়া বলা যাচ্ছে না।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হায়দরাবাদ এলাকায় কামাল হোসেনের ভাইয়ের স্ত্রী মাহমুদা বেগম তার মেয়েকে স্কুলে দিয়ে ফিরছিলেন।
এসময় তিনি দেখতে পান কামাল হোসেনের বাড়ির বাইরের লাইট জ্বলছিলো। এত বেলায় কেন লাইট জ্বলছে, সেটি দেখার জন্য তিনি তার ঘরের দিকে এগিয়ে দরজার ফাঁক দিয়ে ঘরের বারান্দার আড়ার সঙ্গে কামালের ঝুলন্ত লাশ দেখে চিৎকার দেন। এসময় তার অন্য স্বজনরা এগিয়ে আসেন এবং বারান্দার গ্রিলের লক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এসময় ঘরের মেঝেতে মা নাজমা বেগম ও মেয়ে সানজিদার গলাকাটা রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান।

মেয়ের পেটসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে রক্তাক্ত জখম রয়েছে। এলাকাবাসী ও স্বজনদের দাবি এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। নিহত কামালের ভাই দেলোয়ার হোসেন ও তাদের বোন মনে করছেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। কামাল হোসেন তার একমাত্র মেয়েকে এমন নির্মমভাবে হত্যা করেছে, এমনটা মানতেও নারাজ। তারা সবাই তদন্ত করে এর প্রকৃত ঘটনা উন্মোচনের দাবি জানান। তবে ওই এলাকার একাধিক লোকজন জানান, নিহত কামাল হোসেন মাদকাসক্ত ছিলেন। স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করতে পারেন বলে কেউ কেউ ধারণা করছেন। কিন্তু এমনটা নিহতদের স্বজনরা মানতে নারাজ। জমি বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত কামালের পরিবারের সবাই এক সঙ্গে নিহত হওয়ার খবরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলে আত্মীয়স্বজন ছাড়াও আশেপাশের এলাকা থেকে উৎসুক জনতা ছুটে আসেন ওই বাড়িতে। একই সঙ্গে বাড়ির তিন সদস্যের নিহতের পর টিনশেডের বিল্ডিং বাড়িটি এখন খালি হয়ে গেল।

এ ব্যাপারে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে স্বামী কামাল তার স্ত্রী ও মেয়েকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেছে। তবে বিষয়টির সঙ্গে অন্য কোনো ঘটনা আছে কি-না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

মসজিদ-উল নববীর ইমাম কারাগারে ‘মারা গেছেন’

জনগণের আস্থার মর্যাদা সমুন্নত রাখতে হবে

ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদে ভোট ২৮শে ফেব্রুয়ারি

এমন মৃত্যু আর কত?

এক কিংবদন্তির প্রস্থান

ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে বিএনপির ১০ কমিটি

স্পাইসগার্ল টি-শার্ট এবং বাংলাদেশের গার্মেন্ট খাত

ইভিএমের কারচুপি জেনে ফেলায় খুন হন বিজেপি নেতা!

মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহালের দাবিতে শাহবাগে ফের অবরোধ

ইজতেমা নিয়ে আদালতে আসা লজ্জাকর

তিনি সজ্জন, ভালো মানুষ

দেশে গণতন্ত্র ও উন্নয়ন একসঙ্গে এগিয়ে যাবে- প্রধানমন্ত্রী

সংরক্ষিত আসনে এমপি হতে চান ব্যারিস্টার মৌসুমী কবিতা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আফজালের সব সম্পদ জব্দের নির্দেশ

মির্জাপুরে বিএনপির ৪০ নেতাকর্মী কারাগারে

মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সুবিধা আরো বাড়লো